২০ জুন

আপডেট: June 19, 2020, 11:57 pm

২০ জুন ১৯৬৬: বঙ্গবন্ধুর লেখা থেকে, “হৈ হৈ রৈ রৈ ব্যাপার! কি হয়েছে জিজ্ঞাসা করলাম। আমার ফুলের বাগানের এক অংশের কিছু মাটি ধসে পড়েছে। ভিতরে অনেকদূর দেখা যায়। কি ব্যাপার এখানে কি আছে? কেউ বলে ভিতরে কিছু নিশ্চয়ই হবে। কোনোদিন এই ঘটনা ঘটে নাই। মাটি ধসে নিচের দিকে গিয়াছে। আমি দেখলাম জমাদার ছুটে এসেছে। চীফ হেডওয়ার্ডারকে খবর দেওয়া হয়েছে। কি করা যায়? আমি আমার মেট, পাহারা মেম্বরকে বললাম, পুরনো আমলের একটি পানির কুয়া ছিল বলে মনে হয়। জায়গাটি গোলাকার, চারদিকে ইট দিয়ে বাঁধা। অনেকেই বলল, ‘তাই হবে’। এরপর শুনলাম জেলার সাহেবকে খবর দেওয়া হয়েছে। জেলার সাহেব দেখতে আসবেন। তখন আমি হাসতে হাসতে বললাম, মনে হয় ভিতরে কিছু আছে। জেলখানার এই জায়গাটি শায়েস্তা খানের আমলে লালবাগ ফোর্সের অংশ ছিল। এখানে নবাবদের ঘোড়াশালা, হাতিশালা ছিল। আমি যে ঘরটিতে থাকি সেটা ঘোড়া থাকার মতোই ঘর। দেখলে বোঝা যাবে এখানে ঘোরাই রাখা হতো।
ইংরেজরা এই অংশটাকে কয়েদখানায় পরিণত করেছে। আমি হাসতে হাসতে বললাম, এই গর্তের মধ্যে টাকা পয়সা সোনা রুপা পাওয়া যেতে পারে। অনেকেই গম্ভীর হয়ে শুনল। অনেকে বিশ্বাস করতেও আরম্ভ করল। জেলার সাহেব জেলের ভিডাইজি সাহেবকে খবর দিলেন। এটা বন্ধ করা চলবে না, যে পর্যন্ত এটিকে ভাল করে না দেখা হবে। [সূত্র : কারাগারের রোজনামচা, শেখ মুজিবুর রহমান, পৃষ্ঠা নং- ১০৯-১১২]
২০ জুন ১৯৭০: একটি বার্তায় ঢাকাস্থ’ মার্কিন কনসাল জেনারেল তাঁর সরকারকে জানান, একটি সাক্ষাৎকারে শেখ মুজিব তাঁকে বলেছেন, দেশের সামরিক ও বেসামরিক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থা দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছে এবং তা বন্ধ না করা হলে ‘আমি স্বাধীনতা ঘোষণা করে গেরিলাযুদ্ধের ডাক দেব। শুধু ভিয়েতনামের মতো কমিউনিস্ট শোষণের ভয়ই প্রধানত আমাকে তা থেকে বিরত রেখেছে।’ (‘I will proclaim independence and call for guerrilla action… It is primarily fear of communiust exploitation of a Vietnam type situation which has kept me patient so long.’)