১০ দেশেই কুক্ষিগত করোনা ভ্যাকসিন মারাত্মক অন্যায্য ও অন্যায়ের প্রতিকার কী?

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

পুঁজি কখনো মানবিক হয় না, পুঁজি নির্বিকার, অনুতাপহীন। মানবিক বিপর্যয়ের মুখেও পুঁজি নতুন নতুন উদ্যোমে স্ফীত হয়। পুঁজি নিজের প্রয়োজনে মানুষকে কাজে লাগায়, কিন্তু মানুষের প্রয়োজনে পুঁজি দৃষ্টিহীন। বৈশ্বিক করোনাকালে সেই সত্যই আবার বিশ্ববাসীর সামনে এলো। জাতিসংঘের আহ্বান ছিল কোডিড-১৯ ভ্যাকসিন যেন বৈশ্বিক সম্পদ হয়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই আহ্বানই জানিয়েছিলেন যে, ভ্যাকসিনের অধিকার যেন বিশ্ব মানুষের হয়। কিন্তু পুঁজি সে কথা মানবে কেন! বরং সুযোগ কাজে লাগিয়ে একচেটিয়া ব্যবসাটা করতে হবে। বিশ্ব বাস্তবতা তা-ই। করোনার দুঃসময়কালে ভ্যাকসিন কুক্ষিগত হয়েছে। ভ্যাকসিন পুঁজির স্বার্থেই ব্যবহার করা হচ্ছে।
দুনিয়া জুড়ে করোনাভাইরাসের যে পরিমাণ টিকা পাওয়া যাচ্ছে তার ৭৫ শতাংশ মাত্র দশটি দেশ ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চ-পর্যায়ের এক বৈঠকে তিনি এই তথ্য দেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের দেয়া তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ১৩০টি দেশ এক ডোজ টিকাও পায়নি। এই অবস্থাকে মারাত্মক অন্যায্য ও অন্যায় বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে টিকার সমতা বজায় রাখাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় নৈতিক পরীক্ষা’। সংবাদ মাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর জন্য টিকা নিশ্চিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গঠন করা কোভ্যাক্স কর্মসূচি ইতোমধ্যে প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে একই সময়ে ধনী দেশগুলো টিকাদান শুরু করতে সক্ষম হয়েছে। বেশ কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশ ইতোমধ্যে কোভ্যাক্স কর্মসূচির টিকার জন্য অপেক্ষা না করেই তা কেনার জন্য প্রাইভেট চুক্তি স্বাক্ষর করতে ছুটছে।
টিকার ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে সক্ষম বিজ্ঞানী, উৎপাদক এবং অর্থায়নকারীদের নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে পরিকল্পনা সাজানোর আহ্বান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব। সম্ভাব্য দ্রুত সময়ের মধ্যে দুনিয়ার সব মানুষের জন্য টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন দেশের সরকারি হিসেব অনুযায়ী দুনিয়া জুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এই ভাইরাসের কারণে মৃত্যু হয়েছে ২৪ লাখের বেশি মানুষের। কিন্তু তারপরও টিকা দান শুরু করতে পারেনি বহু দেশ। আর টিকা দেয়া শুরু করা দেশগুলোও ডোজ সংকটে ভুগছে।
কোভিড-১৯ সারা বিশ্বকেই কাঁপিয়ে দিয়েছে। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে তিব্র অসহায়ত্ব লক্ষ্য করা গেছে। তারপরেও ওইসব শক্তিধর দেশের শাসকদের মধ্যে মানবিকতা কাজ করেনি। ভ্যাকসিন আবিস্কারের সাথে সাথে সেটা নিজেদের কব্জায় নিয়েছে। সেটা নিয়ে এখন রমরমা ব্যবসার- উদগ্র বাসনা। নীতি-নৈতিকতার কোনো বালাই নেই। জাতিসংঘ মহাসচিব বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর জোট গ্রুপ ২০কে জরুরি টাস্ক ফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের এই আহ্বান অরণ্যরোদন মাত্র। কেননা শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তি কখনো কখনো ভিক্ষে দেয়, অবলম্বন হয় না। বর্তমান সময়ে অবলম্বনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা হয়নি। তদুপরি মানুষের ভেতরের শক্তিই মানুষকে এগিয়ে নিবে নিশ্চয়!

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ