১৫ আগস্ট : জাতীয় শোক দিবস বঙ্গবন্ধু আছেন সাহসে-শক্তিতে, প্রেরণায়-উৎসাহে

আপডেট: আগস্ট ১৫, ২০২২, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

আগস্ট মাস। শোকের মাস, বেদনার মাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হয়েছিলেন। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে একদল বিপথগামী সৈনিক তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। বাঙালি জাতির কাছে তো বটেই বিশ্ব ইতিহাসেও এই হত্যাকান্ড মানব সভ্যতার জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে আছে।
এটি নিছক হত্যাকা- ছিল না। এ দেশের মানুষকে শোষণ-বঞ্চনার শৃঙ্খলে বাঁধতে, একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র কায়েম করতেই এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিল। এটি এখন ধ্রুব তারার মতই সত্য। হত্যাকারীরা এখন জাতির কাছে ঘৃণিত-ধিকৃত, আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপিত।
বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকান্ড বাঙালি জাতির জন্য করুণ বিয়োগগাথা হলেও এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত খুনিদের শাস্তি নিশ্চিত না করে বরং দীর্ঘ সময় ধরে আড়াল করার অপচেষ্টা হয়েছে। এমনকি খুনিরা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে, পুরষ্কৃত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুহত্যার বিচার ঠেকাতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ উন্মুক্ত হয়। অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে বিচার সম্পন্ন হয়। পরে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ৫ বছর রায় কার্যকরে বাধার সৃষ্টি করা হয়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট ক্ষমতাসীন হলে ২০০৯ সালে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি পাঁচ খুনি এবং ২০২০ সালের এপ্রিলে এক খুনির ফাঁসির রায় কার্যকর হয়। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ছয় খুনি মৃত্যুভয়ে বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে। কূটনৈতিক তৎপরায় খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের প্রতিশ্রুতি বারবার ধ্বনিত হয়- কিন্তু এখনো খুনিরা অধরাই থেকে গেছে। পলাতক খুনিদের রায় যতদিন কার্যকর না হচ্ছে ততদিন বাঙালির হৃদয়ের রক্তক্ষরণ বন্ধ হবে না।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সাথে জড়িত নেপথ্যের কুশীলবদের পরিচয় উন্মোচন করতে কমিশন গঠনের বিষয়টি বারবার আলোচনা এসেছে- এটা দেশের মানুষের জোরালো দাবিও। যারা এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে তারা যে এককভাবে হত্যাকা- ঘটিয়েছে তা নয়, এর পিছনে একটা ষড়যন্ত্র আছে, সেই ষড়যন্ত্রকারী কারা তাদের অন্তত চিহ্নিত করে তাদের নাম-পরিচয় দেশের মানুষ জানতে চায়। আইনমন্ত্রী ১৩ আগস্ট সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যায় জড়িত ষড়যন্ত্রকারীদের খোঁজার বিষয়ে কমিশন গঠন চলতি বছরের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত হবে। তিনি জানান, এরই মধ্যে কমিশনের রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে, সেটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হলে তিনি প্রয়োজনীয় সংশোধন করে চূড়ান্ত করবেন। এটা আশা জাগানিয়া কথা। আমরাও নিশ্চিত হতে চাই যে, এবার আর অপেক্ষা নয়- কমিশন শিগগিরই গঠিত হবে, তাদের কাজ শুরু করবে এবং নেপথ্যের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করবেন।
বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি আরেকটির পরিপূরক। বঙ্গবন্ধুর নামেই গোটা বিশ্ব বাংলাকে চেনে, বাঙালি জাতিকে চেনে। এই সংযুক্তিকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন করা যায় না। বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টাও দেশ ও জাতির জন্য হবে এক ভয়ঙ্কর খেলা। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশই তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্ন করার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা হয়েছে। ’৭৫ এর পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দুটি সামরিক শাসনামলে এবং পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট ধারার রাজনৈতিক প্রবক্তারা সর্বোতভাবে চেষ্টা করেছে বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে। এর জন্য পাকিস্তানিদের মতই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত হয়েছে, ইতিহাসের বিকৃতি সাধন হয়েছে কিন্তু তা সম্ভব হয় নি। মাটি ও মানুষের সঙ্গে যিঁনি মিশে একাকার হয়ে আছেন, তাকে পৃথক করা কার সাধ্য? ষড়যন্ত্রকারীরা একটি সময়ের প্রতিনিধিত্ব করেছে বটে কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী তাদের পরাজিত হতেই হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির চক্রান্তকে সফল হতে দেয় নি এ দেশের মানুষ। দেবেও না কোনো দিন। বঙ্গবন্ধু সশরীরে নেই- বঙ্গবন্ধু আছেন সাহসে, শক্তিতে, প্রেরণায়- উৎসাহে, ভাষার ছন্দে- মমত্বে চিরঞ্জীব হয়ে।
বঙ্গবন্ধুর সাহস ও আদর্শ থেকেই বাঙালি জাতি এখনো লড়াই-সংগ্রামে উৎসাহিত হচ্ছে, অনুপ্রাণিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ও বাঙালি যতদিন থাকবে বঙ্গবন্ধু ততদিনই বাঙালি সত্তার মধ্যে সাহস হয়ে, আলোর দিশারী হয়ে বেঁচে থাকবেন।
৪৭তম শাহাদতবার্ষিকীতে জাতির পিতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। তাঁর অমর অত্মার প্রতি জানাই অনিঃশেষ শ্রদ্ধা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ