১১ মার্চ

আপডেট: মার্চ ১১, ২০২১, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

১১ মার্চ ১৯৪৮ : অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে সাধারণ ধর্মঘটের বিস্তারিত কর্মসূচী সম্পর্কে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং শহরের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণ ধর্মঘট পালিত হয়েছিল। ধর্মঘটের সমর্থনে পিকেটিং করার সময় আহত শওকত আলীকে রিক্সা করে হাসাপাতালে নিয়ে যান শেখ মুজিবুর রহমান।
১১ মার্চ ১৯৪৮ : সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে ঢাকায় ধর্মঘট পালিত হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সচিবালয়ের সামনে ছাত্রদের অবস্থান ধর্মঘট পালিত হয়। ধর্মঘট পালনকালে শেখ মুজিবসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, কাজী গোলাম মাহবুব, শওকত আলীসহ বহু কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বঙ্গবন্ধু পাঁচ দিনের কারাবাসটি ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের চতুর্থ কারাবাস। পরে পূর্ব বাংলার মূখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়ে সকলকে মুক্তি দেন। এর আগে ১৯৪০ সালে গোপালগঞ্জ স্কুলে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেওয়ার কারণে শেখ মুজিব গ্রেপ্তার হন। অবশ্য মুক্তি পান সঙ্গে সঙ্গেই। একইভাবে গোপালগঞ্জে সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশেমের সফর উপলক্ষে এক সভায় গোলগুলি হলে মিথ্যা অজুহাতে শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হয় এবং কয়েকদিন জেল খাটেন।
১১ মার্চ ১৯৫১ : রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসাবে বিপুল উৎসাহে পালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম কমিটি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে গণপরিষদের সদস্যদের কাছে স্মারকলিপি পাঠায়।
১১ মার্চ ১৯৫৩ : ঢাকা বার লাইব্রেরি হলে ‘রাষ্ট্রভাষা দিবস’ উপলক্ষে একটি সভা হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ অমান্য করে সভাটি করা হয়। সেখানে সরকারি রিপোর্টার ও পুলিশ অফিসারদের নোট গ্রহণে বাধা দেওয়া হয়। এ কারণে শেখ মুজিব ও আরো তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রুজু করা হলে শেখ মুজিব আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে জামিন দেয়া হয়। [সূত্র : বঙ্গবন্ধু কোষ – মুনতাসীর মামুন, পৃষ্ঠা-৯৫]
১১ মার্চ ১৯৬৪ : সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি গঠিত হয়। দাঙ্গার পর আইয়ুববিরোধী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য বঙ্গবন্ধু উদ্যোগ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ১৪ দিন পূর্বে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়।
১১ মার্চ ১৯৭১ : আজ অগ্নিঝরা মার্চের ১১ তম দিন। ১৯৭১ সালের রক্তঝরা মার্চের উত্তাল অসহযোগ আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়ের আজ চতুর্থ দিবস। সারাদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর ডাকে শান্তিপূর্ণভাবে সর্বাত্মক অসহযোগ পালন করে। গত কয়েক দিন ধরেই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সর্বত্র ‘সংগ্রাম পরিষদ’ গড়ে তোলার কাজ চলতে থাকে। এদিন বর্ষীয়ান মজলুম নেতা মওলানা ভাসানী টাঙ্গাইলে এক জনসভায় সকল রাজনৈতিক পক্ষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সাত কোটি বাঙালির নেতা শেখ মুজিবের নির্দেশ পালন করুন।’
১১ মার্চ ১৯৭১ : বঙ্গবন্ধুর ডাকে অসহযোগ আন্দোলনের এই দিনে কেন্দ্রীয় ছাত্র পরিষদ ২৩ মার্চ প্রতিরোধ দিবস পালন করা হবে বলে ঘোষণা করে।
১১ মার্চ ১৯৭৪ : বঙ্গবন্ধু কুমিল্লা সেনানিবাসে দেশের প্রথম সামরিক একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন।