১৫ গাছে ৩৩ ফল : বেজায় খুশি ড্রাগন চাষি মিলন হোসেন

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৭, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

এম সাখাওয়াত হোসেন, মহাদেবপুর



নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় প্রথম ১৫টি ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করার মধ্যে দিয়ে অনেকটা শখে ড্রাগন ফল চাষ করা শুরু করেছিলেন মিলন হোসেন। শঙ্কায় ছিলেন যদি সফল হতে না পারেন। দ্বিধা-দন্দ্ব নিয়েই পথ চলা শুরু। উপজেলায় এনায়েতপুর গ্রামের মাঠে ১৫টি গাছে ৩৩ টি ড্রাগন ফল পেয়ে বেজায় খুসি  মিলন হোসেন।
ড্রাগন ফল চাষ কিভাবে শুরু হলো তা জানাতে গিয়ে বলেন, উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মুমিনের সাথে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের এক পর্যায়ে মহাদেবপুর উপজেলায় নতুন জাতের ফল চাষ করতে চাইলে আমাকে ড্রাগন ফল চাষে উদ্ভুদ্ধ করেন। আড়াই বছর পূর্বে এনায়েতপুর মাঠের একই উচু জমিতে এই ১৫ টি ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করি এবং দেশিও পদ্ধতিতে বাঁশের খুটির উপর সাইকেলের টায়ার বেঁধে ঝাংলা/আরানি তৈরি করে ড্রাগন লতাগুলো আলতো করে উঠিয়ে দেই। গত ৪ মাস পূর্বে ৩৩টি ড্রাগন ফল ধরেছি।
জানা যায়, ক্যাকটাস পরিবারভূক্ত লতানো এ উদ্ভিদকে সবাই সবুজ ক্যাকটাস বলেই মনে করেন। এর জন্ম দক্ষিণ আমেরিকার অরণ্যে। তবে ভিয়েতনামে এ ফল ব্যাপকভাবে চাষ হয়। এছাড়া মেক্সিকো, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন সমৃদ্ধ এ ফল ব্যাপকভাবে চাষ হয়। এটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ড্রাগন ছাড়াও পিটায়া ও টিহায়া নামেও পরিচিত। ওষুধি ও উচ্চ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এ ফল কাঁচা-পাকা উভয় অবস্থাতে খাওয়া যায়। এতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি, মিনারেল ও আশঁ আছে। সারা বছর এই ফলের চারা রোপণ করা যায়। গ্রীষ্ম প্রধান দেশে এর চাষ ভালো হয়। শীতের চার-পাঁচ মাস ছাড়া বছরের অবশিষ্ট সাত-আট মাস ড্রাগন ফল পাওয়া যায়। ড্রাগন ফল লাল, সাদা, গোলাপী ও কালচে এ চার প্রকারের হয়ে থাকে। ড্রাগন ফল চাষের কীটনাশক ও রাসায়নীক সারের প্রয়োজন হয় না। গাছগুলো বায়বীয় মুলের সাহায্যে প্রায় ৫০ শতাংশ খাবার বাতাস থেকে সংগ্রহ করে থাকে। বাকী খাবার কম্পোস্ট বা জৈব সার হতে সংগ্রহ করে থাকে। নাইট কুইনের মত ড্রাগন ফুল সাধারণত রাতে ফোটে। এ ফুলে সাধারণত স্ব-পরাগয়ন ঘটে।
বিশেষজ্ঞগনের মতে, এই ফল ডায়বেটিস রোগির রক্তের ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ফলটি পিচ্ছিল জাতীয়, তাই এসিডিটি কমায় এবং ক্যান্সার ও হৃদরোগের জন্য বিশেষ উপকারী। এছাড়া এ ফল কোলেকস্টেরল ও ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ একেএম মাফিদুল ইসলাম জানান, আমাদের দেশে পানি জমে না এমন বেলে-দোঁআশ মাটিতে ড্রাগন ফলের চাষ করা যেতে পারে। বীজ অথবা কাটিংয়ের মাধ্যমে এ ফলের চাষ করা যায়। শুধু মিলন নয়, যে কোন মানুষই ড্রাগন চাষের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করাসহ আর্থিকভাবে সফল হতে পারেন। কারণ আমাদের দেশে এ ফলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।