১৯ করোনা রোগির চিকিৎসা ব্যয় প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা যে লোভের সীমা নেই

আপডেট: জুলাই ২১, ২০২০, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশে একটি কথা প্রায় সময় শোনা যায় যে, ‘সরকারি মাল, দরিয়ায় ঢাল।’ এটা কটাক্ষসূচক কথা। সরকতারি অর্থের ব্যাপক অপচয় বা তছরুপাত অর্থে এ কথা বলা হয়ে থাকে। এ কথার চর্চা করতে করতে মানুষের মধ্যে এমন ধারণা পুষ্টতা লাভ করেছে যে, সরকারি অর্থ ব্যয়ে এমনটিই হয়ে থাকে। এ কথা ঢালাওভাবে বলা না গেলেও এ ধরনের অস্বাভাবিক কাজ যে হয় সে অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের আছে। ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগেও সরকারের সাথে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও এমনটা লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ সরকারের অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে বাড়তি কিছু আদায় করা যায় কিনা সেই চেষ্টাই অব্যাহত থাকে। এটাকে লোভ, দুর্নীতি পরায়ণ মনোভাব যা-ই বলি না কেন- অনেক মানুষের মধ্যেই এটা ক্রিয়াশীল। সুযোগ- সেটা অন্যায় হলেও তা হাশিস করতে হবে এমন মানসিকতার লোকের অভাব নেই।
কুমিল্লার বিশেষায়িত হাসপাতাল এএফসি হেলথ ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউট এর ক্ষেত্রে তেমনটিই হয়েছে। ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১৯ করোনা রোগির চিকিৎসা খরচ বাবদ সরকারের কাছে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার বিল দাখিল করেছেন। এ নিয়ে জেলায় সমালোচনার ঝড় বইছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে গেছে। কাল্পনিক এ বিল দেখে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদেরও চক্ষু চড়ক গাছ। অবশ্য সেই বিল সরকারের দুটি দফতরে আটকে গেছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈসিক সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচার হয়েছে। ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বুদ্ধি-বিবেকের নাশ হয়েছে বলা যায়। ব্যাপারটা ওই রকমই যে, সরকারের অর্থ হাতিয়ে নিলে অসুবিধে কোথায়! চাহিদার যুক্তি থাক বা না থাক। সেটা এ দেশে খুব কমই বিবেচিত হয়।
ওই প্রতিবেদনের তথ্যমতে, এএফসি হেলথ ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউট ২২ দিনে যে ১৯ জন রোগির সেবা দিয়েছে তাদের ওষুধ, পথ্য ও ডাক্তার-নার্সসহ যাবতীয় চিকিৎসা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দেয়া হয়েছে। ৩ জুন কুমেক হাসপাতালে করোনা ইউনিট চালুর সময় এএফসি হেলথ ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তখন সদর আসনের সংসদ সদস্য হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার তাদেরকে জানিয়ে দেন- করোনা প্রতিরোধে জেলা স্বাস্থ্য কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের আইসিইউ ব্যবহার করা হয়েছে। মানবতার সেবা দেয়ায় তাদেরকে ধন্যবাদ জানানো হয় এবং বলা হয় সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো বিল দেয়ার কথা হয়নি বা চুক্তিও হয়নি। বিষয়টি এখানেই শেষ।
এছাড়াও এএফসি হেলথ ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউটে করোনা চিকিৎসার সময় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বেতন সংসদ সদস্য হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার দিয়েছেন। কিন্তু ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ রোগিদের সেবা বাবদ ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৬৩৬ টাকা ও আইসিইউসহ আনুষাঙ্গিক স্থাপনা বাবদ ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার বিল দাখিল করেছে। যা একেবারেই অস্বাভাবিক ও অগ্রহণযোগ্য। সীমাহীন লোভ মানুষকে কত নিচে নামাতে পারে- এই ঘটনা তারই প্রমাণ।
এ তথ্য জানার পর চক্ষু চড়কগাছ না হয়ে কোনো উপায় নেই। ভয়ঙ্কর রকমের অস্বাভাবিক বিল। বাংলাদেশে চিকিৎসা ক্ষেত্রে এটা ব্যয়বহুল বললে শেষ হয় না- এটা অনেকটা বলেকয়ে পকেট কাটার মত ঘটনা। করোনাকালে কোথায় সহযোগিতা সহমর্মিতার হাত বাড়াবে সেখানে মানসিকতা লুটপাটের- বড়ই বেদনাদায়ক ও ধৃষ্টতাপূর্ণ বিষয়। চিকিৎসার নামে এটা এক ধরনের তামাসাও বটে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিলের যৌক্তিকতা বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা যেতে পারে। জাতীয় সঙ্কটকালে যে সব প্রতিষ্ঠান লুটপাটের মেজাজে থাকে তাদের লাইসেন্স বাতিল করাই বাঞ্ছনীয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ