১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউন: রাজশাহীর মার্কেট-শপিংমলে ক্রেতার ভিড়, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০২১, ৯:১০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


১৪ এপ্রিল থেকে পরবর্তী সাত দিন কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। লকডাউনের খবরের পর রাজশাহীর মার্কেট-শপিংমলে শুরু হয়ে গেছে ইদের কেনাকাটা। কেনাকাটায় হাতে আর মাত্র কয়েকদিন সময় এমন ভাবনারই প্রতিফলন মার্কেটগুলোতে। ইদের আগে এই লকডাউন আর ছুটবে না এমন শঙ্কার কথা জানিয়ে কেনাকাটা করতে ভিড় জমাচ্ছেন মার্কেটে। করোনার স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা না থাকায় সামাজিক দূরত্ব কিংবা বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতেও উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। অথচ শর্ত সাপেক্ষে দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলো সরকার। কিন্তু সেই শর্ত আর স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিতই রয়ে গেছে। আর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে দিনের বেলা বাজারগুলোতে প্রশাসনিক তেমন কোনো তৎপরতাও দেখা যায়নি।
শনিবার (১০ এপ্রিল) রাজশাহীর বাজারগুলোতে সকাল থেকেই ক্রেতাদের আনাগোনা ছিলো চোখে পড়ার মতো। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীর প্রায় সব মার্কেটের দোকান খুলেছেন ব্যবসায়ীরা। ফুটপাতেও পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। এতে বাজারগুলোতে ইদের বাজার মতই ভিড় দেখা গেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি।
নগরীর কোর্টবাজার, মাস্টারপাড়া, সাহেববাজার, নিউমার্কেট, গণকপাড়া, কাপড়পট্টি ও আলুপট্টি এলাকাসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নগরীর প্রায় সকল মার্কেট, শপিংমল ও শো-রুমগুলো খোলা রয়েছে। শপিংমলগুলোর চেয়ে মার্কেটগুলোতে ভিড় ছিলো বেশি। শো-রুমের কর্মচারীদের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে আগ্রহ দেখা গেলেও মার্কেটগুলোর কর্মচারীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিতই ছিলো। এছাড়া নগরীর মিষ্টান্ন দোকানগুলোতে অন্যান্য সময়ের চেয়ে ভিড় বেশি ছিলো।
শো-রুম ও মার্কেট ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারিভাবে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের দোকান খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। ইদের আগে রমজানের পূর্ব-মুর্হূতের এ সময় থেকেই তাদের বেচাকেনা বাড়ে। কিন্তু এই লকডাউনের কারণে কয়েকদিন তেমন কোনো ক্রেতা ছিলো না। কিন্তু ১৪ তারিখ থেকে কড়াকড়ি লকডাউন আসবে এমন খবরে ক্রেতা বেড়েছে।
স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছেন সরকারি নির্দেশনানুযায়ী মাস্কসহ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাতে। কিন্তু কেউ কেউ হয়তো অলসতার কারণে মাস্ক পরছেন না। আর ভিড় বাড়লে রাজশাহীর বর্তমান বাজার অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা কষ্টকর হয়ে যায়। তবে একেবারে স্বাস্থ্যবিধি যে মানছেন না এমনটা না।
নগরীর আরডিএ মার্কেটে বাজার করতে এসেছিলেন তাসলিমা খাতুন। তিনি জানান, তিনি সাধারণত রমজানের প্রথম দশদিনের মধ্যে ইদের কেনাকাটা করে থাকেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে গতবার তেমন কিছুই কেনা হয়নি। এবারও ১৪ তারিখের পর কঠোর লকডাউনের ঘোষণা এসেছে। তাই আগেই কিছু বাজার করে রাখছি।
নগরীর কাঁচাবাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় ছিলো। মাস্টারপাড়া ও সাহেববাজার কাঁচাবাজারে পা রাখার জায়গা ছিলো না। এখানেও অধিকাংশ ব্যবসায়ীর মুখে মাস্ক ছিলো না। ছিলো না সামাজিক দূরত্বেরও কোনো বালাই।
এ বিষয়ে রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী জানান, সামনে কড়াকড়ি লকডাউন আসছে এখন খবরেরই মূলত আজকে ক্রেতা সমাগম বেড়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্যবিধি অনেক ক্ষেত্রে নিশ্চিত হচ্ছেনা। আসলে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে বাজার কমিটির সদস্যদের নিয়ে প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে। সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। কেননা দোকান মালিকরা হয়তো সচেতনভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন। কিন্তু এখানকার অনেক কর্মচারী আছেন যাদের মধ্যে করোনা নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা আছে।
এদিকে, লকডাউনের গতকয়েক দিনের চেয়ে দিনের বেলা বাজারগুলোতে পুলিশের মনিটরিং বেশি লক্ষ্য করা গেছে। পুলিশের উপস্থিতি থাকলে সেখানে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত হচ্ছে। কিন্তু তারা চলে গেলেই উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি।
এ বিষয়ে আরএমপি মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে মার্কেট, শপিংমল খোলা রাখার নির্দেশনা এসেছে। তারা এই নির্দেশনা অনুযায়ী মার্কেটগুলো মনিটরিং করছেন। ব্যবসায়ীদের সচেতন করছেন। এক্ষেত্রে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যত্যয় ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।