০৩ জুলাই

আপডেট: July 3, 2020, 12:04 am

৩ জুলাই ১৯৪০ : শুরু হয় হলওয়েল মনুমেন্ট অপসারণ আন্দোলন। শেখ মুজিবুর রহমান এই আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেন। শেখ মুজিবুর রহমান তখন কলকাতা ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু হলওয়েল মনুমেন্ট অপসারণ করার দাবি তোলেন। কিন্তু সুভাষচন্দ্র বসুকে ১৯৪০ সালের ২ জুলাই তারিখে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

৩ জুলাই ১৯৬৬ : কারান্তরে শেখ মুজিবুর রহমান লিখেছেন, “মানিক ভাইকে বিজলী পাখা দেওয়ার হুকুম দিয়েছে। বেচারা একটু আরামে ঘুমাতে পারবেন। মানিক ভাই কষ্ট সহ্য করতে পারেন। যে কোনো কষ্টের জন্য তিনি প্রস্তুত আছেন, আমি জানি। তবু স্বাস্থ্য ভাল না। জীবনে বহু কষ্ট স্বীকার করেছেন। স্বাস্থ্য একবার নষ্ট হলে আর এ বয়সে ভাল হবে না। এই ভাবনাই আমার ছিল। …বিকেলে ঢাকার ন্যাপ কর্মী আবদুল হালিমকে হাসপাতালে নিয়ে চলেছে। দুই দিন থেকে ওর জ্বর। নতুন ২০ সেলের ১ নন্বর ব্লকে হালিম ও চারজন থাকেন। খুব নিকটে হলেও দেখা বা কথা বলার উপায় নাই। দরজা অন্য দিক থেকে। আমি এগিয়ে যেয়ে ওর মাথায় হাত দিলাম, খুবই জ্বর। বললাম, ‘হালিম তুমি যে দলই কর পূর্ব পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তোমার দান আছে। ১৯৪৯ সালে তুমি আমার সাথে আওয়ামী লীগ করেছ। তোমার যদি কোন জিনিসের প্রয়োজন হয় খবর দিও, লজ্জা করো না। তোমার ত্যাগকে আমি শ্রদ্ধা করি।’ সে হাসপাতালে চলে গেল। আমি মনে মনে ওর আরোগ্য কামনা করে বিদায় নিলাম।”

 

৩ জুলাই ১৯৫৩ : ৩ থেকে ৫ জুলাই ঢাকার মুকুল সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সম্মেলন। সভাপতি নির্বাচিত হন মাওলানা ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান।

 

৩ জুলাই ১৯৭২ : কুষ্টিয়াতে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশের ভাষণে রাষ্ট্রের চার মূলনীতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘চতুর্থ হলো ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। ধর্ম নিরপেক্ষ অর্থ ধর্মহীনতা নয়। মুসলমান মুসলমানের ধর্ম পালন করবে, কেউ কাউকে বাধা দেওয়া উচিত না। দিতে পারবে না। কিন্তু ওই ধর্মের নামে রাজাকার, ধর্মের নামে আলবদর, ধর্মের নামে আল শামস্ আর ধর্মের নামে ব্যবসা করতে বাংলাদেশের জনসাধারণ দেবে না, আর আমিও দিতে পারবো না। কারণ এই ধর্মের নামে পশ্চিমারা আমার মা-বোনকে হত্যা করেছে, আমার দেশকে লুট করেছে, আমার সংসার খতম করেছে, আমার মানুষকে গৃহহারা করেছে। সেই জন্য এ রাষ্ট্র চলবে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র।’ [সূত্র: ‘ইসলামের আলোকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’-মাওলানা মোহাম্মদ মাকছুদ উল্লাহ]