হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশে বাধা দালালদের, পরিচালক চান সার্বক্ষণিক অভিযান

আপডেট: মে ৬, ২০২১, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

তারেক মাহমুদ:


বেপরোয়া রোগীধরা দালালচক্র। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বর্হিবিভাগ ও জরুরি বিভাগের গেটের বাইরে থেকে তারা রোগিদের ধরে নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের নিয়ে যাচ্ছে।
রামেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, দালাল চক্র রোগিদের জানাচ্ছে, করোনার জন্য লকডাউনে হাসপাতাল বন্ধ। ডাক্তার নেই ! ওষুধ দেয়া হচ্ছে না। বাইরে সেবা নিতে হবে। আর এসব কাজে সমন্বয় করে থাকছে দালালদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দানকারী বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের মালিক, কর্মচারী ও কতিপয় চিকিৎসকগণ। অনেক রোগী হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে তাদের বাঁধা দিচ্ছে দালালরা। এতে নষ্ট হচ্ছে হাসপাতালের পরিবেশ। ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়ছে সেবা নিতে আসা রোগী-স্বজনরা।
এদিকে গত কয়েক মাস থেকেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য সীমা ছাড়ালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ বিভাগ শুদ্ধি অভিযান শুরু করেন। নিয়মিত অভিযানে বেশ কিছু দালাল গ্রেফতার হচ্ছে। এরপরই দালালরা তাদের কৌশল পরিবর্তন করেছে। টিকিট কেটে রোগী সেজে হাসপাতালে প্রবেশ করাচ্ছে। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তৎপর হওয়ায় তারা বেশিক্ষণ হাসপাতালে থাকতে পারছে না। গেটের বাইরে থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, আগের চেয়ে সমস্যা কিছুটা কমেছে। তবে দালালরা কৌশল পরিবর্তন করেছে। তাদের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে জানালে ও পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে তবেই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তাই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকলকে এক হয়ে এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে তারা। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যারা জানাচ্ছে, অভিযোগ দিলেই তারা ব্যবস্থা নিবে। তবে তাদের পক্ষ থেকে নজরদারি রয়েছে।
রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম সোনার দেশকে জানান, হাসপাতালের পরিবেশ ঠিক রাখতে দালাল নির্মূলে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। আগের চেয়ে দালালদের উৎপাত অনেক কমেছে। আমরা অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নিতে পারবো। গত মাস থেকে কোনো২ অভিযোগ নেই! তবে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি রেখেছি।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজউদ্দিন জানান, হাসপাতাল দালালমুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কাজ করছি। তবে হাসপাতালের বাইরে দালালরা তাদের কার্যক্রম করছে। এই বিষয়ে আমি আমাদের আগামী মিটিং এ সবার সাথে কথা বলতে এই সমস্যার সমাধান চাই। আর প্রশাসন ও আইশৃঙ্খলা বাহিনী যদি আমাদের সার্বক্ষণিক অভিযান করে সহযোগিতা করে তবে আমরা এই সমস্যার সমাধন করতে পারবো।