২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালের হার নিয়ে তদন্ত করবে শ্রীলঙ্কা!

আপডেট: জুলাই ২১, ২০১৭, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


শ্রীলঙ্কার ১৯৯৬ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। ছিলেন শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতিও। পালন করেছেন শ্রীলঙ্কান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও। সেই অর্জুনা রানাতুঙ্গা যদি কোনো একটা ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তুলেন এবং তদন্তের দাবি জানান, শ্রীলঙ্কান সরকার কী তাতে সারা না দিয়ে পারে! ভারতের কাছে হেরে যাওয়া ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালের হার নিয়ে তাই তদন্ত করতে চাইছে শ্রীলঙ্কান সরকার। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী দয়াসিরি জয়াসেকারা স্পষ্টই বলেছেন, ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালের হার নিয়ে তদন্ত করবে তারা।
শুধু অর্জুনা রানাতুঙ্গাই নন, ওই ফাইনালে কুমার সাঙ্গাকারার দলের হার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী মাহিন্দানন্দ আলুথগামাগেও। রানাতুঙ্গার চেয়েও আলুথগামাগের অভিযোগের ভাষা আরও তীব্র। মঙ্গলবার তিনি সরাসরিই প্রশ্ন তুলেছেন ওই ফাইনাল ম্যাচে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের আত্মনিবেদন নিয়ে। সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী অভিযোগ করার পরই বিষয়টি নিয়ে তদন্তের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী।
অবশ্য ছোট্ট একটা শর্তও জুড়ে দিয়েছেন জয়াসেকারা। কেউ যদি ৬ বছর আগের ওই ফাইনাল নিয়ে তদন্তের জন্য লিখিত আবেদন করে, তবেই তদন্ত করা হবে। ‘কেউ যদি লিখিত অভিযোগ করে, তাহলে আমি তদন্তের নির্দেশ দিতে প্রস্তুত’-বুধবার কলম্বোতে সাংবাদিকদের বলেছেন শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী।
২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে মাহেলা জয়াবর্ধনের সেঞ্চুরির সুবাদে ৬ উইকেটে ২৭৪ রানের পুঁজি গড়ে শ্রীলঙ্কা। জবাবে বীরেন্দর শেবাগ ও শচীন টেন্ডুলকারকে দ্রুত হারিয়ে ফেলার পরও ম্যাচটা জিতে নেয় ভারত। গৌতম গম্ভীরের ৯৭ ও অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির অপরাজিত ৯১ রানের ইনিংসে চড়ে ভঅরত পায় ৬ উইকেটের জয়। ৬ বছর আগের সেই ফাইনালের হার নিয়ে কাঁদা ছুড়াছুড়ির সূত্রপাত টেনে এনেছেন শ্রীলঙ্কান তৎকালীন অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারাই। গত ৩০ জুন জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে হারার পর সাঙ্গাকারা অভিযোগ করেন শ্রীলঙ্কা দলের ২০০৯ পাকিস্তান সফর নিয়ে।
২০০৯ সালে পাকিস্তান সফরকালে সন্ত্রাসী হামলা হয় শ্রীলঙ্কান টিম বাসে। আরও ৫ ক্রিকেটারের সঙ্গে সেই হামলায় সামান্য আহত হয়েছিলেন সাঙ্গাকারা নিজেও। সেই প্রসঙ্গ তুলে সাঙ্গাকারা ওই সফরের আয়োজন নিয়ে তদন্তের দাবি জানান। স্বাভাবিকভাবেই তার অভিযোগের অঙ্গুলিটা ছিল রানাতুঙ্গার দিকে। কারণ, ওই সময় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ছিলেন রানাতুঙ্গা। পাল্টা হিসেবে রানাতুঙ্গা তাই প্রশ্ন তুলেন বিশ্বকাপ ফাইনালের ওই হার নিয়ে। দাবি জানান তদন্তের।
রানাতুঙ্গার সেই অভিযাগের সূত্র ধরে মঙ্গলবার আরও জোরালো অভিযোগ তুলেন আলুথগামাগে। ২০১১ সালের ওই ফাইনালের সময় তিনিই ছিলেন শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্বে। রানাতুঙ্গার সঙ্গে তিনিও ম্যাচটা সরাসরি দেখেছেন মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বসে। আলুথগামাগে অভিযোগ করেন, ৫০ ওভার ফিল্ডিংয়ের সময় শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারেরই ড্রেসিংরুমের আচরণ ছিল সন্দেহজনক। অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার নির্লিপ্তি ভঙ্গিতে ড্রেসিংরুমে সিগারেট ফুকছিলেন। শুধু তাই নয়। আলুথগামাগে প্রশ্ন তুলেন হারের পরপরই কোনো কারণ ছাড়াই অধিনায়কত্বের পদ থেকে কুমার সাঙ্গাকারার পদ্যত্যাগ নিয়েও। আলুথগামাগে বলেন, সন্দেহের আরও অনেক কারণই ছিল। তিনি নাকি তখন ম্যাচটি নিয়ে ক্রিকেট ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে তদন্তের নির্দেশও দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো এক কারণে শেষ পর্যন্ত তদন্ত হয়নি। সাবেক দুই মন্ত্রীর মুখে এমন অভিযোগ শোনার পর জয়াসেকারা আর দেরি করতে রাজি নন। বলেছেন, ‘গুরুত্বের বিচারে অবশ্যই অভিযোগটি তদন্তের দাবি রাখে। লিখিত অভিযোগ পেলে আমি যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত কাজ শুরু করব।’ দেখা যাক শেষ পর্যন্ত পানি কোন দিকে গড়ায়।