১৬ সেপ্টেম্বর

আপডেট: September 16, 2020, 12:04 am

১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬ : বঙ্গবন্ধু কোয়ালিশন সরকারের শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দপ্তরে মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।
১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৬ : বঙ্গবন্ধু কারান্তরে লিখেছেন, “বৃষ্টি বৃষ্টি আর বৃষ্টি। গতকাল সারাদিন ও সারারাত বৃষ্টি হয়েছে। দেশের অবস্থাও খুবই ভয়াবহ। বৎসরে দুইবার বন্যা, তারপর আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। শুনলাম, ঢাকা শহরের অধিকাংশ জায়গা বন্যার পানিতে ডুবে গিয়াছে। আমি যে ঘরটাতে থাকি এটা বোধহয় দুইশত বছরের পুরানা। সমস্ত জায়গা দিয়েই বোধহয় পানি পড়ে। গতরাতটা কোনমতে কাটাইয়াছি। সামান্য একটা জায়গা প্রায়ই ফাঁক আছে, যেখান দিয়ে পানি পড়ে না। ঘরের ভেতরে পানির ঢেউ খেলেছে সারাদিন। তিনজন লোক সারাদিন আমার জিনিসপত্র রক্ষা করতে ব্যস্ত রয়েছে। বিছানা থেকে নামার উপায় নাই। খবর পেয়ে জেলার সাহেব, ডেপুটি জেলার সাহেব ও জমাদার সাহেবরা এসেছিলেন। বললেন, ‘কি করে এখানে থাকবেন? পাশেই নতুন ২০ সেলের একটা চার সেলের ব্লক আছে, আপনি সেখানে থাকুন।’ বললাম. ‘সেলের ভিতরে, তার উপর পায়খানা-প্রস্রাবখানা নাই, কেমন করে থাকবো? একটা টিন দিয়ে দেবেন ওতে আমার চলবে না। আমাকে ভাল জায়গা দিতে হলে সরকারের অনুমতি লাগবে, কি বলেন? রাতে ঘুমাব না, তাতে কি হবে? জীবনে অনেক দিন না ঘুমাইয়া কাটাইয়াছি। যদি স্বায়ত্তশাসন ও ৬ দফা আদায় করে নিতে পারি নিব। তবে আমরা রাজবন্দিরা তো খুনী, ডাকাত, একরারীর থেকেও আজকাল খারাপ! দেখুন পুরানা ২০ সেলে রনদা সাহেব বার-এ্যাট-ল’, বাবু চিত্ত সুতার ভূতপূর্ব এমপিএ, আবদুল জলিল এ্যাডভোকেট, দুইজন ছাত্র-একজন এমএ পরীক্ষা দিবে নূরে আলম সিদ্দিকী, আর একজন বিএ পরীক্ষা দিয়েছে কামরুজ্জামান। শংকর বাবু, পুরানা রাজনৈতিক কর্মী বাড়ি রংপুর, আরও কয়েকজনকে রেখেছেন। তাদের অবস্থা কি? উপর দিয়ে পানি পড়ে। দরজা দিয়ে পানি ঢোকে, একটা করে টিনের পায়খানা। ৭ সেল অনেক ভাল। সেখানে রেখেছেন একরারীদের, আরও অনেক জায়গা ভাল আছে সেখানেও রাখতে পারেন, কিন্তু রাখবেন না। কষ্ট দিতে হবে। আপনারা আমাদের বাধ্য করেছেন মোকাবেলা করে দাবি আদায় করতে।’
বিশ্বাস বোধহয় অনেকেই করবেন না, কিন্তু সত্য কথা রতন নামের আট বৎসরের ছেলে ডিপিআর আইনে জেলে বন্দি আছে, আজও ছাড়া হয় নাই। কুমিল্লা জেলায় বাড়ি। রতনের বাবা চলে গেছেন ত্রিপুরা রাজ্যে। দুই কাকা পাকিস্তানে আছে, বর্ডারে বাড়ি। ভারতে কষ্ট হলে ওর বাবা মা কাকাদের কাছে পাঠাইয়া দেয়। যুদ্ধ বেঁধে গেলে ওর কাকাকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তান সরকার। ওরা খবর নিয়ে জানল ওর বাবা ভারতে থাকে, তাই ওকেও গ্রেপ্তার করে নিয়ে এলো কাকার সাথে। কাকা পাকিস্তানি বলে মুক্তি পেয়েছে। রতন ‘ভারতীয়’ তাই মুক্তি পায় নাই, জেলেই আছে। ওকে আমাকে একজন কয়েদি দেখাল। কোলে করে বলল, স্যার ডিপিআরএ বন্দি আজ দশ মাস হলো, আর কতকাল থাকতে হয়! এই দুধের বাচ্চার কে আছে? এমন আশ্চর্য ঘটনা অনেক ঘটছে এই দেশে।” [সূত্রঃ করাগারের রোজনামচা – শেখ মুজিবুর রহমান, পৃষ্ঠা ১৯৫-১৯৬]
১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২ : বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় কন্যা শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ জন্ম গ্রহণ করেন।