১৪ দলে টানাপোড়েন অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির দ্রুত উত্তরণ হোক

আপডেট: আগস্ট ১৪, ২০২২, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলে চলছে নানা টানাপোড়েন ও মতপার্থক্য। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। এই সংবাদ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষদের জন্য অস্বস্তিকর। দেশে এই মানুষেরাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ। দেশ যে মুহূর্তে জাতীয় নির্বচনে প্রবেশ করতে যাচ্ছে তখন এ ধরনের সংবাদ উদ্বেগেরই কারণ বটে। এটা অনাকাক্সিক্ষত ও অপ্রত্যাশিত।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপে জোটের অন্য দলগুলো একমত হতে পারছে না। বরং বিভিন্ন ইস্যুতে প্রকাশ্য মতপার্থক্য বাড়ছে। এর মধ্যে কোনো কোনো দল প্রকাশ্যে সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছে এবং এর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এর আগে ভোজ্যতেলের সংকটসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়েও সোচ্চার হয়ে ওঠে ১৪ দলের শরিকরা।
শরিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকাটা অস্বভাবিক কিছু নয়। অনেক সময় রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে মতপার্থক্য ও সমালোচনা হতে পারে। কিন্তু টানাপোড়েনের লক্ষণটা মোটেও স্বাভাবিক নয়। এই পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে শরিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হওয়ার সম্ভাবনা ছোট হয়ে আসতে পারে। পরিণতিতে আরো দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে। ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগের দায়িত্বটা প্রথমেই চলে আসে। টানাপোড়নের কারণ সমূহের নিরসন করার উদ্যোগে আওয়ামী লীগকেই এগিয়ে আসতে হবে।
দেশে এখন উগ্রসাম্প্রদায়িক গোষ্ঠির বাড়-বাড়ন্ত চোখে পড়ার মত। চলমান উন্নয়ন ধারা বাধাগ্রস্ত করতে এবং সরকারকে যে কোনো মূল্যে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ক্রমশ প্রকট হয়ে আসছে। গণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে নিরবে- নিভৃতে যেমন তৎপরতা চলছে, প্রকাশ্যেও স্বাধীনতাবিরোধেী শক্তির আস্ফালন শুরু হয়েছে। এটা অনুমান করা কষ্টকর নয় যে, ২০২৩ সালের শেষে কিংবা ২০২৪ সালের প্রথমেই জাতীয় নির্বাচন হবে। সামনের সময়গুলো অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যেতে পারে। আত্মঘাতমূলক ঘটনা ঘটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য দিয়েই ওই অপশক্তিকে মোকাবিলা করতে হবে। এর অন্য কোনো বিকল্প আছে বলে মনে হয় না। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের উদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সমাধান করতে হবে। শরিকদল যারা আছেন, তাদেরও সময়ের জটিল মুহূর্ত বিবেচনা নিয়েই সামনের দিকে এগোতে হবে- যাতে দুকূলই হারাতে না হয়। টানাপোড়েনে যাতে এগোনোর পথ হারাতে না হয়- তা উপেক্ষা করাই শ্রেয় হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ