২১ বছর ধরে স্বামীর কবরের পাশে স্ত্রীর বসবাস

আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০১৭, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


রাজশাহীর বাঘায় ২১ বছর ধরে মৃত স্বামীর কবরের পাশে বসবাস করে আসছেন স্ত্রী আমেনা বেগম। ৭০ বছরের বৃদ্ধা আমেনা বেগম উপজেলার আমরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামীর কবর বর্তমানে খাতের সাধুর মাজার হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের খাতের সাধু ২১ বছর আগে মৃত্যু হয়। তারপর এই গ্রামের তেঁথুলিয়া-বাউসা সড়কের পাশে আমরপুর গ্রামে তার নিজ জমিতে দাফন করা হয়। কবরের জমি ওয়াকফা করে দেয়া হয়েছে। তবে খাতের সাধু আগে থেকে পীর আওলিয়ার ভক্ত ছিলেন। সেই সুবাদে খাতের সাধুর কবরটি সিমেন্ট বালু দিয়ে বাধায় করে কবরের উপর আধাপাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এই ঘরে দীর্ঘ ২১ বছর যাবত স্ত্রী আমেনা বেগম বসবাস করছেন।
খাতের সাধুর কোন ছেলে সন্তান নেই। আছে তার তিন মেয়ে। মেয়েদের স্থানীয় এলাকায় বিয়ে দিয়েছেন। তারা তিন বেলা খাবার দিয়ে যায়। এই খাবার খেয়েই স্বমীর কবরের পাশে তিনি বসবাস করছেন। তবে এই এলাকাটি এখন খাতের সাধুর মোড় নামে পরিচিতি পেয়েছে। এখানে স্থানীয় লোকজন বাজারও বসিয়েছেন। এখানে খাতের সাধুর ভক্তবৃন্দ প্রতি বছর জাকজমকভাবে ওরস পালন করেন। কবরটি লাল কাপড় দিয়ে ঢাকা রয়েছে।
কথা হয় খাতের সাধুর স্ত্রী আমেনা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর সাত বছর রাত-দিন কবরের পাশে থাকতাম। কিন্তু এলাকাবাসী ও স্বামীর ভক্তবৃন্দের অনুরোধে পাশে অবস্থিত মেয়ের বাড়িতে থাকছি। সকালে ফজরের নামাজের সময় এখানে আসি, আর এশার নামাজ আদায় করে মেয়ের বাড়িতে যায়। এভাবে চলছে ১৪ বছর। শেষ জীবনটুকু এভাবে পার করবেন বলে জানান তিনি।
খাতের সাধুর মোড়ের এক ওষুধ ব্যবসায়ী মাহবুর রহমান বলেন, আমার বয়স প্রায় ৩৫ বছর। বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে তাকে কবরের পাশে থাকতে দেখছি। খাতের সাধুর মাজার হিসেবে এখানে প্রতি সপ্তায় দুই দিন বাজার বসে।
এ বিষয়ে বাউসা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান শফিক বলেন, মূল রাস্তার পাশে খাতের সাধুর কবর। এটি এখন মাজার হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এখানেই তিনি বসবাস করছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ