হাসপাতালের মাছ চুরি, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়া

আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০১৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ


গোদাগাড়ী প্রতিনিধি
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা (প্রেমতলী) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুকুর থেকে মাছ চুরি করতে গিয়ে ছাত্রলীগের দুই নেতাকর্মীকে আটক করেছে এলাকাবাসী। গত সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি তুষার সরকার (২৮) ও স্থানীয় ছাত্রলীগকর্মী শুভকে (২৪) আটক করা হয়। পার্শ্ববর্তী কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের মৃত ওবায়দুল সরকারের ছেলে তুষার এবং একই এলাকার মৃত সাবিয়ার রহমানের ছেলে শুভ।
হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। মাছ চুরি করতে নিয়ে যাওয়া তাদের একটি মোটরসাইকেল, একটি ভটভটি টেম্পু, একটি ট্রলি, একটি জাল, কিছু পোশাক এবং স্যান্ডেলজব্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেগুলো পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছেন। মোটরসাইকেলটি শুভর বলে জানা গেছে। আর বাকি সবকিছু ভাড়া করা বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে একটি বড় পুকুর রয়েছে। ওই পুকুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মাছ চাষ করেছে। সোমবার দিবাগত রাতে ছাত্রলীগ নেতা তুষার সরকারের নেতৃত্বে ৮-১০ কর্মী পুকুরটিতে জাল ফেলে মাছ ধরতে শুরু করেন। এসময় হাসপাতালের নৈশ্যপ্রহরী বাধা দিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে লাঞ্ছিত করেন। এক পর্যায়ে তাদের মাঝে গন্ডগোলের শব্দ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে যান। তারা মাছ চুরির বিষয়টি বুঝতে পেরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আটকানোর চেষ্টা করেন। এসময় শুধু তুষার ও শুভ ছাড়া বাকি সবাই হাসপাতালের প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। আর তুষার সরকার ও শুভ সেখানে থাকা তাদের মোটরসাইকেল, টেম্পু, ট্রলি ও জাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে স্থানীয়রা বাধা দিলে তাদের মধ্যে বাকবিত-া শুরু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলম মঙ্গলবার বিকেলে জানান, রাত ৩টার দিকে হাসপাতালের নৈশ্যপ্রহরী ফোন করে তাকে মাছ চুরির চেষ্টার বিষয়টি জানান। তিনি তখন আলামত হিসেবে সবকিছু জব্দ করে রাখার নির্দেশ দেন। পরে বিকেলে পুলিশ ডেকে সেগুলো তাদেরকে বুঝিয়ে দেন। এ বিষয়ে হাসপাতালের পক্ষ থেকে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
গোদাগাড়ীর প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) পার্থ প্রতীম জানান, রাতেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে কাউকে আটক করা যায় নি। বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জব্দ করা মোটরসাইকেল, টেম্পু, ট্রলি ও জাল পুলিশের জিম্মায় দিয়েছে। তবে বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় তারা কোনো লিখিত অভিযোগ পান নি।
এদিকে মাছ চুরির চেষ্টার অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মঙ্গলবার সকালে ছাত্রলীগ নেতা তুষার সরকারের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে ফোন করলে তিনি তুষার সরকার নন বলে দাবি করেন। আর যোগাযোগের চেষ্টা করেও ছাত্রলীগকর্মী শুভর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয় নি।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরব আলী বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তুষার সরকার জেলার নেতা। তাই এ বিষয়টি তিনি ‘দেখছেন না’। আর ছাত্রলীগের কোথাও শুভর কোনো পদ নেই। তিনি নেতাদের সঙ্গে ঘুরে নিজেকেও ছাত্রলীগ নেতা বলে পরিচয় দেন। তবে তিনি বিবাহিত। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেরাজ সরকার স্বীকার করেন তুষার সরকার তার কমিটির সহসভাপতি। তবে তুষার মাছ চুরি করতে গিয়ে ধাওয়া খেয়েছেন কী না তা তার জানা নেই। তার বিরুদ্ধে এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ