হেফাজতের নতুন কমিটি হেফাজত প্রতিশ্রুতি রাখবে তো?

আপডেট: জুন ৯, ২০২১, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

হেফাজতে ইসলামের ৩৩ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে রাখা হয়নি দলটির সাবেক কমিটির আলোচিত নেতা মামুনুল হক ও তার অনুসারীদের।
ঘোষিত নতুন কমিটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরী এবং মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদী। ৭ জুন বেলা ১১টায় খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। জেলে থাকা ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারী নেতাদের বাদ দিয়েই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন কমিটিতে কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন সংগঠনের প্রয়াত আমির শাহ আহমদ শফীর বড় ছেলে মো. ইউসুফ মাদানী। তাঁকে সহকারি মহাসচিব পদে রাখা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এই কমিটি ঘোষণার পরপরই প্রতিক্রিয়াও এসেছে। নানা বিতর্ক সামনে এসেছে। হেফাজতে ইসলামের নবগঠিত কমিটিকে ‘নতুন বোতলে পুরাতন কমিটি’ বলে মন্তব্য করেছেন শাহ আহমদ শফীপন্থি হিসেবে পরিচিত সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাইনুদ্দিন রুহি। কমিটিতে ব্যতিক্রম কিছু নেই। এটি হেফাজতে ইসলামের কোনো কমিটি নয়, এটি হচ্ছে ফটিকছড়ি সমিতি। এই সমিতি কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য করা হয়েছে।’
হেফাজতে ইসলামের কমিটি আগে থেকে আছে বলে মন্তব্য করে মাইনুদ্দিন রুহি বলেন, ‘আল্লামা শাহ আহমদ শফী হুজুরের নেতৃত্বাধীন যে কমিটি ছিল, সেটি এখনও বিলুপ্ত হয়নি। এই কমিটি এখনও চলছে। এটিই এখনও পর্যন্ত হেফাজতের বৈধ কমিটি। নতুন কমিটিতে তারা হুজুরের ছেলে ইউসুফ মাদানিকে রেখেছেন। কিন্তু তিনি নিজেই চিঠি দিয়ে এই কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন।’
শফীর ছেলে সংগঠনটির সাবেক প্রচার সম্পাদক আনাস মাদানী বলেছেন, আগের মতোই গঠনতন্ত্র ‘লঙ্ঘন’ করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে আনাস মাদানি না থাকলেও শফীর বড় ছেলে মো. ইউসুফের নাম রয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, তার সম্মতি ছাড়াই কমিটিতে তার নাম দেয়া হয়েছে।
নতুন কমিটির ব্যাপারে এও অভিযোগ উঠেছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে যে সহিংসতা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে সেসব মামলার আসামিদেরও কমিটিতে রাখা হয়েছে। আহমদ শফীকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দেয়ার অভিযোগে যে মামলা হয়েছে, তাতে হেফাজতের বর্তমান আমির বাবুনগরীসহ সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা আসামি।
ঘোষিত কমিটি রাজনৈতিক চর্চার বাইরে সংগঠন পরিচালনায় প্রতিশ্রুতি কতটুকু রক্ষা করবেন- সেটা গুরুত্বপর্ণ প্রশ্ন বটে। কমিটি নিয়ে যেসব প্রতিক্রিয়া এসেছে খোদ হেফাজতের অপর একটি গ্রুপের কাছ সেটা সন্দেহ উসকে দেয়। কেননা সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সাথে জড়িত নেতারাও কমিটিতে আছেন। সময়- সুযোগ মত এই হেফাজতিরা যে আবারো স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করবে না তার গ্যারান্টি কই? তবে হেফাজতিদের ব্যাপারে সতর্ক অবস্থান এবং সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় অধিক গুরুত্ব নিয়ে থাকতে হবে। নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যেই হেফাজতকে রাখতে হবে। সামান্য ব্যত্যয়কেও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। কোনো অবস্থাতেই হেফাজতিদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের আশ্রয়-প্রশ্রয় গ্রাহ্য করা সমীচীন হবে না। আর সব সংগঠনের মতই সরকারের নিয়ন্ত্রণে থেকেই সাংগঠনিক কর্মকা- চালাতে হবে। এর কোনো ব্যত্যয় ভাল ফল বয়ে আনবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ