হালাল পণ্যের চাহিদা বাড়ছে

আপডেট: অক্টোবর ২৮, ২০১৯, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


হালাল পণ্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিসমৃদ্ধ হওয়ায় অমুসলিম দেশসগুলোতেও এর চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোহাম্মদ আল-মুহাইরি।
শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটোয়িামে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘নিরাপদ ও হালাল খাদ্য নিশ্চিতকরণ : বর্তমান প্রেক্ষিত ও করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।
মোহাম্মদ আল-মুহাইরি বলেন, ‘সারা পৃথিবীতে হালাল খাদ্যের ব্যবহার প্রতিবছর প্রায় ৮.১৪ শতাংশ হারে বাড়ছে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে হালাল পণ্যের বাজার আরো ৬.১ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। খুব শিগগিরই বাংলাদেশ আরব আমিরাতের বাজারে হালাল পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হবে বলে আশা করছি।’
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহান বলেন, ‘মুসলিম খাদ্য পণ্য ও পানীয় গ্রহণের দিক থেকে বাংলাদেশ সারা পৃথিবীতে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির বিষয়টিতে জনগণের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। যদিও বাংলাদেশের মতো অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশসমূহে নিরাপদ খাদ্যনিশ্চিতকর বিষয়টি বরাবরই উপক্ষিত।’
সরকার জনগণের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতরণের জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে এবং নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ নামে একটি আইন প্রণয়ন করেছে। বাংলাদেশ যদি মাংস উৎপাদনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে পারে, তাহলে মুসলিম অধ্যুষিত দেশসমূহের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশসমূহে এর রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম মোহাম্মদ আফজাল হালাল সনদ প্রদান প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য বিএসটিআই এর নেতৃত্বে একটি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করার প্রস্তাব করেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, ‘২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য উৎপাদান খাত হতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং রপ্তানিমুখী পণ্যের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য আমাদের পণ্য উৎপাদন হতে বিপণন ও ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানো পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’
তিনি জানান, অবকাঠামো খাতের দূর্বলতা, প্রদত্ত সনদের আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতির অভাবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের উৎপাদিত হালাল পণ্য রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছে। ২০১৭ সালে বিশ্বের মুসলমান দেশসমূহ খাদ্য ও পানীয় খাতে প্রায় ১.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করেছে। পরিসংখ্যানে আরো দেখা যায় ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং থাইল্যান্ডের মত দেশসমূহ হালাল পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে রয়েছে।
এ সময় তিনি বাংলাদেশের হালাল পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধিতে বিশেষকরে পণ্য রপ্তানিতে বৈশ্বিক ভ্যালু চেইন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার আহ্বান জানান। এ ছাড়া হালাল পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধিতে বেসরকারী খাতের গবেষণা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হালাল সনদ প্রদানে প্রতিষ্ঠান স্থাপন, অবকাঠমোগত উন্নয়ন এবং হালাল পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে জমি বরাদ্দ প্রদানে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আরএসিএস এর কনফরমিটি ডিরেক্টর ড. সামিয়া আবদেল লতিফ এবং মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলোজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সাইন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে ওবিদুল হক।
ড. এ কে ওবিদুল হক বলেন, ‘অনিরাপদ খাদ্য আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য যেমনি ক্ষতিকারক তেমনি আমাদের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটনের জন্য সুখকর নয়। বাংলাদেশে হালাল সার্টিফিকেট প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ স্থাপন করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হালাল সনদ প্রাপ্তির জন্য যথাযথ অবকাঠামো ও দক্ষ জনবলের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশে এ ধরনের ল্যাবরেটরি স্থাপনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি বাংলাদেশকে ইন্টারন্যাশনাল হালাল অ্যাসোসিয়েশন ফোরাম (আইএইচএএফ) এর সক্রিয় সদস্য হওয়ারও আহ্বান জানান।