২০২৫-এর মধ্যে জলশূন্য হয়ে যাবে পাকিস্তান!

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে সিন্ধু জলবন্টন চুক্তিকে হাতিয়ার করে পাকিস্তানের ওপর চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছে ভারত৷ ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যকলাপে মদত দেয়া বন্ধ না করলে পাকিস্তানকে ভাতে মারার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ এই পরিস্থিতিতে সীমান্তের ওপারে জলসংকট নিয়ে নয়া আশঙ্কার কথা শোনালেন বিজ্ঞানীরা৷ পাকিস্তান কাউন্সিল অফ রিসার্চ ইন ওয়াটার রিসোর্সের পূর্বাভাস, ২০২৫ সালের মধ্যে পাকিস্তানে জলসংকট চরম আকার ধারণ করবে৷ খরার কবলে পড়তে পারে গোটা দেশ৷
বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম জল ব্যবহারকারী দেশ পাকিস্তান৷ কিন্তু কয়েক বছর ধরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমছে৷ সেদেশে জলের একমাত্র উৎস বলতে ভারতের সিন্ধু অববাহিকা৷ পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শহর করাচি এখন কার্যত জলশূন্য৷ প্রতিদিন জলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয় শহরবাসীকে৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও নগরায়নের কারণে পাকিস্তানে জলের উৎসগুলি শুকিয়ে যাচ্ছে৷ পাশাপাশি, আবহাওয়ার বদল ও সরকারের ভ্রান্ত নীতিও পাকিস্তানের জল সংকটের একটি বড় কারণ বলে মত বিশেষজ্ঞদের৷
বস্তুত, পাকিস্তানের ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার ডেভলপমেন্ট অথরিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান সামসুল মুল্কও বলেছেন, দেশে জলবন্টন কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে কার্যত সরকারের কোনও মাথাব্যথা নেই৷ এ বিষয়ে পাকিস্তানের নীতি নির্ধারকদের আচরণ অনেকটা ‘অনুপস্থিত জমিদার’-এর মতো৷ তিনি বলেন, সরকারি নীতি নির্ধারকদের ‘অনুপস্থিত জমিদার’ সুলভ আচরণের কারণে জল কার্যত ধনিদের সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে৷ গরিবরা বঞ্চিত হচ্ছেন৷ অন্যদিকে দেশে জল সংকটের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবকেই দায়ি করেছেন পাকিস্তানের শক্তি বিশেষজ্ঞ ইরফান চৌধুরী৷ তিনি বলেন, ‘ দেশে জল ধরে রাখার পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই৷ ১৯৬০ সালের পর কোনও নতুন বাঁধ তৈরি হয়নি৷ অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে৷’ এমনকী, পাকিস্তানে জল সংকট মেটাতে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন এক সরকারি আধিকারিকও৷ তবে তাঁর সাফাই, গবেষণা চালানোর মতো অর্থ সরকারের হাতে নেই৷
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পরীক্ষার জন্য করাচি থেকে পানীয় জলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল৷ তাতে দেখা গিয়েছে, ৯০ শতাংশ জলই মানুষের পান করার উপযুক্ত নয়৷
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন, কলকাতা