১৯ মার্চ

আপডেট: মার্চ ১৯, ২০২১, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

১৯ মার্চ ১৯৪৮ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্তুথ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু একটি আন্দোলন পরিচালনা করেন।
১৯ মার্চ ১৯৪৯ : বঙ্গবন্ধুসহ ৯ জন ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়। অপরাধ- আগের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ধর্মঘট ডাকা এবং উপাচার্যের ভবন ঘেরাও করা।
১৯ মাচ ১৯৭১ :র্ জয়দেবপুর এবং গাজীপুরে সাধারণ বাঙালি সৈন্যদের সঙ্গে পাকিস্তানি সৈন্যদের যুদ্ধ শুরু হয়। এই সময় পাকিস্তানি সৈন্যরা ইপিআর সদস্যদের (ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট) এর কাছে সাধারণ মানুষের দেয়া রাস্তার বেরিকেড তুলতে বলা হয় এবং পাকিস্তান সৈন্যদের সাথে যোগ দিতে বলা হয় কিন্তু ইপিআর সদস্যরা সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করে এবং নিরীহ নিরস্ত্র সংগ্রামী বাঙালিদের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানায়। যখন কারফিউ দেয়া হয় তখন পাকিস্তানি সৈন্যরা সাধারণ মানুষের দেয়া বেরিকেড তোলার চেষ্টা করে। এই সময় সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং বাধা দেয়। তখন নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে পাকিস্তানি সৈন্য বাহিনী সাধারণ মানুষদেরকে হত্যা করে।
১৯ মার্চ ১৯৭১ : তৃতীয় বারের মত ইয়াহিয়া খান ও বঙ্গবন্ধুর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু জয়দেবপুর ও টঙ্গীতে পাকিস্তানি সৈন্যদের নির্বিচারে হত্যার নিন্দা করে বলেন, ‘যদি তারা মনে করে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে গুলির মাধ্যমে পরাস্ত করবে, তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে…যখন সাধারণ মানুষ রক্ত দিতে প্রস্তুত আছে তখন কোনো শক্তিই আর তাদেরকে দমাতে পারবে না।’ বঙ্গবন্ধু আরো বলেন, আগামী বংশধরদের জন্যে একটি স্বাধীন আবাসভূমি রেখে যাবো যাতে করে তাদেরকে যেন পরাধীন ভূমিতে না থাকতে হয়। তাদেরকে একটি স্বাধীন ভূমিতে রেখে যাবো ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সহায় আছেন।’
১৯ মার্চ ১৯৭২ : বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২৫ বছরের মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ঢাকায়।
এদিন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী ময়দান) ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন। ইন্দিরা গান্ধীর সম্মানে ময়দানের মঞ্চের নামকরণ করা হয় ইন্দিরা মঞ্চ।
১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ তেজগাঁও বিমানবন্দরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে বিদায় জানাতে এসেছেন বঙ্গবন্ধু, সঙ্গে পুত্র রাসেল ও স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা। ইন্দিরা গান্ধী বিদায় নিতে তাঁর কাছে আসতেই ফজিলাতুন্নেছা পরিষ্কার বাংলায় বললেন, ‘কামালের আব্বারে একটু কইয়া যান তো, উনি যেন ঠিক টাইমমতো খাওয়া-দাওয়া করেন।’
প্রথমে কিছু বুঝতে পারেন নি ইন্দিরা গান্ধী, তাই বললেন, ‘বেগ ইয়োর পারডন।’
দ্বিতীয়বারও একই কথার পুনরাবৃত্তি করলেন ফজিলাতুন্নেছা। ছোটবেলায় শান্তিনিকেতনে কিছু বাংলা পড়েছেন, এবার তাই কথাগুলো ধরতে পারলেন ইন্দিরা। মাথা ঘুরিয়ে বঙ্গবন্ধুকে লক্ষ্য করে মুচকি হেসে ইংরেজিতে বললেন, ‘এক্সেলেন্সি, এটা তো সাংঘাতিক অভিযোগ। আমিও প্রধানমন্ত্রী এবং বেশ ব্যস্ত থাকি। কিন্তু লাঞ্চ-ডিনার খুবই টাইমমতো করি। আপনিও লক্ষ্য রাখবেন।’ একটু দম নিয়ে বললেন, ‘সত্যিই বেঙ্গলি হাউসওয়াইফদের তুলনা হয় না। নমস্তে বাংলাদেশ, নমস্তে।’