হাসপাতালে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা দায়িত্বশীলতা কেন প্রত্যাশিত নয়!

আপডেট: জুন ২৯, ২০২২, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী-ধরা দালাল ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্যের খবর প্রায়ই সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়। অমানবিক এই দৌরাত্ম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বন্ধ করতে পারেন নি। প্রচেষ্টা ছিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার; কখনো নিয়ন্ত্রিত হয়েছে কিন্তু সেটা কিছু সময়ের জন্য।
দৌরাত্ম্য তো এমনই প্রদর্শন করা যায় না, যদি না এর গোড়ায় প্রভাবশালীরা পানি ঢালেন। এই প্রভখাবশালীরা অজানা কেউ নন কিন্তু তাদেরকে নাড়াটা খুব সহজ কাজ নয়। এবং এই প্রভাবশালীদের সত্যিকার অর্থে নাড়াও যায় নি। ওরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায় এবং দালাল ও ওষুধ কম্পানির প্রতিনিধিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন। স্বাভাবিকভাবে আরো কিছু স্বার্থন্বেষী মানুষের সম্পৃক্ততাও আছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মাঝেমধ্যেই অ্যাকশনে যান; তখন পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়। এবং এই উন্নতির ধারাটি বেশ সময় ধরে চলে আসছে। তবে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি শুধু দালাল ও ওষুধ কম্পানির প্রতিনিধিদের ওপর। যদিও এটি অনেকটাই সহজ। বিন্তু নেপথ্যের কুশিলবদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না।
কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের স্বাচ্ছন্দ্যময় চিকিৎসা পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দালাল ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণে এবার একটু কঠোর হয়েছেন। একাধিক অভিযানের পরে কমেছে দালালের উপদ্রব। কিন্তু লাগামহীন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ডাক্তারের চেম্বার ও বহির্বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়ে রোগিদের ব্যবস্থাপত্রের ছবি তোলার হিড়িক চোখে পড়ার মতো। এরফলে রোগী ও তাদের স্বজনরা হয়রানির মুখে পড়েন, তারা বেশ বিব্রত হন। রোগীর স্বার্থ ব্যতিত রোগীর পথরোধ করাটাও অমানবিক বটে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী রোববার (২৬ জুন) নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হাসপাতালে প্রবেশের অপরাধে ওষুধ কোম্পানির দুই প্রতিনিধিকে বেঁধে রাখে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা। যদিও পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। নিঃসন্দেহে বেধে রাখার মত কাজটি অবশ্যই গর্হিত। এটিও হাসপাতালের সুষ্ঠু ব্যবস্থপনা ও শৃঙ্খলার পরিপন্থি কাজ। অতি উৎসাহী হয়ে আনসার সদস্যরা যা করেছেন তার জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হাসপাতালে প্রবেশের অপরাধ লঘু হয়ে যায়। সেটাও কর্তৃপক্ষকে তোয়াক্কা না করাই। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকালে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
উল্লিখিত ঘটনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং ওষুধ কম্পানির প্রতিনিধিদের সতর্কমূলক বার্তা দিচ্ছে। আর সেটা হল নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সীমার মধ্যে থাকা। এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা কারোরই কাম্য নয়। উভয় পক্ষের কাছে খুবই প্রত্যাশিত হাসপাতালে চিকিৎসা পরিবেশের সুরক্ষা প্রদান করা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ