হুমকির মুখে পরিবেশ || তানোরে পেঁয়ারা বাগানে অবাধে চলছে নিষিদ্ধ পলিথিন

আপডেট: এপ্রিল ২৩, ২০১৭, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

লুৎফর রহমান, তানোর



তানোর উপজেলার পেঁয়ারা বাগানগুলোতে অবাধে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি জমির উর্বরতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি জমিতে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। শুধু পেঁয়ারার বাগানেই নয়, বাজার জুড়ে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন। পলিথিন ব্যবহারে পরিবেশ দূষণসহ কমছে মাটির উর্বরতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তানোর উপজেলার মুদি দোকান, কাঁচা বাজার মাছ বাজার, হোটেল রেস্তোরা, বেকারি দোকান ফ্যাক্টরি, ওষধের দোকানে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার অবাধে চলছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা নিষিদ্ধ পলিথিন আমদানি করে বাজারজাত করছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন।
স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি নেই বলেই পলিথিন বিক্রি এখন ওপেন সিক্রেট। অধিকাংশ দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পণ্যবিক্রিতে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার ও বিক্রি হলেও অজ্ঞাত কারণে স্থানীয়  প্রশাসনের  নজরে আসছে না। ২০০২ সালে মার্চ মাসে বাংলাদেশ সরকার সারাদেশে পলিথিন উৎপাদন বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার নিসিদ্ধ করেন। সাজা হিসেবে উৎপাদনকারীর ১০ বছর সশ্রম কারাদ- ও বাজারজাত করণে ৬ মাসের জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা বিধান করা হয়।
কিন্তু সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষের নজরদারি না থাকায় আইন অমান্য করে নিষিদ্ধ পলিথিন বাজারজাত করে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলছেন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কাজটি স্থানীয় প্রশাসনের।
গত শুক্রবার তানোর উপজেলার গোল্লাপাড়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন মিষ্টি ও মুদি দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন। আর এইসব পলিথিন এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে রাতের আধারে মিনিটাকে করে বাড়িতে রেখে বিভিন্ন বাজারে পাইকারি বিক্রি করে আসছেন। তানোর গোল্লাপাড়া বাজারের মিষ্টি ব্যবসায়ী সুদেব, মুদি দোকান দীপক চাল, ডাল, পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সোহেলের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, পলিথিন দিয়ে ব্যবসা নিষিদ্ধ হলেও তানোরে প্রশাসনের তেমন কোন চাপ না থাকায় পলিথিনের ব্যবহার সচল আছে। তাদের কাছে পলিথিন কোথায় থেকে আসে জানতে চাইলে তারা বলেন, পলিথিন বাজারে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করা হয়। আমরা সেখান থেকে নিয়ে আসি।
পলিথিনের ক্ষতিকর দিক সর্ম্পকে বাসিকের বরেন্দ্র অঞ্চলিক সমন্বয়ক শহিদুল ইসলাম জানান, কোন মৃতজীব বা প্রাণির পচনে অনুজীব (মাইক্রো অর্গানিজম) কাজ করে। কিন্তু পলিথিনের উপর অনুজীব কোন প্রকার কাজ করে না। তাই এটা পঁচে না। পলিথিন মাটি ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে। তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চলে পলিথিনের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। পেঁয়ারা বাগানগুলোতে ব্যবহারের ফলে বরেন্দ্র অঞ্চলে মাটির উর্বরতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এক সময় এ জমিগুলোতে পলিথিন না পঁচার কারণে অন্য আবাদ উৎপাদন না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শওকাত আলী জানান, নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে বিভিন্ন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। আর বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে  যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আমি যোগদানের পর তানোর বাজারে হোটেল রেস্তোরায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অনেক ব্যবসায়ীর জেল জরিমানা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ