২০২৫ সালের মধ্যে দেশ থেকে শিশু শ্রম দূর করা হবে কর্মশালায় শ্রম প্রতিমন্ত্রী

আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০১৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেছেন, ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে শিশু শ্রম দূর করা হবে। আর ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম দূর করা হবে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে সচেতন হয়ে শিশু শ্রম দূর করার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শিশু শ্রম বন্ধ করতে সরকার আইন প্রণয়ন করেছেন।
গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর একটি বেসরকারি রেস্তোরাঁয় শিশু শ্রম কল্যাণে সক্ষমতা অর্জন বিষয়ক বিভাগীয় প্রতিনিধি কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুজিবুল হক এসব কথা বলেন। এর আয়োজন শ্রম ও কর্মসংস্থান কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
প্রতিমন্ত্রী মজিবুল হক বলেন, শিশু শ্রম আইন অনুযায়ী এক থেকে ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু হিসেবে বিবেচিত। এই বয়সের শিশুরা কোনো ধরনের শ্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে না। কিন্তু ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত কিশোর হিসেবে বিবেচিত। এই বয়সের কিশোর কিছু কিছু কাজ করতে পারবে। তবে ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা যেন কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত না হয় এই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাদের অর্থ দিয়ে পুর্নবাসন করা হবে। তাদের পড়ালেখা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
যারা মানবাধিকারের কথা বলেন তারাই মানাবাধিকারের লঙ্ঘন করেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ১৫ থেকে ২০ লক্ষ শিশু গৃহকর্মী। এরা ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করার পরও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। এই নির্যাতন যারা করেন তারা বেশিরভাগই শিক্ষিত। তারা বাইরে মানবাধিকারের কথা বলেন কিন্তু নিজেরা বাসায় সেই মানবািিধকার লঙ্ঘন করেন। এইজন্য গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য গৃহকর্মী নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই নীতিমালার আলোকে গৃহকর্মী ৮ ঘণ্টা শ্রম ঘণ্টা, নিয়োগ ব্যবস্থা, চিকিৎসা ভাতাসহ সব সুযোগ রাখা হবে। যারা গৃহকর্মী রাখবেন এই নীতিমালার আলোকে রাখতে হবে।
এছাড়া শ্রমিকদের কল্যাণে শ্রম কল্যাণ তহবিলে নীতিমালা অনুযায়ী শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানের লাভের ৫ শতাংশের এক ভাগ শ্রম কল্যাণে তহবিলে প্রদান করা উচিত। এই হিসেবে চিঠি লিখে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। এইসব অর্থ শ্রমিকদের কল্যাণে আগামি জানুয়ারি থেকে ব্যয় করা হবে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন, রাজশাহী বিভাগীয় অফিসের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মুনীর হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, কলকারখানা বিস্ফোরক পরিদর্শনের ইন্সপেক্টর জেনারেল সৈয়দ আহমদ, রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন, রাজশাহী ডিআইজি অফিসের এসপি আবদুস সালাম। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, শ্রম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব খন্দকার মোস্তান হোসেন।
এরপর শ্রম কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে তিন শ্রমিককে ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে গাজীপুরে গত বছর একটি প্লাস্টিক ফ্যাক্টরীতে আগুনে পুড়ে যায় সুমা খাতুনের স্বামী। এই কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সুমা খাতুনকে ২ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়। এছাড়া নুরুল ইসলামকে ২৫ হাজার ও রীনা বেগমকে ৩০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।
এদিকে বিকেলে বিভাগীয় শ্রম দফতর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন ও শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র রাজশাহীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মজিবুল হক। রোববার বিকেলে নগরীর বর্ণালী মোড়ে অবস্থিত বিভাগীয় শ্রম দফতর অফিসের সভা কক্ষে এ মতবিনিময় করেন প্রতিমন্ত্রী।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বিভাগীয় শ্রম দফতরের যুগ্ম শ্রম পরিচালক আমিনুল হক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের ডিজি সৈয়দ আহম্মেদ, ডিআইজি ডা. কামরুল ইসলাম, শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন রাজশাহীর অধ্যক্ষ মনিরুল আলম, শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র রাজশাহীর মেডিক্যল অফিসার ডা. জাফরিন সামিমসহ বিভাগীয় শ্রম দফতর রাজশাহী, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর রাজশাহী, শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন রাজশাহী ও শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র রাজশাহীর বিভিন্নস্তরের ৪০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ