হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিকে শাস্তি, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

আপডেট: জুন ২৮, ২০২২, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় রোগি দুর্ভোগের অন্যতম কারণ দালাল ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য। যা নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। এরইপ্রেক্ষিতে হাসপাতালের স্বাচ্ছন্দ্যময় চিকিৎসা পরিবেশ ফিরেয়ে আনতে দালাল ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণে কঠোর হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

একাধিক অভিযানের পরে কমেছে দালালের উপদ্রব। কিন্তু লাগামহীন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ডাক্তারের চেম্বার ও বর্হি:বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়ে রোগীদের ব্যবস্থাপত্রের ছবি তোলার হিড়িক চোখে পড়ার মতো। রোববার (২৬ জুন) নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হাসপাতালে প্রবেশের অপরাধে দুইজন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিকে বেঁধে রাখে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

এদিকে, হাসপাতালের আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। সোমবার সকাল ১০টার দিকে রামেক হাসপাতালের বহি:বিভাগের সামনে প্রতিবাদ মানববন্ধন করে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার হুশিয়ারি দেয়।

রাজশাহী মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ ও বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশন (ফারিয়া) রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটির ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে রিপ্রেজেন্টেটিভরা অভিযোগ করেন, তাদের অমানবিক ও মধ্যযুগীয় বর্বরতায় মিথ্যা অভিযোগ তুলে আনসার সদস্যরা কোমরে রশি বেঁধে দাঁড় করিয়ে রাখে। যা অত্যন্ত মানহানিকর ও লজ্জাজনক। আমারও দেশ সেবায়, ডাক্তার, নার্স ও রোগীদের নিয়ে দিনরাত কাজ করে চলেছি। তারা যদি হাসপাতলে প্রবেশ করতে পারে তাহলে আমরা কেনো পারবো না?

এমন হেনস্তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বলেন, এরপর থেকে যদি আসনার সদস্যরা হাসপাতলে ঢুকতে না দেয়। অপমান করেন তাহলে আর বসে থাকবেন না। তীব্র প্রতিবাদ করে তাদের হাতের লাঠি ভেঙ্গে দিবেন। কোন অন্যায় সহ্য করবেন না।

ভুক্তভোগি একমি ফার্সাসিউটিক্যালের রিপ্রেজেন্টেটিভ আল-আমিন বলেন, প্রতিদিনের কাজের মতই আমরা হাসপাতালের সামনে অবস্থান করছিলাম। এক পর্যায়ে আনসার বাহিনীর সদস্যরা আমাদের রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যায়।

এমন নির্যাতন জাহেলিয়া যুগের বর্বরতাকেও হার মানায়। আমরা এর প্রতিবাদ জানায়। বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের (ফারিয়া) সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের রিপ্রেজেন্টেটিভদের রামেক হাসাপাতালের আনসার রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা রিপ্রেজেন্টেটিভদের কাছে ক্ষমা না চাইবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। প্রয়োজনে কর্মবিরতি করে ওষধ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হবে।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে আন্দোলনরত রিপ্রেজেন্টেটিভরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে হাসপাতালের মেইন গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। এ সময় গেটে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা তাদের বাঁধা দেয়। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে রিপ্রেজেন্টেটিভরা হাসপাতালের গেট থেকে বের হয়ে যায়।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, দালাল ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্মের কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা পরিবেশ নষ্ট হয়। একারণে তারা এই বিষয়ে সোচ্চার রয়েছেন। এরইমধ্যে দালালের উপদ্রব কমেছে।

কিন্তু ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা কোন নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে ইচ্ছে মতো হাসপাতালে প্রবেশ করে। হাসপাতালের চিকিৎসা পরিবেশ নষ্ট করে। তাদেরকে প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বুধবার ১০ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত হাসপাতালে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা প্রতিদিনই প্রবেশ করছেন।

তিনি আরও জানান, রোববারও তারা একসঙ্গে বর্হি:বিভাগের সামনে জটলা বাঁধালে আনসার সদস্যরা দু’জনকে আটকে রাখে। দঁড়ি দিয়ে বাঁধা ঠিক হয় নি। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিকে নিয়মের বাইরে হাসপাতালে ঠুকতে দিবে না। সামনে আরও কঠোর অবস্থানে থাকবে কর্তৃপক্ষ। ডাক্তারদেরও এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কোনভাবেই চিকিৎসা পরিবেশকে বিঘিœত হতে দেয়া যাবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ