১৫৩ দেশে মূল্যস্ফীতি ৮১ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

আপডেট: আগস্ট ১৮, ২০২২, ১০:০০ অপরাহ্ণ

ছবি: সংগৃহীত

সোনার দেশ ডেস্ক:


ইউক্রেন থেকে শস্য রপ্তানির পথ খুলে গেছে। দেশটি থেকে বিশ্বে খাদ্য রপ্তানি হচ্ছে। তবু সংকট কাটছে না, বাড়ছে খাদ্যঝুঁকি। নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে মুদ্রাস্ফীতি অব্যাহত। এর প্রভাব ধনী দেশগুলোতেও খাদ্যের দাম বেড়েই চলেছে। বিশ্বে ১৫৩টি দেশে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮১ শতাংশ।

খাদ্য খাতের মূল্যস্ফীতির কারণে সামগ্রিকভাবে অন্যান্য চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে এসব দেশে জনগোষ্ঠী। খাদ্যের অস্বাভাবিক দামের কারণে বিশ্বের কয়েকটি দেশ বিপাকে পড়েছে। ফলে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সারের দাম কমানোসহ বেশি কিছু সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিশ্বব্যাংকের দাবি, গত দুই সপ্তাহে কৃষি, খাদ্যশস্য ও রপ্তানির মূল্যসূচকগুলো স্থিতিশীল ছিল। তবে মূল্যসূচক দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় এক শতাংশ বেশি। সারা বিশ্বে দেশীয় খাদ্যমূল্যের মূল্যস্ফীতি উচ্চ রয়ে গেছে। প্রায় সব নিম্ন ও মধ্যমআয়ের দেশে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে ধনীদেশগুলোতেও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে।

হঠাৎ করেই ভুট্টা ও গমের দাম ২ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি চালের দাম বেড়েছে ৬ শতাংশ। বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমলেও খাদ্য খাতে এখনো প্রভাব পড়েনি।

বিশ্বব্যাংক মনে করে, বিশ্বে খাদ্য সংকট মোকাবিলায় বিপাকে পড়া দেশগুলোর উচিত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা। একই সঙ্গে সারের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা। সার ব্যবহার করতে হবে আরও দক্ষভাবে। কৃষকদের উপযুক্ত প্রণোদনা দিতে হবে। ফলে শস্য উৎপাদন বাড়বে। কৃষিতে সর্বোত্তম এবং নতুন প্রযুক্তির সংযোজন করতে হবে। এর ফলে উৎপাদন বাড়বে।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত প্রায় সব নিম্ন ও মধ্যমআয়ের দেশ উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কবলে পড়েছে। খাদ্য খাতে নিম্নআয়ের দেশগুলোতে ৯২ দশমিক ৯, নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে ৯২ দশমিক ৭ ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ৮৯ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। পৃথিবীর সব দেশেই এ সময়ে গড় জাতীয় মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের ওপরে দেখা গেছে।

অনেক দেশ দ্বিগুণ মুদ্রাস্ফীতির সম্মুখীন হয়েছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতিসহ উচ্চআয়ের দেশগুলোর শেয়ারও বেড়েছে তীব্রভাবে। প্রায় ৮৩ শতাংশ উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতির সম্মুখীন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় রয়েছে আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া।

আন্তর্জাতিকভাবে বাজারে প্রভাব ফেলে গম, ভুট্টা, চাল ও সয়াবিনের বাজার। উত্তর গোলার্ধে শীতকালীন ফসল গমের চাষ শুরু হয়েছে। তবে গরম, শুষ্ক আবহাওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউক্রেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন সীমিত হয়েছে। শুষ্ক অবস্থা আর্জেন্টিনায় বীজ বোপন বাধাগ্রস্ত করেছে। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলে ফসল কাটা অব্যাহত আছে। তবে খরার কারণে ফলন কমে গেছে।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ