হিজড়া জনগোষ্ঠির উন্নয়নে নেয়া কর্মসূচি কাজে আসছে না

আপডেট: ডিসেম্বর ২১, ২০১৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :



হিজড়া জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে নেয়া বিভিন্ন কর্মসূচি কোনো কাজেই আসছে না হিজড়ারাদের। ওই কর্মসূচির মাধ্যমে হিজড়াদের বয়স্ক ভাতা প্রদান, হিজড়া শিক্ষা উপবৃত্তি ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তবে এই সহযোগিতা নিয়ে কোনো কাজেই আসছে না তাদের। প্রশিক্ষণ নিয়েও কোনো কাজ পাচ্ছেন না তারা। শিক্ষা উপবৃত্তি পেলেও ইতিমধ্যে বেশিরভাগ আর পড়ালেখার সঙ্গে সম্পৃক্ত নাই।
হিজড়ারাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা কাজ করতে গেলে কাজে নেওয়া হচ্ছে না। প্রশিক্ষণ নিয়েও কোনো কাজ পাচ্ছে না তারা। স্কুলে গেলে অন্য শিক্ষার্থীরা অস্বস্তিবোধ করছে। এইজন্য বেশিরভাগ শিক্ষার্থী পড়ালেখা বাদ দিয়ে দিয়েছে।
হিজড়াদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছেন এমন ব্যক্তিরা বলছেন, সমাজের মূল স্রোতধারায় হিজড়াদের ফিরিয়ে আনতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, শিক্ষা ও অর্থ সহযোগিতা দেয়া প্রয়োজন। এতে করে তাদের ভেতরের হীনমন্যতা দূর করে মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সর্বোপরি দরকার হিজড়াদের সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। হিজড়া মানেই ভীতিকর কোনোকিছু না-এই মনোভাব থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে ঝুঁকিপূর্ণ পেশা থেকেও তাদের বের করে আনা সম্ভব।
সমাজসেবা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী থেকে হিজড়া বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন ১১৭ জন। এরা প্রতি মাসে সরকারের কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে পান। হিজড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা উপবৃত্তি পাচ্ছে ১৪০ জন। এদের মধ্য থেকে প্রাথমিক স্তরে দেয়া হচ্ছে প্রতি মাসে ৩০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ১৪০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৬০০ টাকা ও উচ্চতর স্তরে এক হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া হিজড়াদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ৫০ জন হিজড়াকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্য থেকে সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে ১৩ জনকে, গবাদিপশু ও হাঁসমুরগি পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে ২১ জনকে এবং কম্পিউটার বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে ২৬ জনকে।
রাজশাহী সমাজসেবা অধিদফতরের উপপরিচালক রুবিনা ইয়াসমিন বলেন, যারা প্রশিক্ষণ পেয়েছে তারা কাজ পেয়েছে কি না বলা যাচ্ছে না। অন্ততপক্ষে এটা বলা সম্ভব হচ্ছে যে, যারাই এ প্রশিক্ষণ পাচ্ছে ও শিক্ষা উপবৃত্তির উপকরণ নিয়ে পড়ালেখা করছে তারা কখনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে না।
হিজড়াদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে এমন সংগঠন ‘দিনের আলো’র সভাপতি মোহনা বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা কোনো কাজই পাচ্ছে না। হিজড়া বলে তাদের কোনো কাজে নেওয়া হয়না। শুধু হিজড়াদের প্রশিক্ষণ দিলে হবে না, সব প্রতিষ্ঠানকেই হিজড়াদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এইজন্য সরকারকে উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এইজন্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হওয়াটা জরুরি।
পড়ালেখার বিষয়ে মোহনা বলেন, প্রাইমারিতে নগর থেকে প্রায় ২৫ জন ভর্তি হয়েছিল। যাদের বয়স ১৫ বছরের মধ্যে। কিন্তু বেশিরভাগ পড়ালেখা বন্ধ করে দিয়েছে। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কয়েকজন পড়ালেখা করছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ