২০১৬ সালে লাভবান বিশ্বের যে ১০ ধনী

আপডেট: মার্চ ৬, ২০১৭, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



বিল গেটসের যত সম্পদ আছে সব মিলিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ধনীর তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তিনি। কিন্তু সম্পদ বাদে গতবছর সবচেয়ে বেশি লাভের টাকা আয় হয়েছে ওয়াং ওয়েইর। ২০১৬ সালে ২২.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছেন তিনি। তারপরেই অবস্থান করছেন আমাজনের নির্বাহী জেফ বেজোস। তার আয় হয়েছে ২১.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিশ্বের মোট ৫০০ জন ধনীর তথ্য সংগ্রহ করে ব্লুমবার্গ বিলিওনিয়ার ইনডেক্স এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের মার্চের ১ তারিখ পর্যন্ত এ সকল ধনীদের তথ্য সংগ্রহ করেছে তারা।
এর মধ্যে প্রথম ১০ জনের তালিকা দেয়া হলো।
১. ওয়াং ওয়েই : চিনের ৪৬ বছর বয়সি ওয়াং ওয়েই ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ আয়ের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। চিনা কুরিয়ার কোম্পানি এস এফ এক্সপ্রেস এর প্রতিষ্ঠাতা তিনি।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুসারে ওয়াং হংকংয়ে বড় হয়েছেন। তার বাবা বিমানবাহিনীর রাশিয়ান অনুবাদক ছিলেন। ১৯৯০ সালে তিনি চিনে আসেন এবং কুরিয়ার সেবা চালু করেন। তার ব্যবসা প্রথম দিকে অবৈধ বলা হতো। তিনি ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের হাতে ধরাও পড়েন এবং জরিমানা হয়। পরে তার ব্যবসাকে বৈধতা দেয় সরকার। ২০১৫ সালে তার প্রতিষ্ঠানের আয় হয় ৭.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বের ৫০ দেশে তার ১৫ হাজার পরিবহন ও ৩৬ বিমান আছে।
২.জেফ বেজোস : জেফ বেজোস সারা বিশ্বকে ই-কমার্সের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ওয়াল স্ট্রীটৈ কম্পিউটার বিজ্ঞানে কাজ করতেন। ১৯৯৪ সালে সে কাজ বাদ দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে নিজের বাড়ির গ্যারেজে বসে শুরু করেন অ্যামাজন.কম। প্রথমে শুধু বই বিক্রি করা তার প্রতিষ্ঠানের কাজ হলেও পরবর্তীতে এর ব্যাপ্তি বেড়ে যায়। ২০১৬ সালে ১৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে এই কোম্পানি। জেফ আয় করেন ২১.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
অ্যামাজন ছাড়াও তিনি ব্লু অরিজিনের মালিক। ২০১৫ সালে নতুন মহাকাশযান উদ্বোধন করেন। ২০১৩ সালে ওয়াশিংটন পোস্ট কিনে নেন তিনি।
৩.ওয়ারেন বাফেট : বার্কশায়ার হেথওয়ের নির্বাহীর পেশা জীবন অন্য সবার থেকে ভিন্ন। তিনি যখন ছোট ছিলেন তখন মানুষের বাড়ি বাড়ি সংবাদপত্র বিলি করে বেড়াতেন। মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি তিনটা শেয়ার কেনেন।
ধারাবাহিকভাবে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হয়ে আসছেন। তিনি বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কিনে সেখান থেকে লাভবান হন। ২০১৬ সালে তার মোট আয় হয় ১৩.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৪. মার্ক জাকারবার্গ : মাত্র ১৯ বছর বয়সে জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেন মার্ক জাকারবার্গ। কলেজের পড়াশোনা বাদ দিয়ে তিনি ফেসবুকের পেছনে সময় দেওয়া শুরু করেন। বর্তমানে ফেসবুকে লাখ লাখ ব্যবহারকারী আছে। মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হন। গত বছর ১১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেন তিনি। জনহিতৈষী কাজের জন্য তার সুনাম রয়েছে। তিনি তার সম্পদের ৯৯ শতাংশ চ্যারিটিতে দান করার ঘোষণা দেন। ২০১৫ সালে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দান করেন তিনি।
৫. বিল গেটস : মাত্র বিশ বছর বয়সে ছোটবেলার বন্ধু পল অ্যালেনকে নিয়ে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন বিল গেটস। ৩১ বছর বয়সে মাইক্রোসফট জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং গেটস কোটিপতি হন। বর্তমানে গেটস মাইক্রোসফটের বোর্ডে রয়েছেন কিন্তু সরাসরি যুক্ত নেই। গত বছর ১০.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার একাই আয় করেন তিনি।
১৯৯৯ সালে তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা ফাউন্ডেশন স্থাপন করেন। এইডস, দারিদ্র্য, ম্যালেরিয়া ও ইনফেকশন মোকাবেলায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দান করেন এর মাধ্যমে।
৬. জ্যাক মা : ৫২ বছর বয়সি জ্যাক মা চীনের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে একজন। ১৯৮৮ সালে তিনি চিনের প্রথম ইনটারনেট কোম্পানি চালু করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি এ কোম্পানি চিনের সরকারি টেলিকমকে দিতে বাধ্য হন। এর তিন বছর পর মাত্র ৬০ হাজার ডলার দিয়ে তিনি আলিবাবা কোম্পানির যাত্রা শুরু করেন। ১৫ বছর পর অন্যসব ইকমার্স কোম্পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রেকর্ড করে আলিবাবা। বর্তমানে আলিবাবা লোকসানের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তা নিয়ে জ্যাকের কোনও ভাবান্তর নেই। তিনি আশা করেন আবার আলিবাবা লাভের মুখ দেখবে। গত বছর তার আয় ৮.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৭. বার্নার্ড আরনল্ট : লুই ভুটোন, হেনেসি ও ডন পেরিগননের প্রধান কোম্পানি এলভিএমএইচ। এর প্রতিষ্ঠাতা বার্নার্ড আরনল্ট। প্রথম দিকে তিনি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও তিনি তার পারিবারিক ব্যবসাতে মনোযোগ দেন। ফ্যাশন হাউস ক্রিশ্চিয়ান ডিঅর কে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচান। শুধুমাত্র ডিঅর ২০১৬ সালে ৩৭.৬ বিলিয়ন ইউরো আয় করে। আরনল্ট একা আয় করেন ৬.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৮. মুকেশ আম্বানি : ২০০২ সালে বাবার মৃত্যুর পর রিলায়েন্স কোম্পানির দায়িত্ব নেন ভারতীয় ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানি। তেল, গ্যাস, পেট্রো কেমিক্যাল, টেক্সটাইল, প্রাকৃতিক সম্পদ, খুচরা পণ্য ও টেলিকমিউনিকেশন খাতে রিলায়েন্স কোম্পানি ব্যবসা করে। মুম্বাইতে আম্বানির ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ২৭ তলা প্রাসাদসম বাড়ি আছে। গত বছর তার আয় ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৯. ল্যারি এলিসন : ১৯৭৭ সালে দুইজন সহকর্মী নিয়ে ল্যারি এলিসন একটি প্রোগ্রাম বানানোর উদ্যোগ নেন। রিলেশনাল ডেটাবেজের এই প্রোগ্রাম প্রথম ব্যবহার করে সিআইএ। এর নাম দেয় তারা ওরাকল। গত বছর ওরাকল কোম্পানি ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে। তিনি একা আয় করেন ৫.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১০ সালের এলিসনের বেতন এক মিলিয়ন ডলার থেকে এক ডলার হয়ে যায়। কিন্তু তিনি স্টক অ্যাওয়ার্ডের জন্য ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেন। ২০১৪ সালে নির্বাহী পদ থেকে তিনি টেকনোলজি অফিসার হন। তিনি জনহিতৈষী কাজও করেছেন।
১০. ওয়াং জিয়ানলিন : ১৯৭০ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ওয়াং জিয়ানলিন ুচনের সেনাবাহিনীতে কাজ করেন। এরপর তিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসা শুরু করেন। ওয়াংয়ের দালিয়ান ওয়ান্দা গ্রুপের কার্যক্রম রয়েছে বিশ্বে নানা স্থানে। সিডনি ও মাদ্রিদে তাদের সংস্থা আছে। গত বছর তিনি আয় করেন ৪.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সূত্র :বিজনেস ইনসাইডার