১৩ জুলাই

আপডেট: জুলাই ১৩, ২০২০, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

১৩ জুলাই ১৯৫৭ : এ দিনে বঙ্গবন্ধু চিন সফর শেষ করেন। তাঁর চিন সফর শুরু হয়েছিলো ১৯৫৭ সালের ২৪ জুন। সফরটি ছিল সরকারি সফর। প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী শেখ মুজিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিলেন চিন সফরে। এ সময় তিনি মাও সে তুং ও চৌ এন লাইয়ের সাথে দু’দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বৈঠক করেন। বঙ্গবন্ধু চিনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দেখার জন্য এ সময় বেশ কয়েকটি শহর ও গ্রাম ঘুরে দেখেন। চিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলকে প্রাণঢাল সংবর্ধনা জানানো হয়। [সূত্র : বঙ্গবন্ধু কোষ – মুনতাসীর মামুন, পৃষ্ঠা – ১০৪]

 

১৩ জুলাই, ১৯৬৬ : কারাগারে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, “ …সকালেই খবর পেলাম চটকল শ্রমিক ফেডারেশন সেক্রেটারি জনাব মান্নান জামিন পেয়েছে। আজই চলে যাবে, আমার সামনেই বিশ সেলে ছিল, সাধারণ কয়েদি করে রাখা হয়েছিল। রাতে ও মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠতো। শুনতাম রাতভর জেগে বসে থাকতো। ডিপিআর অস্ত্র নিক্ষেপ করে বিনা বিচারে বন্দি করে রাখতেও পারতো। যাহা হউক, শেষ পর্যন্ত যেতে দিয়েছে। এত কষ্ট করার পরও মান্নানের মুখে হাসি দেখেছি। মোটেই ভয় পায় নাই। তার উপর আমার বিশ্বাস আছে- শ্রমিকদের স্বার্থ বিসর্জন সে দিবে না, তথাকথিত শ্রমিক নেতাদের মতো।

আজ বিকালে পাবনার রামললিতকে অন্যত্র পাঠাইয়া দিয়েছে। …দেখা হয়ে গেল রণেশ বাবু যেতেছেন। তাকে আদাব করে বিদায় দিলাম, আর বললাম, ‘যদি পাবনা জেলে যান তবে বন্ধু মোশতাককে বলবেন চিন্তা না করতে। আমাদের ত্যাগ বৃথা যাবে না।’ জমাদার সাহেব তালাবন্ধ করতে এলেন। বৃষ্টির দিন তাড়াতাড়ি বন্ধ করে দিয়ে বিদায় হলেন। [সূত্র : কারাগারের রোজনামচা – শেখ মুজিবুর রহমান, পৃষ্ঠা- ১৬০-১৬১]
১৩ জুলাই ১৯৭২ : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণা দেন। সরকারের মুখ্যসচিব আব্দুর রবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু।
১৩ জুলাই ২০১৭ : বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। তিনি বঙ্গবন্ধুকে এই অঞ্চলের মহান নেতা আখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁর ত্যাগ বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করে যাবে। এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনে বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য পূরণের অংশীদার হতে পেরে শ্রীলঙ্কা গর্বিত।

চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা ১৯৯৪ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ঘুরে দেখে তিনি লিখে গেছেন, এ এক গভীর মর্মস্পর্শী অভিজ্ঞতা। এমন একজন মহৎ মানুষকে নিছক বুলেটবিদ্ধ করে হত্যা করা হলো। তবে তাঁর অর্জনের স্মৃতি এ দেশে বেঁচে থাকবে। তাঁর অনুসারী এবং কন্যা যেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উচ্চতায় বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে সক্ষম হন, এমন প্রত্যাশা রেখে গেছেন চন্দ্রিকা।