২২ জুলাই

আপডেট: July 22, 2020, 12:46 am

২২ জুলাই ১৯৬৬ : বঙ্গবন্ধু কারান্তরে লিখেছেন, “হঠাৎ দেখি পায়ে ডাণ্ডাবেড়ি দিয়ে একজন হাঁটাচলা করছে। বললাম, ‘ব্যাপার কি?” জিজ্ঞাস করলাম, ‘আপনাকে ডান্ডাবেড়ি দিয়েছে কেন?’ বলল, ‘স্যার কোর্টি যেতে হবে, ৫৩ বছর জেল দিয়েছে, খাটতে হবে ২৫ বৎসর। আরও ১৯৩ টা কেস চলছে। যাকে বলা হয় মুন্সীগঞ্জ ‘গ্যাং কেস’। কতদিন জেল হয় খোদায় জানে!’ … লোকটির নাম ছোটন। সুগঠিত শরীর, ছোটখাটো লোকটা। অটুট স্বাস্থ্য। মনে হয়, বুলেটও ঢুকবে না ওর শরীরে। কারাগারের এই নিষ্ঠুর ইটের ঘরেই জীবনটা দিতে হবে। তবুও আশা করে পঁচিশ বৎসর খেটে বের হতে পারবে। আবার মুক্ত বাতাস, মুক্ত হাওয়ায় বেড়াতে পারবে। ছেলেমেয়ে নিয়ে সংসার করবে। মানুষের আশার শেষ নাই। অনেকে বিশ বৎসর জেল খেটে বের হয়ে যায়। কিন্তু বাইরে যেয়ে বেশিদিন বাঁচে না। এখানে বেশিদিন থাকলে ভিতরে কিছুই থাকে না, শুধু থাকে মানুষের রূপটা।” [সূত্র : কারাগারের রোজনামচা – শেখ মুজিবুর রহমান, পৃষ্ঠা ১৭৫]

২২ জুলাই. ১৯৭১ : বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম আর্টিলারি ব্যাটারির নাম ‘মুজিব ব্যাটারি’ রাখা হয়। এই দিনে ভারতের কোনাবনে ৬টি কামান দিয়ে এই ব্যাটারি গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ‘কে’ ফোর্সের কমান্ডার লে. কর্নেল খালেদ মোশাররফ ভারতীয় বাহিনীর কাছ থেকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়ে ব্যবহৃত ৬টি ৩.৭ প্যাক হাউজার কামান সংগ্রহ করেন। এই ৬ টি কামান দিয়ে ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদর দপ্তর ত্রিপুরার কোনাবনে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর প্রথম আর্টিলারি গঠিত হয়। এই আর্টিলারি ব্যাটারিকেই ‘মুজিব ব্যাটারি’ নামে ডাকা হতো। মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টর এলাকায় ‘কে’ ফোর্স ব্রিগেডের ৪ ও ৯ নং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বিভিন্ন যুদ্ধে কার্যকর ফায়ার সাপোর্ট প্রদান করে। [সূত্র : বঙ্গবন্ধু কোষ – মুনতাসীর মামুন, পৃষ্ঠা- ২৮৬]