হাসপাতালে অপ্রীতিকর ঘটনা ।। সহিষ্ণু সংস্কৃতি দুর্বল হচ্ছে ?

আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০১৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

সমাজে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে ? সহিষ্ণুতার সংস্কৃতি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে যেন। এটা কি বৈষম্য বৃদ্ধির ফল নাকি অন্য কিছু? নিজেকে ‘শ্রেষ্ঠ’ ভাবার মধ্য দিয়ে সমাজে অসহিষ্ণুতার দুর্বিনীত আচরণ লক্ষনীয়। এমন ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের শপথের জায়গাটি আর থাকে না। ফলে মানুষ পীড়িত হয়, নির্যাতিত ও বঞ্চিত হয়। দুনীতি রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলতে চায়। একটি স্বাধীন দেশের সমাজচিত্র এমনটি কারুরই কাম্য নয়।
যারা সমাজের অগ্রসর মানুষ, শিক্ষা-দীক্ষায় ও সামাজিক মর্যাদায় এগিয়ে আছে তারাই তো হবেন সহিষ্ণু সংস্কৃতির নিয়ামক শক্তি। তারাই সমাজ ও রাষ্ট্রকে পরিচালনা করেন, নেতৃত্ব দেন নানা স্তর থেকে। তাঁদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা প্রদর্শিত না হলে নেতৃত্ব কাঠামোকে দুর্বল করে দেয়।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক ধরনের নৈরাজ্য আমাদের সকলেরই জানা। স্বাস্থ্যসেবা নেয়া বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের জন্য শুধু বঞ্চনার নয়- লাঞ্ছনারও। সরকারি হাসপাতালগুলোতে অসহিষ্ণুতার বিষয়টির নিরসন হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে রোগির অভিভাবক যেমন তেমনি চিকিৎসক ও কর্মচারীরাও প্রায়ই অসহিষ্ণুতা দেখিয়ে থাকে। এর ফলে ঘটে যায় নানা অপ্রীতিকর ঘটনাÑ যা সাধারণ মানুষের জন্য কখনো কখনো দুর্বিসহ হয়ে উঠে। এ নিয়ে অনেক বাদ-বিসম্বাদ হয়, মারামারি হয়, অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ হয়, মামলা মোকাদ্দমা হয়, তদন্ত কমিটি হয়- কিন্তু ওই পর্যন্তই । বিষয়টির সম্মানজনক সুরাহা হয় না। ফলে ঘটনাও ঘটতে থাকে এবং তা সমাজে উদ্বেগ- উৎকণ্ঠা ছড়ায়।
দৈনিক সোনার দেশে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্নি ডাক্তারদের সঙ্গে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে পাঁচটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় রোগির স্বজনদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারের দাবিসহ রোগিদের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করা হয়। এ ঘটনাগুলো ঘটেছে হাসপাতালের দুই, পাঁচ, আট ও তের ও ষোল নম্বর ওয়ার্ডে।
গত রোববার দুপুর দেড়টার দিকে রামেক হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় পবা উপজেলার মদনহাট এলাকার মহসিন (৪৭) নামের এক রোগি। মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার একদির পর অর্থাৎ মঙ্গলবার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে আবারো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে অ্যাটেনডেন্টস ও ইন্টার্নিদের মধ্যে। ইন্টার্নরা দুই ছাত্রকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। নাটোরের ওই দুই ছাত্র তাদের রোগির চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ তুললে ওই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
এ ধরনের ক্রমবৃদ্ধি অসহিষ্ণুতা পরস্পরের সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। রোগি এবং চিকিৎসকের মধ্যে আস্থার সঙ্কট তৈরি করছে। এসব মারমুখি আচরণ তারই সাক্ষ্য দেয়। নিজ নিজ দায়িত্বের  ব্যাপারে সচেতন থাকলেই এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়। আগ্রাসী মনোভাব থাকলে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা কঠিনই বটে। আমাদের শিক্ষার মধ্যেই খুঁজতে হবে সহিষ্ণুতার সংস্কৃতি। আর দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাদের পেশাদারিত ভুলে যান, শপথের কথা ভুলে যানÑ যার পরিণতিতে অনেক ছোট-বড় বিড়ম্বনার জন্ম দেয়। এর ফল ভোগ করে সাধারণ নিরীহ মানুষ। এটা কতটা কাতর স্বরে বললে অনাকক্সিক্ষত পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে?

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ