হিজড়াকে গ্রাম ছাড়া করার ফতোয়া দোাষিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

আপডেট: এপ্রিল ৩০, ২০২১, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

হিজড়া হওয়ায় গ্রাম্য সালিশে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মনিরুল ইসলাম নামে (২৭) এক ব্যক্তিকে পরিবারসহ গ্রাম ছাড়ার রায় দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মনিরুলের বড় ভাই মজনু বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সালিশের দুই মাতব্বরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২৭ এপ্রিল গভীর রাতে উপল্লাপাড়া পৌর এলাকার চরঘাটিনা গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনা ১৩ এপ্রিলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের হাফেজ মিস্ত্রির ছেলে মনিরুল ইসলাম ছেলে হিসেবেই জন্ম গ্রহণ করেন। বয়স ১৫ বছর হওয়ার পর থেকে তার হরমোন পরিবর্তিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক গঠনও পরিবর্তন হতে থাকে। কিছুদিনের মধ্যেই সে তৃতীয় লিঙ্গে (হিজড়া) তার হিজড়ায় রূপান্তরিত হওয়ার বিষয় নিয়ে ১৩ এপ্রিল হঠাৎ গ্রাম্য সালিশ বসে। সালিশ বৈঠকে হিজড়া হওয়ার ‘অপরাধে’ মনিরুলের পরিবারকে এক মাসের মধ্যে বাড়িঘর বিক্রি করে গ্রাম থেকে চলে যাওয়ার রায় দেয়া হয়। রায় দেয়ার পরও গ্রাম ছাড়তে বারবার চাপ দেয়া হচ্ছিল। এ কারণে বাধ্য হয়ে মনিরুলের ভাই মজনু বাদি হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
সারা দেশেই এ রকম ভ- ফতোয়াবাজ ও মৌলবাদীরা নিরবে-নিভৃতে, কখনো বা সহিংসতার মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়ে থাকে। এই ফতোয়াবাজ- মৌলবাদীরা কট্টর রকমের স্বার্থবাদী। তারা যতটুকু না ধর্মের জন্য তার চেয়ে বেশি নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য করে থাকে। এরা যে মানবিক আচরণ করবে না সেটা এ দেশে বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। এরা আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা নৈরাজ্য প্রতিষ্ঠাই করতে চায়। একের একের পর এই ধৃষ্টতার পরিচয় তারা দিয়েই যাচ্ছে। এই উন্মত্ততার শেষ কোথায়?
দেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি মানুষের সমান নাগরিক অধিকার আছে। নারী-পুরুষ, হিজড়া, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের নির্বিঘœ জীবন-যাপনের অধিকার আছে। এই অধিকার ক্ষুণœ করার অধিকার কারোরই নেই। তারপরও এই অধিকার হরণ করা হয় ধর্মের নামে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মানুষকে নিপীড়ন, সম্পদহরণের ঘটনা ঘটে চলেছে। এটা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ব্যাপার। এই পরিস্থিতি চলতে দেয়া যায় না। আইনি ব্যবস্থা যথাযথভাবে প্রয়োগ হলেই কেবল অমানবিক তৎপরতা বন্ধ করা সম্ভব হবে। দেশের মানুষের সাংস্কৃতিক চেতনার স্তর উন্নত করার প্রক্রিয়াতেও গতি সঞ্চার করা বাঞ্ছনীয়।
গ্রাম্য সালিশে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় যে অমানবিক ঘটনার সাথে যারা জড়িত আছে তারা যেন কোনোভাবেই আইনের ফাঁক-ফোকর গলে যাতে বের হতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের আইনকে উপেক্ষা করার সাহস যাতে কেউ দেখাতে না পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ