১৩ মাসে বছর! ৬০ কৃষকের পুকুর জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

আপডেট: আগস্ট ৮, ২০২২, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


১৩ মাসে ১ বছর বানিয়ে ৬০ জন কৃষকের ৭৬ বিঘা জমির পুকুর দখলের অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর দূর্গাপুর উপজেলার ৪ নং দেলুয়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। সোমবার (৮ আগস্ট) দুপুর ৩ টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রেন্টু কর্তৃক পুকুর দখলের প্রতিবাদ ও তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী কৃষকরা।

রাজশাহীর দূর্গাপুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের ওই পুকুর পাড়ে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় ভুক্তভোগী কৃষকরা বলেন, তারা ৬০ জন কৃষক ওই জমি ১০ বছরের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রেন্টুর কাছে লিজ দিয়েছিলেন। সময় শেষ হলে তার জমিটি ছেড়ে দেয়ার কথা। গত আষাঢ় মাসে জমি লিজ দেয়ার ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু চেয়ারম্যান দলিলে ১৩ মাসে বছর বানিয়েছেন। তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে জমি কৃষকদের বুঝিয়ে না দিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে জবর দখল করে খাচ্ছেন। যা সম্পূর্ণ অন্যায়। এই অন্যায়ের প্রতিকারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

চেয়ারম্যান রেন্টুর থেকে পুকুর দখলমুক্ত ও ন্যায্য পাওনা পুকুর মালিকদের বুঝিয়ে দেয়াসহ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দূর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগও দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ওই লিখিত অভিযোগের অনুলিপি রাজশাহী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, দূর্গাপুর সহকারী কমিশনার ভূমি ও দূর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে দেয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষক সুলতান বলেন, আমরা ১০ বছরের জন্য জমি লিজ দিয়েছিলাম। আমার পোনে ৩ বিঘা জমি দেয়া আছে। কিন্তু চেয়ারম্যান ১৩ মাসে বছর করে কৃষকদের ভোগান্তির মধ্যে ফেলে জবরদখল করে খাচ্ছে। আমরা সাধারণ কৃষক অতটা শিক্ষিত না। আর ১৩ মাসে বছর হয়; এটা তো এই চেয়ারম্যানের আবিষ্কার। প্রতারণার মাধ্যমে সে ১৩ মাসে বছর বানিয়ে কৃষকদের থেকে সই করে নিয়েছে।

কৃষক লোকমান আলী জানান, তার অন্যান্য ভাগিরা একমত হয়ে রিয়াজুল চেয়ারম্যানের কাছে লিজ দিয়েছিলো। আজ নতুন শুনলাম ১৩ মাসে বছর হয়। এর ঘোর প্রতিবাদ আমি জানাচ্ছি। এখানে মসজিদের জমি আছে। অসহায় কৃষকদের জমি আছে। এদের ফাঁকি দিয়ে জমি খাচ্ছে। ১৩ মাসে বছরের চেয়ারম্যান আরেকটা মাসের নাম বলুক।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রেন্টু বলেন, ১৩ মাসে বছর ধরে জমি মালিকদের সম্মতিতেই আমি লিজ নিয়েছিলাম। সেই কাগজ আমার কাছে আছে। আর আমি প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছি এটা মিথ্যা। স্কুলের শিক্ষক, প্রফেসর এরা না পড়েই সে সময় স্বাক্ষর করেছিলো কি? কিছু স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আর বছরে ৯ হাজার বিঘা করে কৃষকদের থেকে জমি লিজ নিয়েছিলাম। সেই জমি আমি আরেক জনের কাছে লিজ দিয়েছি। আর হিসেবে এখনো ৯ মাস সময় আছে।

এ বিষয়ে জানতে দূর্গাপুর উপজেলা ইউএনও সোহেল রানার মুঠোফানে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি বিকেলে শুনেছেন। তবে কেউ তার কাছে কোন অভিযোগ জানান নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ