০৭ জুলাই

আপডেট: July 7, 2020, 12:08 am

৭ জুলাই ১৯৬৬ : বঙ্গবন্ধু কারাগারে বসে লিখেছেন, “নতুন বিশ সেলের দোতলায় একটা ব্লকে একজন কয়েদিকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। একে ‘জাল সেল’ বলা হয়। একে তো সেল, তার উপর জাল দিয়ে সামনেটা ঘেরা। ওকে একদিন আমি দেখেছি। আমার জায়গার কাছ দিয়েই দোতলার সিঁড়ি। চেহারাটা যে একদিন খুব ভাল ছিল সে সন্বন্ধে কোন সন্দেহ নাই। লোকটার নাম নেহার খাঁ। আজ ১৭ বছর জেলে আছে। যাদের যাবজ্জীবন জেল হয় তাদেরও ১২/১৩ বছরের বেশি খাটতে হয় না। একে ১৭ বছর রাখা হয়েছে কেন? খবর নিয়ে জানতে পারলাম, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল তখন জেল-মন্ত্রী এসেছিলেন জেল তদারক করতে। আট সেলে বন্দি করে রাখা হয়েছিল তাকে যাতে সে মন্ত্রী বাহাদুরের কাছে নালিশ করতে না পারে জেলের দুর্নীতি সন্বন্ধে। কারণ লোকটা বড় সাহসী, মুখের উপর সত্য কথা বলে দেয়। যখন মন্ত্রী সাহেব সেই সেলের পাশ দিয়ে যেতেছিলেন সে দেয়ালে উঠে চিৎকার করে বলেছিলো, ‘স্যার আমার নালিশ আছে।’

মন্ত্রী সাহেব জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘কে এই লোকটা?” তাঁকে বলা হয়েছিল লোকটা পাগল। তারপর মন্ত্রী সাহেব চলে যাবার পরে যা ঘটবার তাই ঘটল। তখনকার দিনের বড় সাহেবের হুকুমে জেলখানার পাগলাগারদ ৪০ সেলে এনে বন্দি করা হলো। এবং ঘোষণা করা হলো সে পাগল হয়ে গেছে। … নতুন সিভিল সার্জন সাহেব এসে ঘোষণা করেছেন, সে পাগল না। তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে লিখেছেন। বোধহয় শীঘ্রই মুক্তির আদেশ আসবে।

আমার কাছে খুব খারাপ লাগলো। আমাদের সরকারের সময়ই এ অত্যাচার হয়েছিল এজন্য লোকটা এখনও ভুগছে। এর পরেও আমি তিনবার জেলে এসেছি। কেহই আমাকে এ ঘটনা বলে নাই। আর বললেও আমি কি করতে পারতাম?” [সূত্র : কারাগারের রোজনামচা – শেখ মুজিবুর রহমান, পৃষ্ঠা- ১৫০-১৫১]