বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

হাসপাতালের বারান্দায় সন্তান প্রসব দোষিদের শাস্তি হবে কি?

আপডেট: December 11, 2019, 1:14 am

সিরাজগঞ্জে আবারো হাসপাতালের বারান্দার সিঁড়ির মেঝেতে প্রসুতি মা তার সন্তান প্রসব করেছে। গত রোববার রাত ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। তবে এমন ঘটনার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রোগীর স্বজনরা। এ সংক্রান্ত একট প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ওই ঘটনা শুধু দুঃখজনকই নয়- এটি অমানবিক নৃশংস একটি ঘটনা। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সরকারি হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্মম আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা কতটা দায়িত্বহীন হলে পরে ওই ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটতে পারে!
ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামের শাহীন আলমের সন্তান সম্ভবা স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে (২৫) রোববার সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে সিট নেই এমন কথা বলে তাকে সারাদিন মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। প্রসূতির অবস্থা সংকটাপণ্ন হলেও কোনো নার্স-চিকিৎসক তার কোনো খোঁজ নেননি। রোগীর স্বজনরা বিষয়টি একাধিকবার জরুরি বিভাগে অবগত করলেও কেহই কর্ণপাত করেনি। এ ধরনের অভিযোগ নতুন কিছু নয়Ñ এটা প্রায় সব সরকারি হাসপাতালে কমবেশি হয়ে থাকে। কিন্তু ঘটনার নির্মমতা প্রকট হয়েছে পরের ধাপে।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রোববার সন্ধ্যার দিকে রোগীকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নীরিক্ষা করার পর সিজার করতে হবে বলে জানান ডা. আফরোজা খাতুন। রোগীর স্বজনরা রক্ত সংগ্রহসহ বিভিন্ন সিজারিয়ান ওষুধপত্র কিনে দেয়ার পর তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ১ ঘণ্টা অতিবাহিত হবার পর রোগীর অবস্থা ভালো না এবং সিজার করা সম্ভব না এমন কথা বলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেন গাইনি চিকিৎসক ডা. আফরোজা খাতুন। এর কয়েক মিনিট পরেই নার্সরা রোগীর কাপড়-চোপড়সহ তাকে দ্রুত বগুড়া নিয়ে যাওয়ার তাগিদ দিয়ে বের করে দেন।
এ সময় প্রসূতির দরিদ্র স্বামী শাহীন আলম হাসপাতাল এলাকায় সিএনজি/অ্যাম্বুলেন্স খোঁজ করতে গেলে প্রসূতিকে নিচে নামিয়ে আনার পর সিঁড়ির মেঝেতেই শুয়ে পড়েন প্রসূতি মরিয়ম। এসময় ওখানেই তিনি একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। অর্থাৎ স্বাভাবিক ডেলেভারি। তা হলে চিকিৎসকের এর আগের সিদ্ধান্তগুলোর কী হবে? ওই সময় প্রসূতির স্বজনরা চিৎকার করলেও কোনো চিকিৎসককে খুঁজে পাননি বলে জানান ভুক্তভোগিরা। একজন চিকিৎসক কতটা অমানবিক হলে এই আচরণ করতে পারেন? হাসপাতালের আর সংশ্লিষ্টরা ওই প্রসূতির প্রতি সদয় আচরণ করেন নি। সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবায় দরিদ্ররা কত অবহেলিত ও বঞ্চিত এই ঘটনা তারই সাক্ষ্য দেয়। আবাসিক মেডিকেল অফিসারও এ ব্যাপারে অবান্তর বক্তব্য দিয়েছেন এবং তার দায়িত্ব এড়িয়ে গেছেন এবং সহকর্মিকে রক্ষার চেষ্টা করেছেন। চিকিৎসা করাটা ‘মনে হওয়ার’ বিষয় নয়Ñ এটা বিজ্ঞান। চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষাতেই চিকিৎসা হয়।
জেলা প্রশাসক ঘটনার তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষিদের শাস্তির ব্যবস্থা হবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ