০৭ আগস্ট

আপডেট: August 7, 2020, 12:13 am

৭ আগস্ট ১৯৫৭ : শেখ মুজিবুর রহমান চীন সরকারের আমন্ত্রণে চিন সফরে গমন করেন।
৭ আগস্ট ১৯৬৬ : বঙ্গবন্ধু কারাগারে বসে লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আইয়ুব খান ছয় দিনব্যাপী সফরের জন্য পূর্ব পাকিস্তানে আগমন করেছেন। আমি আশ্চর্য হলাম, প্রেসিডেন্ট কিভাবে এসব কথা বলতে পারেন। নিশ্চয়ই তিনি সরকার সমর্থকদের সম্বন্ধে বলেছে। তিনি বলেছেন, ‘বিভেদ সৃষ্টিকারীদের কার্যক্রম যদি সকল সীমা অতিক্রম করে তাহা হইলে তাহাদের রোধ করিবার জন্য অন্য পন্থা অবশ্যই গ্রহণ করিতে হইবে।’ তিনি আরও বলেন, যে সকল বিভেদ সৃষ্টিকারী জাতীয় ঐক্য ও সংহতির বিরুদ্ধাচারণ করিতেছে তাহাদের বিরুদ্ধে রুখিয়া দাঁড়াইবার জন্য আবেদন করেন।
সরকার পক্ষে মি. আফসার উদ্দিন, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট, বিচার করছেন। ২ টা পর্যন্ত মামলা চলল। ৫ জন সরকারের পক্ষের সাক্ষী হাজির হয়েছিল। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের ১০ তারিখে মামলার তারিখ ঠিক হলো। বাকি সাক্ষ্য সেই দিন হবে। গতকাল তেজগাঁ থেকে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে এনেছে। ফজলে আলী ও আলমগীর কবিরকে ডিপিআর-এ ধরে এনেছিল। ২০ সেলের সামনে রেখেছিল, আজ তাদের অন্য জায়গায় নিয়ে গেল। যারা তাদের দিতে গিয়েছিল তাদের কাছ থেকে খবর পেলাম পুরাণা হাজতে নিয়ে গেছে। ভালই হয়েছে, নূতন লোক সেলে কষ্ট হতেছিল।
আজ আমার তিন মাস পূরণ হলো। ডায়রি লেখাও শেষ করলাম। আগামীকাল থেকে ছোটখাট ঘটনাগুলো লিখবো।
নোটিশ পেয়েছি আর একটা মামলা জেল গেটে হবে সে মামলাটাও বক্তৃতা করার জন্য। আব্দুল মালেক, ম্যাজিট্রেট, প্রথম শ্রেণী, নোটিশ দিয়েছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর জেলগেটে মামলা আরম্ভ হবে।
সিলেট আওয়ামী লীগ সম্পাদক আবদুর রহীম ও সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন আহম্মদ এডভোকেটকে পূর্ব পাকিস্তান ডিপিআর-এ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইয়ুব খান সাহেবের সফর উপলক্ষ্যে গোলমাল নাকি হয়েছিল তাঁর সভায়। ছাত্র ও ন্যাপ কর্মীদের কয়েকজনকেও গ্রেপ্তার করেছে।” [সূত্র : কারাগারের রোজনামচা – শেখ মুজিবুর রহমান, পৃষ্ঠা ১৯৩-১৯৪]
৭ আগস্ট, ১৯৭৩ : বঙ্গবন্ধুর পরামর্শে রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ৯৪ এর মাধ্যমে বীমা জাতীয়করণ করা হয়।
৭ আগস্ট ১৯৭৩ : কানাডার রাজধানী অটোয়াতে ১৯৭৩ সালের ২ আগস্ট থেকে ১০ পর্যন্ত কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনের ৭ আগস্ট এক সাংবাদিকদের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর সাথে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়াকুবু গাওয়ানের সাথে দেখা হয়। নাইজেরিয়া তখনও বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় নাই। সাদা পায়জামা পাঞ্জাবী, কালো মুজিব কোর্ট আর চাঁদর পরিহিত বঙ্গবন্ধু ছিলেন সেই অর্ভ্যথনা সভার সবচেয়ে দৃষ্টিকাড়া রাষ্ট্রনায়ক। চারিদিকে অনেক বিদেশি সাংবাদিক। তিন পিস ধোপদুরুস্ত স্যুট পরিহিত জেনারেল ইয়াকুবু পাওয়ান এগিয়ে এলেন বঙ্গবন্ধুর দিকে। বঙ্গবন্ধুকে সম্ভাষণ করেই তার বেমক্কা প্রশ্ন, ‘আচ্ছা প্রধানমন্ত্রী, বলুন তো অবিভক্ত পাকিস্তান ছিল একটি শক্তিশালী দেশ। কেন আপনি সেই দেশটিকে ভেঙে দিতে গেলেন?’ নাইজেরিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী বিয়াফ্রা আন্দোলন তখন গাওয়ানের দুশ্চিন্তার কারণ। বাংলাদেশের সফল সংগ্রাম থেকে বিয়াফ্রাবাসী অনুপ্রেরণা পেতে পারে সেই তাঁর ভয়। তবু একজন রাষ্ট্রনায়কের কাছ থেকে অন্য একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রতি এই ধরনের প্রশ্ন প্রত্যাশিত নয় মোটেও। তাঁর স্বভাবসিক্ত উচ্চ হাসিতে চারপাশের অবাক নীরবতা ভাঙলেন বঙ্গবন্ধু। তারপর গম্ভীর তর্জনি সংকেতে বললেন, ‘শুনুন মহামান্য প্রেসিডেন্ট, আপনার কথা হয়তো ঠিক। অবিভক্ত পাকিস্তান তো শক্তিশালী ছিল, তার চেয়েও শক্তিশালী হয়তো হতো অবিভক্ত ভারত। তার চেয়েও শক্তিশালী হতো সংঘবদ্ধ এশিয়া, আর মহাশক্তিশালী হতো একজোট এই বিশ্ব। কিন্তু মহামান্য প্রেসিডেন্ট চাইলেই কি সব কিছু পাওয়া যায়?’ কথাটি বলেই তাঁর গলার সাদা চাঁদরটি হাতে নিলেন বঙ্গবন্ধু। তুলে দিলেন হতবাক প্রেসিডেন্ট গাওয়ানের হাতে। বললেন, ‘এই নিন, বাংলাদেশের জনগণের তরফ থেকে আমার এই ক্ষুদ্র উপহার।’
৭ আগস্ট, ১৯৭৫ : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ গঠনের প্রস্তাব করেন। প্রারম্ভিক অর্থ হিসেবে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিকট একটি ৭ লাখ টাকার চেক অর্পণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু চেকটি গ্রহণের পরপরই ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ আলীর নিকট অর্পণ করেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংস্কৃতি তহবিল হতে এ অর্থ প্রদান করা হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু নির্মমভাবে নিহত হলে প্রস্তাবটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ আইন পাশ করেন – যা এখনও ক্রীড়াসেবীদের কল্যাণে কাজ করছে।