হাসিনা ভারতকে সব দিয়ে ফিরেছেন খালি হাতে: খালেদা

আপডেট: এপ্রিল ১৩, ২০১৭, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া- সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের কাছ থেকে আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই আনতে পারেননি বলে দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
তিনি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীকে কতগুলো আশ্বাস নিয়ে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, অতীতের ধারাবাহিকতায় ভারতের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ও প্রস্তাবিত বিষয়গুলোতেই কেবল অনেকগুলো চুক্তি ও সমঝোতা সই করা হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে দেশের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে বুধবার গুলশানে নিজের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা।
নিজের ভারত সফর নিয়ে এক দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, “এই সফরে আমি সম্পূর্ণ তৃপ্ত, ফলপ্রসূ হয়েছে। সম্মানের দিক থেকে আমরা সমান-সমান, এটা তৃপ্তির। এখানে হতাশার কিছু নেই। এই সফর সম্পূর্ণ সফল হয়েছে।”
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর চরম ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, “এই সফরকে দেশবাসী কেবল দেওয়ার এবং কিছু না পাওয়ার এক চরম ব্যর্থ সফর বলেই মনে করে।”
নরেন্দ্র মোদীর জমানায় ভারতে শেখ হাসিনার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে চুক্তি, সমঝোতা স্মারক মিলিয়ে ৩৫টি দলিল সই হয়।
ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারক নিয়ে নিজের শঙ্কাও প্রকাশ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
এই ধরনের সমঝোতা বা চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আপত্তির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “তা সত্ত্বেও জনসাধারণের মতামতকে উপেক্ষা করে এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে। এর সুদূরপ্রসারী বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে দেশের জনসাধারণের সাথে আমরাও শঙ্কিত।”
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে দেশের স্বার্থবিরোধী সব চুক্তি ও সমঝোতা পুনর্বিবেচনা করবে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে শেখ হাসিনা বিএনপি আমলে চীনের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তির বিষয়টি তুলে বলেছেন, তিনি দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনো চুক্তি করেননি।
চার দিনের সফর শেষে গত সোমবার শেখ হাসিনা ফেরার পরপরই তা নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন খালেদা। তার দুদিন বাদেই সংবাদ সম্মেলনে এলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, মীর নাসির, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শাহজাহান ওমর, রুহুল আলম চৌধুরী, এজেডএম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুল কাউয়ুম, শামা ওবায়েদ, খালেদার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান উপস্থিত ছিলেন।
২০ দলীয় জোটের দলগুলোর নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টিআইএম ফজলে রাব্বী, আবদুল হালিম, এম এ রকীব, আবদুল করীম, শফিউল আলম প্রধান, আবদুল করীম আব্বাসী, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জেবেল রহমান গনি, আজহারুল ইসলাম, আবু তাহের চৌধুরী, গরীবে নেওয়াজ, সাঈদ আহেমেদ, মহিউদ্দিন ইকরাম, মাওলানা শফিকউদ্দিন, সাইফুদ্দিন মনি।- বিডিনিউজ