১১ মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩.৬৭ শতাংশ

আপডেট: জুন ৭, ২০১৭, ১:১১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বিদায়ী অর্থবছরের এগারো মাসে (জুলাই-মে) পণ্য রপ্তানি করে ৩ হাজার ১৭৯ কোটি (৩১.৭৯ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ।
এই অংক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ কম।
সর্বশেষ মে মাসে ৩০৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার আয় হয়েছে। যা গত বছরের মে মাসের চেয়ে ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ কম।
গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে প্রায় ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও এবার সেই হার ধরে রাখতে না পারার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির বহুমুখী প্রতিকূলতার কারণে প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাক খাতে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
“তবে, আমাদের প্রধান দু’টি রপ্তানি বাজারের মধ্যে ইউরোপিয় ইউনিয়ন অঞ্চলে রপ্তানি ইতোমধ্যেই অনেকখানি বেড়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত হওয়ায় এ বাজারেও আমাদের রপ্তানি পরিমাণ অনেকখানি বাড়বে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
সোমবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম এগারো মাসে (জুলাই-মে) পণ্য রপ্তানি থেকে যে ৩ হাজার ১৭৯ কোটি ডলার আয় হয়েছে তার মধ্যে দুই হাজার ৭৩৮ কোটি ৪৬ লাখ (২৭.৩৮ বিলিয়ন) ডলারই এসেছে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ২১ শতাংশ।
এর মধ্যে নিট খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ১৬ শতাংশ। উভেনে প্রবৃদ্ধি হয়নি; উল্টো কমেছে দশমিক ৩৩ শতাংশ।
তৈরি পোশাক খাত থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ আয় কম এসেছে। নিটে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম আয় হয়েছে ২ দশমিক ০৯ শতাংশ। উভেনে ১০ দশমিক ২১ শতাংশ।
মোট রপ্তানি আয়ের ৮২ দশমিক ১০ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে।
গত অর্থবছরের এই ১১ মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে দুই হাজার ৫০৮ কোটি ৩৬ লাখ (২৫.০৮ বিলিয়ন) ডলার আয় হয়েছিল।
অন্য খাতের মধ্যে জুলাই-মে সময়ে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি থেকে আয় কমেছে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
চামড়া রপ্তানি ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ কমলেও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানির বেড়েছে ১৯ শতাংশ। জুতা রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ১৪ শতাংশ। কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ৯১ শতাংশের মত। এছাড়া ওষুধ রপ্তানি ১১ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে ৩ হাজার ৭০০ কোটি (৩৭ বিলিয়ন) ডলার।
গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি করে ৩ হাজার ৪২৫ কোটি ৭১ লাখ (৩৪.২৫ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ, যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০১৪-১৫) চেয়ে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ