হিজাব-বিরোধী আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ ইরান, সেনাকর্মীকে খুনের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ৫ বিক্ষোভকারীর

আপডেট: ডিসেম্বর ৭, ২০২২, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক :


হিজাব বিদ্রোহের আঁচে অগ্নিগর্ভ ইরান। আরব বসন্তের স্মৃতি উসকে তেহরানের রাস্তায় ‘মোল্লাতন্ত্র নিপাত যাক’ স্লোগান দিচ্ছেন মুক্তমনারা। অনেকেই আবার ধর্মগুরুদের পাগড়ি কেড়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলছেন। পালটা, বিদ্রোহ দমনে অমানুষিক অত্যাচার চালাচ্ছে সরকার।

ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন কয়েকশো মানুষ। এই পরিস্থিতিতে ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিল ইরানের আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এক আধা সেনাকর্মীকে খুনের। এই মামলায় মোট ১৩ জন পুরুষ ও তিন নাবালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। সকলকেই সাজা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা যাচ্ছে, রুহোল্লা আজামিয়া নামের ওই সেনাকর্মীর মৃত্যু হয় ১২ নভেম্বর। জানা গিয়েছে, মোট ১৬ জনের একটি দল তাঁকে ঘিরে ধরেছিল। তাঁদের পাথর ও ছুরির আঘাতেই মৃত্যু হয় ব্যক্তির। অভিযুক্তদের কারও পরিচয়ই প্রশাসনের তরফে সামনে আনা হয়নি। পাশাপাশি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অভিযুক্তরা চাইলে তাঁদের সাজা পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাতে পারেন।

উল্লেখ্য, পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ৩ নাবালক-সহ বাকি ১১ জনকে দীর্ঘ কারাবাসের সাজা শোনানো হয়েছে। ইরানের বিপ্লবী আদালত অবশ্য নিয়মিতই মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায়। ১৯৭৯ সালে স্থাপিত হয় এই আদালত। সেই সময় থেকেই ইরানে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান। এরপর থেকে প্রতি বছরই ইরানের বহু নাগরিককেই প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কেবল ২০২১ সালেই ইরানে মৃত্যুদণ্ড পান ৩১৪ জন।

গত কয়েক মাস ধরেই ইরান উত্তাল আন্দোলনে। ১৬ সেপ্টেম্বর ইরানের নীতি পুলিশের মারে মৃত্যু হয় তরুণী মাহসা আমিনির। তারপর থেকেই দেশজুড়ে চলছে প্রতিবাদী মিছিল। স্বৈরশাসকের বিরোধিতায় ইটালির বুকে তৈরি হওয়া ‘বেলা চাও’ গানটি গেয়ে ইরানের রাস্তায় প্রতিবাদ জানাচ্ছেন আরব দুনিয়ার মেয়েরা।

হিজাব বিরোধী সেই আন্দোলনে শামিল পুরুষদের একাংশও। তাঁদের কণ্ঠেও ‘বেলা চাও’। প্রশাসনের রক্তচক্ষুতে গিয়েছে অন্তত ৪৭৩ জনের প্রাণ। গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৮ হাজার ২০০ জন। কিন্তু তবু প্রতিবাদকে রুখতে ব্যর্থ ইরানের প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় শোনাল সেই দেশের আদালত।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ