১নং খট্টেশ্বর রাণীনগর ইউনিয়ন পরিষদ আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে তরুণ ও নতুন মুখের হিড়িক

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১, ৬:০১ অপরাহ্ণ


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি:


দেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ডামাডোল বাজতে শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় শুরু হয়েছে আগাম নির্বাচনী প্রচার কাজ। ধীরে ধীরে চাঙ্গা হয়ে উঠছে নির্বাচনী এলাকাগুলো। অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা সাধারণ মানুষ ও দলের কর্তাব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন মোড়, রাস্তা ও জনমুখর স্থানগুলো রঙিন শুভেচ্ছা-পোস্টারে ছেঁয়ে ফেলেছে। আবার অনেকেই করোনা ভাইরাসকে কাজে লাগিয়ে শুরু করেছে আগাম গণসংযোগের কাজ।

এক সময় জেলার রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলা রক্তাক্ত জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিলো। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এই অঞ্চলে শান্তির সুবাতাস ফিরে এসেছে। রাণীনগর উপজেলা ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে গঠিত। এরমধ্যে ১নং খট্টেশ্বর রাণীনগর ইউনিয়ন পরিষদ হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন পরিষদ। এই ইউনিয়ন পরিষদ ১৩টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার হচ্ছে ১৯হাজার ৯শত ৬৪জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯হাজার ৮শত ৯২জন এবং নারী ভোটার ১০ হাজার ৭২জন। নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আনোয়ার হোসেন হেলাল ২০০৩ সালে এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ঐতিহ্যবাহী এই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী পরিবারের বেশ কিছু তরুণ ও শিক্ষিত যুবকের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জয়ের নাম জোরেসোরে শোনা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া জাকিরের সকল মহলে বেশ ভালো গ্রহণযোগ্যতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রাম পর্যায়ে যুবক ও তরুণদের মাঝে জাকিরের বেশ কদর রয়েছে।
এই বিষয়ে জাকির বলেন আমার বাবা এই ইউনিয়নের একজন সদস্য ছিলেন। তখন বাবার কাছে দেখেছি কিভাবে সমাজের গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য ভালো কাজ করতে হয়। আগামীতে যুবক ও তরুণদের নিয়ে এই ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের মাঝে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাকে সঠিক ভাবে পৌছে দিতে কাজ করতে চাই। তাই আসন্ন ইউপি নির্বাচনে দল যদি তৃণমূলের জনমত যাচাই করে আমাকে নৌকা প্রতিক দেন তাহলে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ।
প্রচার কাজে মাঠে রয়েছেন আরেক তরুণ মুখ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জামিনুল ইসলাম জনি। তিনি বলেন, আওয়ামী পরিবারে আমার জন্ম। এই রাজনীতি করতে গিয়ে আমার ছোট চাচাকে তৎকালীন সময়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে সর্বহারারা জবাই করে হত্যা করেছে। বর্তমানে চারদিকে তারুণ্যের জয়গান। বর্তমান প্রজন্মই দেশের চালিকা শক্তি। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এই পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।
মনোনয়ন প্রত্যাশী চন্দনা সারমিন রুমকি বলেন আমার স্বামী গোলাম মোস্তফা ১৯৯১ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যুবলীগের দায়িত্ব পালন করেছে। এই ইউনিয়নে ২০১২ ও ২০১৬ সালের নির্বাচনে আমার স্বামী চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ তাকে রাজনৈতিক ভাবে বিজয়ী হতে দেয়নি। তাই দল যদি আমাকে সুযোগ দেয় তাহলে আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে আমার স্বামীর রেখে যাওয়া স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে চাই।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবীব স্বপন বলেন আমি সদস্য থেকে আজ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি। যদি দল আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে নির্বাচনে অংশ নিবো তা না হলে দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষেই কাজ করবো।
উপজেলা বিএনপির আহŸায়ক রোকনুজ্জামান খাঁন রুকু বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি। যদি দল সিদ্ধান্ত নেয় যে বিএনপি ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে তাহলে আমরা প্রার্থীর তালিকা পাঠাবো। সেক্ষেত্রে কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দিবে আমরা তার হয়েই কাজ করবো।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সাংসদ আলহাজ্ব মো. আনোয়ার হোসেন হেলাল বলেন তৃণমূলের জরিপের ভিত্তিতে আমরা তালিকা পাঠাবো। পরবর্তিতে দল যাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিবে আমরা তার হয়েই কাজ করবো।