হ্যালো, সম্মানিত নগরবাসী সামনে মেয়র নির্বাচন, কী ভাবছেন?

আপডেট: আগস্ট ১৯, ২০১৭, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

তাপসকুমার সাহা


রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসতেই রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নির্বাচনী কর্মতৎপরতা দেখা দিয়েছে। জেগে উঠেছে তৃণমূলের কর্মীবৃন্দ। নগরের সম্মানিত নাগরিকেরা জল্পনা-কল্পনা করছেন আগামীতে নগর পিতা কে হচ্ছেন? গভর্নর জেনারেল লর্ড লিটন সাহেবের আমলে বঙ্গে লে. গভর্নর ছিলেন স্যার রিচার্ড টেমপল। তাঁর শাসন কালে ১৮৭৬ সালে ১ এপ্রিল রাজশাহী মিউনিসিপ্যালিটি গঠিত হয়। ১৮৮৪ সালের বেঙ্গল মিউনসিপ্যালিটি আইনের তিন ধারা (১১১ইঈ) অনুসারে এই মিউনিসিপ্যাটিলিতে ২১ জন কমিশনার নির্ধারিত হয়। তার মধ্যে ৭জন মনোনিত এবং ১৪ জন নির্বাচিত কমিশনার। সর্বপ্রথম বেসরকারি চেয়ারম্যান ছিলেন, রাজশাহীর অধিবাসী বাবু হর গোবিন্দ সেন। ১৮৬৯ সালের পরীক্ষামূলক আদমশুমারি রামপুর বোয়ালিয়ার আয়তন ছিল ৩২০০ একর। বাড়ির সংখ্যা ছিল ৪২২৪, পুরুষ ছিল ৯৫৮৪ জন, নারী ছিল ৮৯১৩ মোট ১৮৪৯৭ জন। ১৮৬৯ সালে ‘রামপুর বোয়ালিয়া টাউন কমিটির আয় ছিল ১৪৭ পাউন্ড এবং ব্যয় হয়েছিল ১০৯৪ পাউন্ড ১৯ শিলিং। ১৮৭ সালে আয় ছিল ১৪১৮ পাউন্ড ৪ শিলিং, ব্যয় হয়েছিল ৯৯৮ পাউন্ড ১৬ শিলিং। কালের পরিক্রমায় ঘুরতে ঘুরতে ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ এবং ২৪ বছরের পাকিস্তানি গোলামীর পর ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার ১৬ বছর পর অর্থাৎ ১৯৮৭ সালে আমাদের মিউনিসিপ্যাল রূপান্তর হয় সিটি কর্পোরেশনে। তখন প্রশাসকের আসনটি অলংকৃত করেছিলেন মো. আব্দুল হাদী সাহেব। তারপর ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে জাতীয় পটপরিবর্তনের পর নগর পিতার আসনে বসেন মিজানুর রহমান মিনু। তিনিও দীর্ঘ সতের বছর নগর পিতার দায়িত্বে ছিলেন। তারপর ২০০৮ সালের মেয়র নির্বাচিত হন প্রথিতযশা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও রাজশাহীর অহংকার শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামানের উত্তরসুরি এ এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনিই এই শতোর্ধ মহানগরীকে যুগোপযোগী তিলোত্তমা নগরী হিসাবে গড়ে তুলতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন নগর পিতার আসনে বসেই। তাঁর আমলেই এই মহানগরবাসীকে বিশুদ্ধ পানীয় জল পান করানোর জন্য গড়ে তোলা হয় রাজশাহী ওয়াশা। মাধ্যমিক শিক্ষার প্রসারের জন্য গড়ে তোলা হয় মডেল স্কুল, সামাজিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠাগুলোতে লাগে উন্নয়নের ছোঁয়া, শহরের রাস্তাগুলোতে যানজট নিরসনের জন্য করা হয় প্রশস্তকরণ। শহরের ভিতর গড়ে উঠে আইটি সিটি উন্নত বিশ্বের উন্নত শহরগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে। পদ্মা নদীর পাড়ে চিত্তবিনোদনের জন্য গড়ে তোলা হয় মনোরম স্পট। আধুনিকতার ছোঁয়া পায় নদীর ধার, বর্ণিল আলোতে আলোকিত হয় রাতের শহর। চারদিক পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যস্ত থাকে নগরের পরিছন্ন কর্মীরা। শহরের আইন শৃংখলা থাকে সহনীয় পর্যায়ে। শহরের বেকার সমস্যা দূর করার জন্য চেষ্টা করা হয়। সর্বোপরি এই নগরীকে শিক্ষা নগরীতে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়ার জন্য গড়ে তোলার জন্য অব্যাহত প্রচেষ্টা ছিল তাঁর। তিনি রাজশাহীতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর কর্ম প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন। তারই ফলশ্রুতিতে ইতোমধ্যেই রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আগামী রাজশাহী শহরকে যানজটমুক্ত করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। ফ্লাইওভার নির্মাণে পরিকল্পনা নিয়েছিলেন কিন্তু রাসিক-এ মেয়র বদলের পর সে উদ্য্গো থেমে যায়। আগামী প্রজন্মের জন্য গ্রহণ করা হয় রজাশাহী সিটির উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা। তৈরি হয় নতুন নতুন প্রশস্ত রাস্তা। সে সময়ই অবকাঠামোগত যে কাজগুলো সম্পূর্ণ হয় সেসব কাজের মানগুলোও চোখে পড়ার মত। উন্নয়নের মহাপরিকল্পনায় ছিল নভোঃথিয়েটারওÑ যার বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়েছে।
নগরের উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক স্বার্থের দিকে না তাকিয়ে স্থানীয় উন্নয়নের কথা সম্মানিত নাগরিকবৃন্দের ভাবা উচিত। কেন না ২০১৩ সালের নির্বাচনে যদি নগর পিতা হিসাবে লিটন ভাই নির্বাচিত হতেন তবে আধুনিক তিলোত্তমা রাজশাহী মহানগর গাঙ্গেয় ব-দ্বীপে একটি সমৃদ্ধ নগরী হিসাবে ধ্রুব তারার মত জ্বলজ্বল করতো বাংলাদেশের মানচিত্রে। কিন্তু বিধি বাম তিনি নির্বাচিত না হওয়ায় আমরা আমাদের ঈস্পিত লক্ষ্যে না পৌঁছিয়ে বরং পিছিয়ে গেলাম আমাদের লক্ষ্য হতে। তার কারণ এদেশে দীর্ঘ সময় কলোনিয়াম শাসন থাকায় এখানকার নাগরিকদের মধ্যে কলোনিয়ান মানসিকতা থেকে গেছে। জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মূল্যায়নের ব্যাপক ঘাটতি সর্বক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়। একারণে সরকার জীনবযাত্রার মানের যতই উন্নয়ন করুক না কেন সেদিকটা অবমূল্যায়িত হয়ে থাকে। অর্থাৎ সরকারে থেকে শুধু উন্নয়ন করেই সরকারের পক্ষে জনপ্রিয়তা বাড়ানো কষ্টকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে মাত্র। সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ যে দলের আদর্শতেই বিশ্বাসী হন না কেন সকলেই এক বাক্যে শিকার করবেন যে, লিটন ভাই ছিলেন নগরপিতা হিসাবে একজেন সফল ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে দক্ষ প্রশাসক, একজন দূরদৃষ্টি সম্পূর্ণ পরিকল্পনাবিদ। আসন্ন কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনে আমরা স্থানীয় সকল সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ বা সম্মানিত অধিবাসীবৃন্দ এবারের মেয়র নির্বাচনে আমরা যদি আমাদের এই প্রিয় শহরকে উন্নত দেশের শহরগুলোর পাশাপাশি দেখাতে চাই, তবে আমাদের উচিত হবে এই নগরীর স্বার্থে সুবিধার কথা, উন্নয়নের কথা এবং সমৃদ্ধির কথা চিন্তা করে আমাদের লিটন ভাইকে নির্বাচিত করা।
লেখক : আইনজীবী