হোটেল-রেস্টুরেন্টের খাবার পরীক্ষা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ প্রতিপালন হোক

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে দেশের সবখানে হোটেল-রেস্টুরেন্টের খাবার পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খাবারের মান পরীক্ষা করে যেভাবে গ্রেডিং স্টিকার দেওয়া হচ্ছে এবং নিয়ত মনিটরিং করা হচ্ছে, সারা দেশেই সেই ব্যবস্থা চালু করতে বলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২১ এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অনলাইনে অর্ডারভিত্তিক খাবারের মান নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও বলেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবসের অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈেিনক সোনার দেশ পত্রিককায় প্রকাশিত হয়েছে।
দেশের সর্বত্র ভেজাল খাদ্য বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বিক্রি এসব খাবারের ৭০ থেকে ৯০ ভাগই ভেজাল বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য ল্যাবটরির কর্মকর্তারা।
ভেজাল খাদ্য বিক্রি ঠেকাতে আইন তৈরি করা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রয়োগ নেই। আর এ জন্য কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞ এবং ভোক্তারা।
জনস্বাস্থ্য ল্যাবরেটরি সূত্রে জানা গেছে, পানি, দুধ, মসলা, তেল এবং মিষ্টিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব জিনিস দৈনন্দিন বাজারে সেগুলোর অর্ধেকে ভেজাল কিংবা নিম্নমানের।
বিশেষজ্ঞ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, চাল, মাছ, ফল, শাকসবজি ও মিষ্টি জাতীয় বিভিন্ন খাবারে ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে কেমিক্যাল মিশ্রিত করে। যাতে করে খাবারগুলো দ্রুত নষ্ট না হয়। কিন্তু এটা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বিষক্রিয়ার ফলে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে। এছাড়া নারীদের বন্ধাত্বের কারণ হতে পারে। ভেজালযুক্ত এসব খাবার খাওয়ার কারণে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস হতে পারে। আবার লিভার, কিডনি ও হার্টের মারাত্মক ক্ষতির কারণও হতে পারে এসব খাবার।
আমাদের দেশে খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মেশানো হয় বহু যুগ আগে থেকেই। তবে যত দিন যাচ্ছে ততই ভেজাল মেশানোর ব্যাপকতা বাড়ছে। আগে খাদ্যে ভেজাল বলতে দুধে পানি মেশানোকেই বুঝাতো। এ দুধে পানি মেশানোয় প্রতারণা ছিল, কিন্তু স্বাস্থ্যগত ক্ষতি ছিলনা। বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে অসাধু ব্যবসায়ীরা এর মধ্য থেকে অপ-বিজ্ঞানকে খুঁজে বের করছে এবং এই অপ-বিজ্ঞানকে খাদ্যে ভেজাল মেশানোর কাজে ব্যবহার করছে। শুধু তাই নয়, তারা নকল খাদ্য উপাদানও বের করছে। এগুলোতে প্রতারণাতো রয়েছেই, তার চেয়ে বেশি রয়েছে স্বাস্থ্যগত ক্ষতি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা বাস্তবিক ক্ষেত্রে প্রতিপালিত হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা। হোটেল-রেস্টুরেন্টের খাবার পরীক্ষা এবং তা প্রতিনিয়ত মনিটরিঙের আওতায় আনা গেলে খাদ্যে ভেজাল পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নত হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ