২৩ জুলাই

আপডেট: July 23, 2020, 2:29 pm

২৩ জুলাই ১৯৬৬ : কারাগারে বঙ্গবন্ধু তাঁর আব্বার কাছ থেকে একটা চিঠি পান। চিঠি পড়েই তাঁর মধ্যে একটা অস্থিরতা তৈরি হলো। ‘কারাগারের রোজনামচা’য় তিনি লিখলেন, ‘বারবার আব্বা ও মার কথা মনে পড়তে থাকে। মায়ের সাথে কি আবার দেখা হবে? অনেকক্ষণ খবরের কাগজ ও বই নিয়ে থাকলাম কিন্তু মন থেকে কিছুতেই মুছতে পারি না, ভালোও লাগছে না। অনেকক্ষণ ফুলের বাগানেও কাজ করেছি। মনে মনে কবিগুরুর কথাগুলি স্মরণ করে একটু শান্তি পেলাম।
‘বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা-
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।’
জেল খাটতে খাটতে বঙ্গবন্ধু ক্লান্ত। একের পর এক মামলা তাঁর নামে হয়েই যাচ্ছে। এই সংকটকালেও কবিগুরুর কবিতার কথা মনে করছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আর একটা মামলাও আমার জেল আছে আড়াই বৎসর। বক্তৃতা মামলা, হাইকোর্টে পড়ে আছে। কনফার্ম করেছে এই বৎসর খাটতে হবে যদি হাইকোর্ট থেকে মুক্তি না পাই। বুঝতে পারলাম আরো যে ছয় সাতটা বক্তৃতার মামলা আছে সব মামলাই নিচের কোর্টে আমাকে সাজা দিবে। শুধু মনে মনে বললামÑ
বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা-
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।’
তবে তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও ‘কারাগারের রোজনামচা’য় তিনি যেকোনো সংকটে যেভাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বিপদে মোরে রক্ষা করো’ স্মরণ করে, নিজের মধ্যে শক্তি সঞ্চয় করতেন, তাতে বলাই যায় এটি বঙ্গবন্ধুর প্রিয় কবিতা।
২৩ জুলাই ১৯৬৬ : বঙ্গবন্ধু কারাগারে বসে লিখেছেন, “সকালে বারান্দায় বসে কাগজ পড়ছিলাম। একজন কয়েদি দরজায় দাঁড়ায়ে আছে। কি যেন বলতে চায়। …আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কিছু বলতে চাও?’ বয়স বেশি না, ২৫-২৬ হবে, তাই ‘তুমি’ বললাম। বলল, ‘আপনি পূর্ব বাংলার কথা বলেন, আর আমাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করেন, পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও বলে থাকেন। কিন্তু শুধু পশ্চিম পাকিস্তানের নেতারাই দায়ী না, পূর্ব পাকিস্তানিরাও দায়ী আছে।’ আশ্চর্য হয়ে চেয়ে রইলাম তার দিকে। [সূত্র : কারাগারের রোজনামচা – শেখ মুজিবুর রহমান, পৃষ্ঠা ১৭৬]