হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার

আপডেট: নভেম্বর ১৩, ২০১৯, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার আটলান্টার একটি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয় বলে কার্টার সেন্টারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। তার বয়স বর্তমানে ৯৫ বছর। জর্জিয়ায় নিজ বাড়িতে হঠাৎ পড়ে যাওয়ায় তার পেলভিক ফ্রাকচার ধরা পড়লে এমোরি বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানে তিন সপ্তাহ চিকিৎসা নেয়ার পর সম্প্রতি জর্জিয়ার প্লেইনসে বাসায় ফিরেছিলেন তিনি।
অক্টোবরের আগে তিনি আরও একবার পড়ে গিয়েছিলেন। সেসময় তার মুখে সেলাইয়ের প্রয়োজন হয়েছিল। গত মে মাসেও তিনি মাটিতে পড়ে যান; সেসময় তার নিতম্বের হাড় ভেঙে যায়। এজন্য অপারেশনের টেবিলেও যেতে হয় তাকে।
২০১৭ সালে পানি শূন্যতার কারণে তাকে একবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার আগে ২০১৫ সালে স্কিন ক্যান্সারের চিকিৎসা নেন তিনি। তবে সর্বশেষ সোমবার হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
কার্টার সেন্টার বলছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। মঙ্গলবার সকালের দিকে তার মস্তিষ্কের অপারেশন করা হতে পারে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে ৯২ বছর বয়সী স্ত্রী রোসালিনের সঙ্গে অবসর সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি।
জিমি কার্টার বাদাম চাষী হিসেবে তার প্রথম কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে জর্জিয়ার গভর্নর হন। ১৯৭৬ সালে রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। হোয়াইট হাউসে চার ব্ছরের জন্য যান তিনি।
জিমি কার্টারের শাসনামলে মার্কিন অর্থনীতিতে মন্দা নেমে আসে, দেখা দেয় জ্বালানি সংকট। তবে ইসরায়েল-মিসরের শান্তি চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
১৯৮০ সালে আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে লড়াই করেন তিনি। কিন্তু এবার রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রোনাল্ড রিগানের কাছে হেরে যান তিনি। হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর ১৯৮১ সালে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেন জিমি কার্টার।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুরোনো সংঘাতের অবসান, গণতন্ত্র, মানবাধিকারের লড়াই, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখায় ২০০২ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স,জাগোনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ