হৃদয়ে বাংলাদেশ

আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০১৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ

সুজিত সরকার
আমরা প্রায়ই নানা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ, বাঙালি-চরিত্র, বাংলাভাষা এবং যা কিছু আমাদের গৌরবের, ঐতিহ্যের, অহংকারের আর আনন্দের তা নিয়ে বিরূপ-বিশ্রী বক্তব্য ছুঁড়ে মারি এবং আত্মঘাতী মন্তব্য করি। তাদের এমন মানসিকতা ও শব্দচয়নে  মনে হয়, কেবল বাঙালিই একমাত্র জাতি যারা ঘুস খায়, দুর্নীতি করে, মিথ্যে কথা বলে, অপরাধপ্রবণ, কথা দিয়ে কথা রাখে না, সময় সচেতন নয় ইত্যাদি দোষে দোষী। বিশ্বের আর কেউ এমন নয়। আমরা যদি জগতের নানা দেশ, তাদের সংস্কৃতি-শিল্প-ভাষা এবং দৈনন্দিন কাজ সম্পর্কে জানতে ও দেখতে যাই, তাহলে  দেখবো তাদের ভেতরেও এমন প্রবণতা ভুরি ভুরি মিলবে। আর তারা এমনটির অগ্রপথিক বলেই বাঙালি তার অনুকরণ-অনুসরণ করতে করতে আজকে এই পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। পাঠান-মোগল-ইংরেজসহ আরো কতো জাতি বাঙালিকে শাসন করেছে, শোষণ-নির্যাতনও করেছে, তাদের ভাষার শব্দ, নির্মিত শিল্প-সংস্কৃতি যদি আমরা সচেতন কিংবা অচেতন মনে গ্রহণ করে থাকি, তাহলে তাদের বদ্ ও অমার্জিত গুণগুলো কি পরিত্যাগ করেছি। ইংরেজরা ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা দখল করে তো সিরাজ-উদ্-দৌলা সম্পর্কে বানোয়াট কাহিনি প্রচার করেছিলো। পাঠান-মোগলদের রাজনীতিই ছিলো ষড়যন্ত্রমূলক। ভাইকে ভাইকে হত্যা করে, পুত্র পিতাকে বন্দি করে ক্ষমতা দখলে নিয়েছে। জনসাধারণকে শোষণ-নির্যাতন করে সম্পদের পাহাড় গড়ে বিত্ত-বিলাসে দিন কাটিয়েছে। বাংলদেশ তাদের অধীন ছিলো। তাদের আচরণে তেমন দোষ কখনো পরিলক্ষিত হলে, সেটার সূত্রধর তো তারা। আজকে তারা সভ্য-ভব্য আর বাঙালিই একমাত্র অসভ্য, মিথ্যুক-ঘুসখোরজ্জএমন একতরফা বক্তব্য শোভন নয়। আত্মঘাতী। নিজের প্রতিই ঘৃণা বর্ষণ। নিজেকেই অসম্মান-অপমান করা। আর যারা তা করে, তারা বাংলাদেশ নামের দেশটি থেকে যতোটা সুবিধা নেয়, তার অস্তিত্ব রক্ষা থেকে ততোটা দূর থাকে।
আমরা যদি নিজেদের অতীতটাকে খুব সংক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে একবার পর্যালোচনা করি, তাহলে বাঙালির গৌবরময় অর্জনটাকেই দেখতে পাবো। খাদ্যে স্বনির্ভর জাতি ছিলো বাঙালি। খাদ্য সামগ্রির পশার নিয়ে বাঙালি প্রতিবেশী দেশগুলোয় কেবল নয়, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ পর্যন্ত বাণিজ্য করেছে। বাঙালির কুটির শিল্পজ্জবিশেষ করে মসলিন ছিলো আদরণীয়। এমন শিল্প দুনিয়ার কোথাও কোনো কারিগর সৃষ্টি করতে পারেনি। পাল-সেনেরা বাংলাভাষাকে ম্লেচ্ছর ভাষা বলেছিলো। বিদ্যার দেবীকে অসম্মান জানানো হবে বলে বাংলাভাষায় সাহিত্যচর্চার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলো। পারেনি। বাঙালি মাতৃভাষায় সাহিত্য রচনা করে প্রমাণ করেছে, তাদের ভাষার চেয়ে বাংলাভাষা শ্রেষ্ঠ। আজকে সেই দুঃশাসকদের ভাষা বিলুপ্ত। যাদুঘরে ঠাঁই নিয়েছে। কিন্তু বাংলাভাষা উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
যখন এ দেশ ছিলো পুরোদস্তুর কৃষি আর কুটির শিল্প নির্ভর, তখনও কি সম্পদে মালিকানা ব্যক্তিবিশেষ ছিলো না? নাকি তখনও বিদেশি সেপাইরা কিংবা বেনিয়ারা দেশ পরিচালনা করেছে? সম্পদ যখনই ব্যক্তির অধিকারে থাকে, তখন তাকে সেই সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সেপাই পুষতে হয়েছে, শ্রমজীবীদের শ্রম শোষণ না করলে মসলিন সুতোর কাপড় দেশ-বিদেশে বিক্রি করে বিপুল অঙ্কের মুনাফা অর্জন করতে পারতো? গোলায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত কৃষিপণ্য ভর্তি হতো? মানুষকে বন্দি কিংবা অপহরণ করে দাস বানিয়ে দেশ-বিদেশের হাটে পশুর মতো বিক্রি করতে পারতো? এ সব হতো না যদি বিত্তবান ও ক্ষমতাধরদের মধ্যে ন্যূনতম মানবিক গুণাবলি থাকতো। তবুও এই মানুষ ওই সব বর্বরতম কাজ করেছে এবং বংশপরম্পরায় বিত্ত-বিলাসে জীবন অতিবাহিত করেছে। যে সমাজের মানুষ শিক্ষা ও সংস্কৃতির ধারে-কাছে যাওয়ার সুযোগ পায়নি, তারা কী করে চরিত্রবান বলতে যা জ্ঞানী-গুণিজনেরা বোঝান, তার সীমারেখা স্পর্শ করবে? পাশ্চাত্য সমাজও ধর্মের আবরণে আস্থাশীল ছিলো। তারপরও তারা নারী-পুরুষের মধ্যে ছিলো শ্রম সাম্য। পুরুষই কেবল মাঠে চাষ করবে, কারখানায় শ্রম বিক্রি করবে, এমন নয়। সেখানে এবং পরিবারেও নারী-পুরুষ সমভাবে শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছে। বাঙালি বৃহদার্থে ভারতীয় সমাজও ছিলো ধর্মের বিধি-নিষেধের অনুগত। কেবল শিক্ষার সুযোগের অভাবে সে কারণে ধর্মের প্রতি অতি আনুগত্য এবং শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে প্রান্তিকবাসী আর নারীদের শিক্ষার সুযোগ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। বেশিদিনের কথা নয়, আমরা যদি উনিশ শতকের নারী জাগরণের অগ্রনায়িকা রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন, জননী কবি সুফিয়া কামালসহ বিত্তবান ও জমিদার পরিবারের নারীদের জীবনচিত্রের দিকে একবার দৃষ্টি দিই তাহলে দেখা যাবে, এই সব পরিবারের পুরুষেরা বিলেত থেকে ব্যারিস্টার কিংবা আইসিএস পাস করে সরকারের বড়ো পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছে, আদালতে ওকালতি করছে, বিপুল অঙ্কের অর্থ-বিত্তের অধিকারী হচ্ছেন, কিন্তু নারীরা ধর্মগ্রন্থের ভাষা ব্যতীত মাতৃভাষায় শিক্ষিত হতে পারছেন না। যাঁরা পরিবারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কিংবা পরিবারের কোনো অগ্রচিন্তকের সহযোগিতায় মাতৃভাষার সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন, তারা অর্থ ও সামাজিক অবস্থানের শক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত অদম্য আগ্রহের বলে তা হয়েছিলেন। রবীন্দ্র পরিবারের মেজো বউ জ্ঞানদানন্দিনী দেবী অন্তরমহলে রাখা পাল্কিতে চেপে ঘরের বাইরে বেরিয়েছিলেন, কয়েক বছর লন্ডনে বাস করে তিনি সেই ঠাকুরবাড়ির সিংহদুয়ারে এসে ঘোড়াগাড়ি থেকে নামলেন জুতো পড়ে। মহর্ষি তখনও জীবিত। তিনি বাড়ির ঝুল বারান্দায় দাঁড়িয়ে তাঁর মেজো ছেলের স্ত্রীর এই সংস্কার ভাঙার বিরুদ্ধে টুঁ-শব্দটি করতে পারলেন না। রোকেয়া নারী শিক্ষার উদ্যোগী হলে রক্ষণশীল বাঙালি সমাজ ছি ছি করে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অশ্লীল কথা রটানো শুরু করলো। জ্ঞানদানন্দিনী দেবী লন্ডনে থেকে দেখেছিলেন সেখানে নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রা ও সমানাধিকার এবং নারী-পুরুষের শ্রমসাম্য। তিনি ভারতে ফিরে নারী শিক্ষার উদ্যোগ নেন এবং সফল হন। তাঁকেও রক্ষণশীল বাঙালি ঘোড়ায় চেপে গড়ের মাঠে সকালে গঙ্গার হাওয়া খেতে দেখে রে রে করলেও তাঁর গতিরোধ করতে পারেনি, ছেলে-বউকে জুতো পায়ে বহিরাঙ্গনের পুরুষ ভর্তি কর্মচারীদের সামনে দিয়ে গট্ গট্ করে হেঁটে অন্দরে প্রবেশ রোধ করতে যেমন পারেননি মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। নারীদের মতো বাঙালি সমাজের প্রান্তিক পুরুষেরও অবিকল সুযোগ ও সাহস ছিলো না। জমিদারের বাড়ির সামনে দিয়ে জামা-জুতো পড়ে ছাতা মাথায় দিয়ে চলাফেরার ওপর ছিলো নিষেধাজ্ঞা। তাদের পড়ালেখা ওই পর্যন্ত সীমিত ছিলো যে পর্যন্ত পড়লে পিয়ন-চাপরাশি কিংবা বাড়ির সরকার হওয়া যায়, সে পর্যন্ত। জমিদারের বিদ্যালয়ে চাষীর ছেলের সঙ্গে তাদের সন্তানেরা বসতো না। তাদের জন্যে স্বতন্ত্র এবং আরামদায়ক ব্যবস্থা নির্দিষ্ট ছিলো। এই রকম শিক্ষার সুযোগহীন সমাজের মানুষ এক শতকে আর কতোদূর এগোবে। তাদের সময়বোধ, মিথ্যেচার, সুযোগ মতো ছোটো-খাটো চুরি কিংবা অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ খুব স্বাভাবিক। আজকে নারীরা যে শিক্ষার শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করার সুযোগ পাচ্ছে, তার সুচনা করেছিলেন বিদ্যাসাগর। পরে রোকেয়া। তারপরে অনেক শিক্ষিত ও শুভাকাক্সক্ষী ব্যক্তির উদ্যোগে।
বলবেন, তারপরও কেনো ঘুস-দুর্নীতি হচ্ছে? কেনো একজন কর্মচারী-কর্মকর্তা অর্পিত দায়িত্ব যাথাবিধি পালন করছেন না? সেটার মূলে রয়েছে সামরিক-বেসামরিক ধূর্ত আমলা এবং ধান্দাবাজ রাজনীতিক। তাদের সততা ও দায়িত্ব পালনের ওপর নির্ভর করে আমলা-পিয়নের দুর্নীতির সুযোগ। একজন মন্ত্রী যদি চেষ্টা করেন, তাহলে তার মন্ত্রণালয় থেকে দুর্নীতি উচ্ছেদ করতে পারেন। কিন্তু শূন্য পকেটে যে ব্যক্তি রাজনীতির অঙ্গনে প্রবেশ, ক্ষমতালাভ, তিনি লোভ সংবরণ করতে পারেন না। আমলাদের অধিকাংশই ওই প্রান্তিকবাসীর সন্তান। তারাও মন্ত্রীর দুর্বলতা কিংবা লোভের সুযোগ নিয়ে বাঁটোয়ারা করেন। নিজেও লাভবান হন, মন্ত্রীকেও করেন। সাধারণ মানুষ তো তাদের তুলনায় অনেক ভালো। ভোটের সময় সামান্য যা পায় তা-ই তাদের নেতার কাছে শেষ পাওনা। তারপর আর নেতাদের ধারেকাছে ভিড়তে পারে? এই সমাজের মানুষের কাছে পাশ্চাত্যের শিল্প-সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রা আশা করলে আমরা বোকার স্বর্গে বাস করছি বলে মনে হয়। আর সে রকম আশা যারা করে জাতির সকল গৌরব-ঐতিহ্য-ইতিহাস-সাহিত্য ও শিল্প সম্পর্কে কূট মন্তব্য করে আত্মতুষ্টি লাভ করেন এবং নিজেকে বেশ বুঝমান অতিজ্ঞানী-গুণি প্রমাণের চেষ্টা করেন তার মতো নির্বোধের জন্যেই এই লেখা। তাকে বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করি, দেশ ও জাতির দৈনন্দিন জীবনাচার-অর্জনের বিরুদ্ধে এমন গড়পরতা মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন। সমাজটাকে এগিয়ে নেয়ার জন্যে একবার নিজের চেহারাটা আয়নায় দেখে, নিজেও অগ্রগতি-উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত হোন। দেখবেন, তাতে নিন্দা-অক্ষমতা-অসভ্যতা কথা বলে নিজেকেই অসম্মান-অবমাননা করে বসা চেয়ে অনেক স্বস্তি ও আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। কারো ভুল ধরে নিজের বিশাল ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করা যায় না, সেটা নিজে চর্চা করে অনুকরণীয় করাটাই অনেক বেশি গৌরবের কাজ।
যারা দেশকে, দেশের মানুষকে ভালোবাসে না, বরং তাদের আচরণের বিপরীতে উপদেশের খয়রাত বিতরণ করে, উঠতে-বসতে মানুষের ভুল ধরতে বেশি স্বচ্ছন্দ্যবোধ করে, তারা কেবল সেটুকুর জন্যে আত্মগর্বে ভোগে। নিজে কিছু করতে জানে না। দেশটাকে, দেশের প্রকৃতিবৈচিত্র্য, নদী-খাল-বিল, প্রতিদিনের সূর্যোদ্যয়, বাঁশ ঝাড়ের মাথার ওপর চাঁদ ওঠা, অমাবস্যার রাত, শীত-বর্ষা-বসন্তের ফুল-ফল ইত্যাদিকে দেখেনি, ভালো করে দেখার মতো যাদের চোখ নেই, তারা নিরন্তর অপরের ত্রুটিটাকেই প্রথম দেখে। দেশের সম্পদ পাচার হলে, দক্ষ মানুষ বিদেশে কাজ করে অনেক ডলার-রিয়াল-দিরহাম পাঠালেও তাদের কিচ্ছুটি যায় আসে না। তারা বলে না সম্পদ পাচার বন্ধ করো, দক্ষ শ্রমিকের জন্যে কর্মক্ষেত্র তৈরি করো। তারা বরং ভোটের সময় নেতাদের পোঁ-ধরা হয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই জানে। তাতে অবশ্য ব্যক্তিগত লাভ হয়। কিন্তু জাতির তো কল্যাণ হয় না। এই সুন্দর দেশটাকে দেড় হাজার বছর পর স্বাধীন একটি ভূ-খ-ের অধিকারী করতে ত্রিশ লক্ষ বাঙালি আত্মোৎসর্গ করেছিলেন। সাড়ে চার লক্ষ মা-বোন তাদের সম্মান-সম্ভ্রমতা বিসর্জন দিয়েছিলেন। তারা ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্নবিলাসীদের ধর্মের পবিত্রতা রক্ষার বচনেও ভোলেনি। বরং তাদের বিরোধিতা করেছে সমগ্র জাতি। হানাদারদের বিরুদ্ধে মানসিক অবস্থান নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নিঃশর্ত সহযোগিতা করেছিলো। এখনো সেই মানুষ আছে। তারা কোনো অশুভ শক্তির পক্ষে অবস্থান নেয়নি। ফলে সাকা-নিজামী-কাশেমের অপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকরে সানন্দে সাধুবাদ জানিয়েছে বর্তমান সরকারকে। এই মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বঙ্গবন্ধু নাগরিকত্ব বাতিল করে বিচার শুরু করেছিলেন। জিয়া-মোস্তাকেরা জাতির পিতাকে সপরিবারে খুন করে দেশের সমুদয় অর্জন-গৌরবময় অধ্যায় ও ঐতিহ্যকে ভূ-লুণ্ঠিত করার আয়োজন করে। দেশের মানুষের ত্যাগ-দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসাকে অসম্মান করার অকর্মসূচি বাস্তবায়নের আয়োজন করে ধর্মান্ধ যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে। তাদের অন্তরে বাংলাদেশের মানচিত্র নেই, আছে পাকিস্তানি অপরাধপ্রবণতার ছায়া। তাদের সেই পাকিস্তান আজ একটি ব্যর্থ ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কেবল নয় সে অভিযোগে কোথাও তার ঠাঁই নেই। বাংলাদেশকে ধারণ করার মধ্য দিয়েই কেবল মানবতা ও ধর্মপ্রাণ হওয়ার চেতনাকে শাণিত করা যায়। তার বিকল্প অন্য কোনো পথ সামনে নেই। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে নিয়ে কাউকে খেলতে দেয়া যাবে না। যারা একাত্তরে রাজাকার-আলবদর-শান্তি কমিটির সদস্য ছিলো, তাদের বংশধরদের মুক্তিযুদ্ধের রাজনীতির সঙ্গে মেলানো যাবে না। তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতিতে এসেই চেতনা ও আদর্শ বিরোধী অপরাধপ্রবণ কাজের সঙ্গে যুক্ত হবে। দেশময় তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আজকে তারা আওয়ামী লীগে আশ্রয় নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্যবহার করে নানা দুষ্কর্মে লিপ্ত হয়েছে। নেতাদের এদের বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকরি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নতুবা পঁচাত্তর ফিরতে খুব বিলম্ব হবে না। এই হাইব্রিডদের অপ-কর্মের কারণেই আওয়ামী লীগ আজ নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। ত্যাগী আর অভিজ্ঞদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করলে ঐতিহ্যবাহী দলটি দেশের উন্নয়ন করবে। মানুষও শিক্ষা ও কর্মের সুবিধাসহ বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’য় নিরাপদ জীবন যাপন করার সুযোগ পাবে।