১৯ জুলাই

আপডেট: জুলাই ১৯, ২০২০, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

১৯ জুলাই ১৯৬৬ : বঙ্গবন্ধু কারাগারে অন্তরীণ থাকর সময় লিখেছেন, ‘… মওলানা সাহেব বোধহয় ভুলে গেছেন যে, ১৯৫৫-৫৬ সালে পার্লামেন্টে যখন শাসনতন্ত্র তৈয়ার হয়, তখন স্বায়ত্বশাসনের প্রস্তাব করে আওয়ামী লীগ প্রত্যেক দফায় সংগ্রাম করেছিলো। … এই রকম শত শত এবান্ডমেন্ট আবুল মনসুর আহমেদ সাহেব, জহিরুদ্দিন, দেলদার সাহেব, খালেক সাহেব, আমি ও আরও অনেকে দিয়েছিলাম। স্বায়ত্তশাসন না দেওয়ায় সোহরাওয়ার্দী সাহেবসহ আমরা সকলে ওয়াক আউট করেছিলাম।

আওয়ামী লীগ ভেঙ্গে যখন ন্যাপ করা হলো, তখন বৈদেশিক নীতির উপরই হয়েছিল বলে এতদিন মওলানা সাহেব বলতেন, এবার নতুন কথা শুনলাম। কিছুদিন বেঁচে থাকলে অনেক নতুন কথাই তিনি শোনাবেন। যেমন, তিনি কোনদিনই মওলানা পাশ করেন নাই, তবুও মওলানা সাহেব না বললে বেজার হন।

ন্যাপ কেন হয়েছিল? আদর্শের জন্য নয়। মওলানা সাহেবের মধ্যে পরশ্রীকাতরতা খুব বেশি। সোহরাওয়ার্দী সাহেবের জনপ্রিয়তা সহ্য করতে পারেন নাই এবং তাঁর মধ্যে এতো ঈর্ষা দেখা দেয় যে, গোপনে ইস্কান্দার মির্জার সাথে হাত মিলাতেও তাঁর বিবেকে বাধে নাই। তিনি মির্জা সাহেবকে মিশরের নাসের করতে চেয়েছিলেন।

তাঁকে লোকে চিনতে পেরেছে, তাঁর অনশন আমার জানা আছে। নিম্নতর কর্মসূচীর ভিত্তিতে তিনি আইয়ুব সাহেবকে সমর্থন করবেন, না আন্দোলন করবেন তার কথায় বোঝা কষ্টকর। মওলানা সাহেব ৬ দফা সমর্থন না করলেও আন্দোলন চলছে, চলবে এবং আদায়ও হবে। জনগণ ৬-দফা মনে প্রাণে গ্রহণ করেছে।” [সূত্র : কারাগারের রোজনামচা – শেখ মুজিবুর রহমান, পৃষ্ঠা ১৭০-১৭১]
১৯ জুলাই ১৯৭২ : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুন্যাল) আইন, ১৯৭৩’ এ সম্মতি প্রদান করেন।