১০ মাস থেকে বন্ধ উত্তরা এক্সপ্রেস

আপডেট: মে ২৭, ২০২৪, ৮:১৫ অপরাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা:


মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে উত্তরের পথের যাওয়া আসার ভরসা ছিল উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেন। কিন্তু নানা সঙ্কটের কারণে প্রায় ১০ মাস থেকে বন্ধ আছে এই ট্রেনটি। ট্রেনের যাত্রীদের দাবি, কম টাকায় যাওয়ার আসার জন্য জনপ্রিয় ছিল এই ট্রেন। রাজশাহী থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত ট্রেনটি যাওয়া আসা করলেও প্রায় সব স্টেশনে বিরতি আছে। তাই আবারও এই ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছে যাত্রী।

জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে ট্রেনটি চলছিল। এতে উপকৃত হচ্ছিল রাজশাহীসহ উত্তরের বাসিন্দারা। ট্রেনটি পার্বতীপুর স্টেশন থেকে রাত ৩টা ৩৫ মিনিটে রাজশাহী উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং সকাল ১০টা ১০ মিনিটে রাজশাহী স্টেশনে পৌঁছায়। আবার বেলা ১২.৩০টায় রাজশাহী থেকে ছেড়ে এসে রাত ৮.০৫ মিনিটে পার্বতীপুর রেল স্টেশনে পৌঁছায়।

এই ট্রেনের মাধ্যমে থেকে কাঁচামাল পরিবহন, আত্রাই থেকে মাছ ও সবজি ও বিভিন্ন স্টেশন থেকে সবজিও নিয়ে আসা হতো। বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বহন করা হতো। এতে ব্যয় কম হওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হতো সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। চালক সঙ্কটের কারণ দেখিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয় এ ট্রেন। ট্রেনটি পার্বতীপুর ইয়ার্ডে তিন নম্বর লাইনে ফেলে রাখা হয়েছে।

আড়ানীর মাছ ব্যবসায়ী ঝুন্টু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলে মাছের ব্যবসা করে আসছি। আত্রাইয়ে মাছ ক্রয় করে উত্তরা ট্রেনে নিয়ে এসে আড়ানী এলাকায় বিক্রি করি। কিন্তু ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেক অসুবিধায় পড়তে হয়েছে। এখন কয়েকগুন বেশি টাকা নিয়ে মাছ নিয়ে আসতে হচ্ছে।

আড়ানী রেল স্টেশন’র কুলির সরদার হোসেন আলী বলেন, আড়ানী এলাকার শত-শত মানুষ উত্তরে ব্যবসা করে একমাত্র উত্তরা ট্রেনের উপর নির্ভর করে। ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যায়ায় আমাদের পাশা-পাশি অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা বন্ধ করে বসে আছেন।

আড়ানীর ঝিনা গ্রামের বাদাম বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, দুই সন্তানসহ ৫ সদস্যের পরিবার। আমি উত্তরা ট্রেনে হকারি করে ৫ সদস্যের সংসার চালায়। প্রায় ১০ মাস থেকে ট্রেন বন্ধ থাকায় ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। ব্যবসা বন্ধ থাকায় বর্তমানে খুব কষ্টে আছি। ট্রেনটি চালু হলে খুব উপকার হতো।

বাউসা হেদাতিপাড়া গ্রামের অটোচালক আজগর মিয়া বলেন, আড়ানী থেকে আন্তঃনগর ট্রেনে রাজশাহী যেতে ভাড়া লাগে ৪৫ টাকা। উত্তরা ট্রেনে যেতে লাগতো ১৫ টাকা। গরীব মানুষ উত্তরা ট্রেন বন্ধ হওয়ায় অনেক অ-সুবিধায় পড়তে হয়। তাই গরীব মানুষ’র দিকে তাকিয়ে উত্তরা ট্রেনটি আবারও চালু করে উপকার করার জন্য তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

আড়ানী স্টেশন মাস্টার মোশারফ হোসেন বলেন, চালক সঙ্কটের কারণে উত্তরা মেইল ট্রেনটি গত ২৮ জুলাই থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়। ট্রেনটি বন্ধ হওয়ায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে জানি। তবে ট্রেনটি চালুর বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল চীফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ ভুঁঞা বলেন, উত্তরা ট্রেনটি চালক সঙ্কটের কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে। কোরবানির ইদের পর ট্রেনটি চালু করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ