১১ জুলাই

আপডেট: July 11, 2020, 12:05 am

১১জুলাই ১৯৬৬ : কারাগারে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, “আজ পাবনার রণেশ মৈত্রর সাথে দেখা হলে। ল’ পরীক্ষা দিতে পাবনা থেকে আনা হয়েছিল। দুই একদিনের মধ্যে চলে যাবেন এখান থেকে। বললাম, ‘আপনার ছেলেমেয়েদের খবর কি?’ বললেন, ‘কি আর খবর, না খেয়েই হয়তো মারা যাবে। স্ত্রী ম্যাট্রিক পাশ। কাজ কর্ম কিছু একটা পেলে বাঁচতে পারতো; কিন্তু উপায় কি! এক তো হিন্দু হয়ে জন্মগ্রহণ করেছি, তার উপর রাজবন্দি, কাজ কেউ দেবে না। একটা বাচ্চা আছে। বন্ধু-বান্ধব সাহায্য করে কিছু কিছু, তাতেই চালাইয়া নিতে হয়। গ্রামে বাড়িতে থাকার উপায় নাই।’ মৈত্র কথাগুলি হাসতে হাসতে বললো। মনে হলো তাঁর মুখ দেখে এ বড় দুঃখের হাসি।

 

সন্ধ্যায় তালা বন্ধ করার সময় বাইরের দরজাটা একটু খুলেছিল, তাই দেখা হয়ে গেল হঠাৎ। আবার বললাম, ‘পাবনা যাবেন বোধ হয়। বন্ধু মোশতাককে পাবনায় জেলে নেয়া হয়েছিল। বোধহয় সেখানে আছে, কেমন আছে জানি না। তাকে খবর দিতে বলবেন।’

… খবরের কাগজ এসেছে অনেক বেলায়। কোনো খবর নাই। তবে আতাউর রহমান সাহেবের একটি বিবৃতি আছে খাদ্য সমস্যার উপর – মোনয়েম খাঁ সাহেব সরকারি প্রেস নোটের প্রতিবাদ করে। ঘরে বসে বিবৃতি দিয়ে চাউলের দাম কমানো যায় না। সক্রিয় কর্মপন্থা দরকার। সে সাহস জনাবদের নাই। বিবৃতি ও বক্তৃতা দিয়েই নেতা হয়ে থাকতে চান আমাদের দেশের কিছু সংখ্যক রাজনীতিবিদ।” [সূত্র : কারাগারের রোজনামচা – শেখ মুজিবুর রহমান, পৃষ্ঠা- ১৫৭]