১০০০ একর জায়গাজুড়ে বিলাসবহুল আশ্রম ১০০-র উওপর দামি গাড়ি ধর্ষক গুরুর ডেরার ভিতর পেট্রল পাম্প, সিনেমা হল, স্টুডিও, স্কুল, হাসপাতালও

আপডেট: আগস্ট ২৯, ২০১৭, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


গত ১৫ আগস্টেই ৫০ বছরে পা দিয়েছেন তিনি। সেদিন ৩ ইঞ্চি মোটা, ৪২৭.২৫ বর্গফুটের কেক তৈরি হয়েছিল। তার উপরে একসঙ্গে দেড় লক্ষ মোমবাতি জ্বালানো হয়েছিল। ঝলমলিয়ে উঠেছিল প্রায় একশো একর জমির মাঝখানে আয়নায় মোড়া এক প্রাসাদ। তার নাম ‘বাবা কি গুফা’। দামি আসবাব, সোফা, পর্দায় সাজানো বিলাসবহুল সেই প্রাসাদেই বাস গুরমিত রাম রহিম সিংহের। সিরসায় ডেরা সাচা সৌদার এই সদর দপ্তর আসলে শুধু আশ্রম নয়। ছোটখাটো শহর।
নিরাপত্তার জন্য রয়েছে কন্ট্রোল রুম, গোটা ডেরা জুড়ে নজরদারি ব্যবস্থা। রাম রহিমের কনভয়ে রয়েছে বিলাসবহুল ১০০টি গাড়ি। তার মধ্যে ১৬টি কালো রঙের ফোর্ড এনডেভার। বাবা প্রাসাদ থেকে বের হলে সব গাড়ি তাবু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। বাবা নিজেই ঠিক করেন, তিনি কোন গাড়িতে উঠবেন। আশ্রমের মধ্যে সাধারণত নিজের ব্যাটারিচালিত গাড়িতেই ঘুরতেন তিনি।
ডেরা-র ভিতরেই চাল, ডাল, আনাজের চাষ হয়। হোটেল, সিনেমা হল, স্কুল, রেস্তরাঁ, মাল্টি-স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল, স্টুডিও, বায়ো-গ্যাস কারখানা, সংবাদপত্রের ছাপাখানা সবই রয়েছে। রয়েছে দু’টি পেট্রল পাম্পও। এক সঙ্গে ১০ হাজার জামাকাপড় কাচার ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াশিং মেশিনও রয়েছে। সিরসায় ডেরা সাচা সৌদার সদর দপ্তর লাগোয়া গুরমিত রাম রহিম সিংহের অনুগামীদের দোকান থেকে কিছু কিনলে ক্রেতাদের খুচরো মেটানোর জন্য নিজস্ব মুদ্রা-ব্যবস্থার চল রয়েছে। কেউ এই নিয়ে প্রশ্নও করে না।
ডেরা সচ্চা সৌদা সিরসায় একটি নিজস্ব বাজার তৈরি করেছে। সেখানে সব দোকানেরই নাম শুরু সচ্ দিয়ে। সিরসা ছাড়াও দেশেবিদেশে আরও ৪৬টি আশ্রম রয়েছে রাম রহিমের। রাম রহিম নিজেকে ‘মেসেঞ্জার অফ গড’ বলেন। তার ‘এমএসজি’ ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু-তেল-সাবানের মতো হাজারো সামগ্রীর ব্যাবসাও চলে এই আশ্রম থেকেই। আশ্রমে রাম রহিমের প্রবচন শুনতে দিনে গড়ে ৩০ হাজার লোক জড়ো হয়। মাত্র ছ’মিনিট ভক্তদের উপদেশ দেন। তারপরেই মঞ্চে ডিজে উঠে গান বাজাতে শুরু করে।
বিশ্বরেকর্ড করাতে রাম রহিমের জুড়ি নেই। ৫৩টি বিষয়ে বিশ্বরেকর্ড করেছেন তিনি। এর ১৯টির স্বীকৃতি দিয়েছে স্বয়ং ওয়ার্ল্ড গিনেজ বুক! এর মধ্যে আছে রক্তদানের জন্য সবচেয়ে বড় আয়োজন করা, বড় শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করা, বৃহৎ চক্ষু সেবাদান কেন্দ্র করা। মাত্র দু’সপ্তাহ আগেই সিরসার ডেরা-য় ‘মিউজিক্যাল কার্নিভাল’-এর আয়োজন হয়েছিল। ১২ আগস্ট রাতের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন অন্তত ৭০ লক্ষ মানুষ। মাঝরাতে মঞ্চে ওঠেন রাম রহিম। অদ্ভূতদর্শন লাল রঙের আলো ঝলমলে গাড়িতে। তার পর গান শোনাতে শুরু করেন। জলসা চলে রাত তিনটে পর্যন্ত। এখনও পর্যন্ত রাম রহিম অবশ্য শ’খানেক কনসার্ট করেছেন।
গুফায় তাকে ঘিরে থাকেন ২০৯ জন বাছাই করা শিষ্যা। তাদের চুল খোলা। পরনে সাধ্বীদের মতো দুধসাদা রঙের পোশাক। এরাই রাম রহিমের সেবা করেন। সেখানে আছে মেয়েদের স্কুল ‘পরীলোক’। তার সব পড়ুয়াই সুন্দরী। কারণ, রাম রহিম বাবাজি মনে করেন ‘খুবসুরত’ হলেই মেধাবী হয়। সেই গুফায় প্রবেশাধিকার আছে মাত্র কয়েক জনের। তাও আঙুলের ছাপ, চোখের মণি-র মতো বায়োমেট্রিক তথ্য মিললে তবেই ভিতরে যাওয়ার অনুমতি মেলে। ধর্মগুরু হলেও রাম রহিমের পছন্দ শিফনের রঙবেরঙের জামা, বাহারি জুতো। তার জামাকাপড় তৈরির জন্য নিজস্ব ফ্যাশন ডিজাইনার রয়েছেন। রয়েছেন নিজস্ব ‘হেয়ার ড্রেসার’-ও। একদিকে সিনেমার হিরো, দলিত সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘ইনসান’-এর মর্যাদা দেওয়া, রাজনৈতিক ক্ষমতা আর পেশীশক্তিÍ এই সব কিছুর মিশেলেই প্রায় আড়াই দশক ধরে গড়ে উঠেছে গুরমিত রাম রহিম সিং-এর ভক্তকুল।
তথ্যসূত্র: বর্তমান