০৪ জুলাই

আপডেট: July 4, 2020, 12:08 am

০৪ জুলাই, ১৯৬৬: কারাগারে বসে বঙ্গবন্ধু লিখছেন, “…আমার মনে হয় পাকিস্তানকে একটি কারাগার ঘোষণা করলেই ভাল হয়, বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তানকে। জেলের মধ্যে সকলকে ভাত ও কাপড় দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। দেশটাকে জেলখানা ঘোষণা করে সকলকে খাওয়ার ও থাকার বন্দোবস্ত করার দায়িত্ব নিলেই তো সব গোলমাল থেমে যায়। আর মায়ের সামনে কচি শিশুও না খেয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরবে না। তোমাদের জুলুম যতই জোরে চলবে, গণআন্দোলন ততই জোরে শুরু হবে। অত্যাচার চরমে পৌছালে, গণআন্দোলও চরমে পৌঁছাবে। দেখে খুশী হয়েছি।

 

 

পশ্চিম পাকিস্তানের গভর্ণর নবাব কালাবাগ সাহেবের আমন্ত্রণক্রমে কয়েকজন সম্পাদক, মালিক এবং পাকিস্তান ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি বলেছেন, যদি ৫ জুালাই ধর্মঘট বন্ধ রাখা হয় তাহলে জনাব তোফাজ্জল হোসেনের গ্রেপ্তার ও নিউনেশন প্রেসের বাজেয়াপ্তের ব্যাপারে একটা সন্তোষজনক মিমাংসার জন্য তিনি চেষ্টা করতে রাজি আছেন, এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথেও আলোচনা করবেন। তাই সাংবাদিকরা ধর্মঘট স্থগিত রেখেছেন আগামী ২০শে জুলাই পর্যন্ত।” [সূত্র : কারাগারের রোজনামচা – শেখ মুজিবুর রহমান, পৃষ্ঠা- ১৪৫]

 

৪ জুলাই ১৯৭২ : বঙ্গবন্ধু কুমিল্লার এক জনসভায় দেয়া ভাষণে ঘুষখোর, চোরাকারবারী, চোর, গুন্ডা, বদমাইশদের বিরুদ্ধে জনগণকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে বলেন, “তোমাদের কোন ভয় নাই। আমি আছি। অন্যায় যে করে সেও পাপী। আর যে অন্যায় সহ্য করে সেও পাপী।”
৪ জুলাই ১৯৭২ : কুমিল্লার এক জনসভায় দেয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘তাই আমি বলি আমার ভাইয়েরা, আমার বোনেরা, আমার দেশের জনসাধারণ ভাইয়েরা, সোনার বাংলা গড়তে আমি পারবো না। আর একটু লোভ ত্যাগ করতে হবে। একটু চাটার অভ্যাস ত্যাগ কর। চাটার গোষ্ঠির জ্বালায় আমি তিতে হয়ে গেলাম। এই চাটার গোষ্ঠিকে আমি বার বার ওয়ার্নিং দিচ্ছি। চাটার গোষ্ঠি আমার দলেরই হোক, অন্য দলেই হোক, অন্য জায়গারই হও, তোমাদের আমি ক্ষমা করতে পারবো না। আল্লাহ্ও ক্ষমা করবে না। [সূত্র: ‘ইসলামের আলোকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’-মাওলানা মোহাম্মদ মাকছুদ উল্লাহ]