২০ এপ্রিল

আপডেট: এপ্রিল ২০, ২০২০, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

১৯৪৯ সালের ২০ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে গ্রেফতারকৃত বঙ্গবন্ধুর সাথে আরও যে সকল ছাত্র নেতারা গ্রেফতার হন, তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরিমানা ও মুচলেকা আদায় করে ছেড়ে দেয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু জরিমানা ও মুচলেকাও দেন নাই। ফলে পাকিস্তানে এই প্রথমবারের মতো তিনি জেলে নির্যাতন ভোগ করেছিলেন ১৯৪৯ সালের ২৭ জুলাই পর্যন্ত।
বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আমরা দিন কাটাচ্ছি জেলে। তখন আমাদের জন্য কথা বলারও কেউ ছিল বলে মনে হয় নাই। সোহরাওয়ার্দী সাহেব লাহোর থেকে একটা বিবৃতি দিলেন। আমরা খবরের কাগজে দেখলাম। আমাদের বিরুদ্ধে মামলাও চলছে। শামসুল হক সাহেবকে নিয়ে মওলানা সাহেব ও আমি খুব বিপদে পড়লাম। তাঁর স্বাস্থ্যও খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। প্রায় বাইশ পাউন্ড ওজন কম হয়ে গেছে। তারপরও রাতভরই জিকির করেন। মাঝে মাঝে গরমের দিন দুপুরবেলা কম্বল দিয়ে সারা শরীর ঢেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুয়ে থাকতেন। মওলানা সাহেব ও আমি অনেক আলোচনা করলাম। আর কিছুদিন থাকলে পাগল হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে। দু’একদিন আমার ওপর রাগ হয়ে বলে, ‘আমাকে না ছাড়লে বন্ড দিয়ে চলে যাব। তোমার ও ভাসানীর পাগলামির জন্য জেল খাটব নাকি?’’ একদিন সিভিল সার্জন আসলে মওলানা সাহেব ও আমি শামসুল হক সাহেবের অবস্থা বললাম। তার যেভাবে ওজন কমছে তাতে যে কোনো সময় বিপদ হতে পারে। তিনি বললেন, সরকার আমার কাছে রিপোর্ট না চাইলে তো আমি দিতে পারি না অথবা হক সাহেব দরখাস্ত করলে আমি আমার মতামত দিতে পারি। শামসুল হক সাহেব এক দরখাস্ত লিখে রেখেছিলেন, আমি ওটা দিতে নিষেধ করলাম। তিনি আমার কথা রাখলেন। তিনি আর একটা লিখলেন মুক্তি চেয়ে, স্বাস্থ্যগত কারণে। যদিও দুর্বলতা কিছুটা ধরা পড়ে, তবুও উপায় নাই। সিভিল সার্জন সাহেব সত্যিই তাঁর শরীর যে খারাপ হয়ে পড়েছিল তা লিখে দিলেন। পাঁচ-সাত দিন পরেই তার মুক্তির আদেশ আসল। তিনি মুক্তি পেয়ে চলে গেলেন। ভাসানী সাহেব ও আমি রইলাম। কোর্টে হক সাহেবের সাথে আমাদের দেখা হত। সরকার ভাবল, হক সাহেবের মত শক্ত লোক যখন নরম হয়েছে তখন ভাসানী এবং আমিও নরম হব। আমার মেজোবোন (শেখ ফজলুল হক মণির মা) ঢাকায় থাকতেন, আমাকে দেখতে আসতেন। আমি বাড়িতে সকলকে নিষেধ করে দিয়েছিলাম, তবুও আব্বা আমাকে দেখতে আসলেন একবার। [সূত্র : ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান]
১৯৭২ সালের ২০ এপ্রিল শুরু হয় গণপরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা সম্পর্কিত প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়।