১৩ বছর পর আগামী ৩ সেপ্টেম্বর নাটোর জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন

আপডেট: আগস্ট ১০, ২০২২, ১০:১৫ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি :


দীর্ঘ্য ১৩ বছর পর এক উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে বিক্রি শেষ হয়েছে নাটোর জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক সাধারণ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র। বুধবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০ থেকে শুরু করে বেলা দুইটা পর্যন্ত চলে মনোনয়নপত্র বিক্রির কার্যক্রম। তবে এ নির্বাচনে সভাপতি পদে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের সামনে মারপিটের শিকার হন মিঠুন নামে এক শ্রমিক সহ ৩জন। মিঠুন শহরের ভবানী গঞ্জের এলাকার বাসিন্দা। এদিন বেলা ১১টার দিকে শহরের হরিশপুর এলাকায় শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসে এই ঘটনা ঘটে। এসময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। সভাপতি সাধারন সনম্পাদক সহ মোট ১৩টি পদে মোট ৪৬ টি মনোনয়নপত্র বিক্রয় করা হয়। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৪জন এবং সাধারন সম্পাদক পদে ৫জন।

এদিকে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় সাময়িক সময়ের জন্য নির্বাচনী মনোনয়নপত্র বিক্রির স্থগিত ঘোষণা করেন, নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা খাতুন। এসময় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয় । এসময় নির্বাচনের সাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার দাবীতে শ্রমিক অফিসের সামনে সাধারন শ্রমিক সদস্যরা বিক্ষোভ করতে থাকলে পরে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী-লীগের সাধারন সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা দেন, সবাই যাতে এই নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারে। এখাানে কারো দখল দারিত্ব চলবেনা। শ্রমিকরা যাকে পছন্দ করে তাকেই নেতা নির্বাচিত করবেন।

তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সৈয়দ মোর্তুজা আলী বাবলু জানান, মনোনয়নপত্র বিক্রির সময় কিছু অপ্রীতিকর ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য মনোনয়নপত্র বিক্রি স্থগিত রাখা হয়। তারপর পরিস্থিতি সব শান্ত রয়েছে। ইউএনও নির্বাচন স্থগিতের কথা বলেছে এটা তার দায়িত্ব। তবে তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন কার্যক্রম চলবে।

নাটোর জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্য্যলয় সুত্রে জানা যায়, জেলা পর্যায়ে এই শ্রমিক সংগঠনে মোট ৪হাজার ৬শ ৪৪ জন সদস্য রয়েছেন। আগামী ৩সেপ্টেম্বর নাটোর জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে উপলক্ষে বুধবার ছিল মনোনয়নপত্র বিক্রয় করার দিন। কিন্তু বেলা ১১টার দিকে মিঠুন সহ ৩/৪জন শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসে এসে সভাপতি পদে মনোনয়ন ফরম কিনতে চায়। কিন্তু নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা ওই পদে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করতে অপারগতা জানায়।

এসময় কিছু শ্রমিকরা মিঠুন সহ তিনজনকে পুলিশের সামনেই মারপিট করতে থাকে। পরে পুলিশ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার সৈয়দ মোর্ত্তুজা আলী বাবলু মিঠুন সহ অন্যদের উদ্ধার করে। এই ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে শ্রমিক ইউনিয়ন অফিস এলাকায়।
যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে।

পরবর্তীতে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসে এসে নির্বাচন কমিশন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে ইউনিয়নের গঠণতন্ত্র দেখাতে বলেন। কিন্তু তাৎক্ষনিক ভাবে নির্বাচন কমিশন শ্রমিক ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র দেখাতে পারেনি।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা খাতুন বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় সাময়িক সময়ের জন্য নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। কমিশনের কাছে গঠনতন্ত্র দেখতে চাওয়া হয়েছে। গঠণতন্ত্রে কি আছে, সেটা দেখে পরবর্তী নির্বাচনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার সৈয়দ মোর্তুজা আলী বাবলু বলেন, শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি পদটি সম্মানজনক। লেবার কোর্টের আইন প্রনোয়ন করেছেন, সেই কারনে অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে সভাপতি চায় সাধারণ শ্রমিকরা। তাছাড়া শ্রমিক ইউনিয়নের গঠণতন্ত্র মোতাবেক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সভাপতি হিসেবে থাকবেন। এই কারনে ওই পদে কোন ভোট গ্রহন হবে না। ১৯৮৩ সাল থেকে এভাবেই চলে আসছে। কিন্তু কিছু শ্রমিক নামধারি মনোনয়নপত্র ক্রয় করতে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। আর আমাকে আদালত বা কেউ নির্বাচন স্থগিতের বিষয় বলেনি। যার কারণে তফসিল অনুয়ায়ী নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

এদিকে,দীর্ঘ দিন পর নাটোর জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে শ্রমিকদের মধ্যে একধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কেউ নির্বাচন বানচাল করার চেস্টা করলে তাদেরকে প্রতিহত করার ঘোষণাও দিয়েছেন প্রার্থীরা। আগামি ৩ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।