০৬ জুলাই

আপডেট: July 6, 2020, 12:12 am

৬ জুলাই ১৯৪৭ : ৬ ও ৭ জুলাই সিলেটে অনুষ্ঠিত গণভোটে মুসলিম লীগের বিজয়ের পিছনে শেখ মুজিবুর রহমানের অগ্রণী ভূমিকা ছিল। সিলেট পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হবে না ভারতের অংশ হবে এই বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নির্দেশে বঙ্গবন্ধুকে গণভোটে প্রচার প্রচারণার জন্যে সিলেটে যাওয়ার নির্দেশ দেন। বঙ্গবন্ধু সিলেটে যান তিনি তখন প্রায় ৫০০ মুসলিম লীগ কর্মীর নেতৃত্ব দেন।

৬ জুলাই ১৯৬৬ : এদিন কারাগারে বঙ্গবন্ধু ডায়রিতে লিখেছেন, “ … বিকালে চা খাবার সময় সিকিউরিটি জমাদার সাহেবকে আসতে দেখে ভাবলাম বোধহয় বেগম সাহেবা এসেছেন। গত তারিখে আসতে পারেন নাই অসুস্থতার জন্য। ‘চলিয়ে, বেগম সাহেবা আয়া।’ আমি কি আর দেরি করি। তাড়াতাড়ি পাঞ্জাবী পরেই হাঁটা দিলাম গেটের দিকে। সেই পুরান দৃশ্য। রাসেল হাচিনার কোলে। আমাকে দেখে বলছে, ‘আব্বা!’ আমি যেতেই কোলে এল। কে কে মেরেছে নালিশ হলো। খরগোস কিভাবে মারা গেছে, কিভাবে দাঁড়াইয়া থাকে দেখালো। রেণুকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘খুব জ্বরে ভুগেছ। এখন কেমন আছ?
‘পায়ে এখনও ব্যথা। তবে জ্বর এখন ভালই।’

বললাম, ‘ঠান্ডা লাগাইও না’।
আমার চারটা ছেলে মেয়ে স্কুল থেকে এসেছে। ছেলে দুইটাই বাসায় ফিরেছে। মেয়ে দুইটার একজন কলেজ থেকে, আর একজন স্কুল থেকে সোজা এসেছে। ছোট ছেলেটা রাস্তায় দাঁড়াইয়া থাকে কখন আমি গেটে আসবো।

ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া, মা, আব্বা, ভাই-বোনদের খোঁজ-খবর নিলাম। মা ঢাকা আসতে চান না। এতদূর আসতে তাঁর কষ্ট হবে- কারণ অসুস্থ। আব্বার বয়সও হয়েছে। আব্বা বাড়িতে। তাঁরও কষ্ট হয় সকলের চেয়ে বেশি। একলা আছেন। আজ অনেক সময় কথা বললাম। সবই আমাদের সাংসারিক খবর এবং আমি কিভাবে জেলে থাকি তার বিষয়ে। বাচ্চারা দেখতে চায় কোথায় থাকি আমি। বললাম, ‘বড় হও, মানুষ হও দেখতে পারবা’।

সময় হয়ে গেছে, ‘যেতে দিতে হবে।’ ফিরে এলাম আমার জায়গায়। হরলিক্স আর আম নিয়ে এসেছে। জিজ্ঞেস করলাম, ‘আমার জন্য না এনে বাচ্চাদের কিনে দেও তো।’
সন্ধ্যা হয়ে এল। ওদের বিদায় দিয়ে আমার স্থানে আমি ফিরে এলাম। মনে মনে বললাম, আমার জন্য চিন্তা করে লাভ কি? তোমরা সুখে থাক। আমি যে পথ বেছে নিয়েছি সেটা কষ্টের পথ।” [সূত্র : কারাগারের রোজনামচা – শেখ মুজিবুর রহমান, পৃষ্ঠা- ১৪৯-১৫০]